বল্লরী সেনের কবিতা

শিল কোটার মরসুম
আদিযুবতীর গোড়ালির কাছে অজাগর পানের ডাবর
ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে মরসুমি স্তন্যপায়ীরা
নাকের চাবি কানের লতিতে কু দিয়ে ফঙ্গবেনে বসন্ত নামছে
আমার কন্ঠার হাড় ধরে , লিহাফ পেরিয়ে জানু
পাটাতনের শেষ মাদীশঙ্খের হাঁ এ
যতদূর এগিয়ে যাওয়ার পর আর কেউ
কোনো মরদ ফেরে নি কোনদিন
আর ঠিক এ পর্যন্ত বাউলিয়া কাঁদরের রেকাব স্বর তুলছে
শালের থালায় এঁটো পাত, লাট্টুর মতো পেঁয়াজ , এক ফালি
ধানি মরিচের ঘর নীরব হয়ে চেয়ে থাকে টায়ারের ঘুরন্তমুখে
শবরীর মা যেন শিল কাটানোর ভয়ে
প্রতিটা ভোরবেলা ঘুমের হাঁড়ির তলায় আঙুল চালিয়ে দেখে
কতটা ‘ যুপতি’ হল মেয়ে
বর্শা শেখার ক্লাস
এক
সোনাখড়কে মাছের পেলবতা চক্ চক্ করছে ফলায়
নীবিবন্ধ গামছায় শতাব্দীর শিরা ফাটানোর কাজ
এবার হাতে নিলাম, তাক্ করেছি পাগলা ঝোরার বিল
বুনো কামিনীর মাদক আতর মিশে যাচ্ছে , নুয়ে যাচ্ছে
কালিদহে
গাঙ শালিখের বাসায় রাত্রিকালীন ভামের চোখ জ্বললে
শূলে দেব । নিষাধের তুক্ গাঁজিয়ে উঠবে পৃক্ষভুখার ঘাম
রক্ত থেকে , রোজ সেই শুখা থালায় বাতাসার মেজ সেজ
ক্ষীরপুলি ভেবে আমি আঙুলের মাড়
ভাঙি। আঙুল চেবাই তেষ্টায়
শরীর মটকে দেখি কোথাও তার হাড়ে দুধ বইছে কি না
দুই
গোধূম পুড়িয়ে চ্যাপটা রুটি করছে বনদুর্গারা
তার সঙ্গে খেসাড়ির ডাল সাঁতলে ডুমো আলু
পাতের সবুজ ঢেকে দিচ্ছে আটকৌড়ের দল
মুগ পাতায় লিখতে হবে ছড়া, গলা দেবে
নাচিয়ে বাজিয়েরা
বড়ির খাটের পায়া ধরবে হলুদ গাঁদার মালা
কাসুন্দি আমচুড়ের পাশে সে ও বসেছে, আর বছর
এমনই কোনো দিন যে তার মরা ছাওয়াল কোলে পেয়েছিল
কান্না নেই
শুকনো খট্ খটে
অ
তিন নম্বর বাসা রুইছে মাঠাবুরুর ছা
ইজের কাচতে হয়, কেমন কেমন বাস উঠছে শকরি
শরীরের, নাকের শিকনি ওটা ? শবরের চোখ দিয়ে ডললাম
পেঁয়াজ খোসার পহলা যে পাতলা মাখম , সেইরকমের স্লেট্।
উবু হয়ে কত্তবার
শেকল টেনে দেখি
নখে ঘষটানি খায়
চোখে জল আসে এত মোলাম
‘লালের ডগায় চকের দাগ
সেলেট পেনসিল কাগে খাক্— ‘ এই বললেই দৌড় দৌড়
নীরদাসুন্দরী ইস্কুলে প্রথম ঘন্টা ইস্তক শেকল টেনে দাগ দেখার
গল্প
ক্রমে আরো জোনাকি পোকা, আমঝুঁকি বেগুনের মতো মেয়েরা
গোল হয়ে শুনতে চায় আমাকে
রাতে জিয়োনো বারকোশের পুঁটির মতো কিলবিল্ করছে মেয়ে হরফ
আমাদের অজ্ঞতার শুরু হচ্ছে ঐখানে
যেখানে ৩ নম্বর ঘর রুইছে মাঠাবুরুর ছা