নিরুদ্দেশ সংবাদ
শ্যামলী আচার্য

আলিয়া খাতুন, বয়স ষোলো। গায়ের রঙ ফর্সা। মাঝারি গড়ন। বাড়ি ভগবানগোলা, মুর্শিদাবাদ। গত চব্বিশে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিজের বাড়ি থেকে নিখোঁজ। নিরুদ্দেশ হবার সময় তার পরনে ছিল সবুজ সালোয়ার কামিজ আর সাদা ওড়না। আলিয়ার বাঁ গালে একটি বড় আঁচিল আছে। সন্ধান জানাবার ঠিকানা…

টাইপ করা একগোছা কাগজ দেখে ঝড়ের গতিতে লিখতে লিখতে রুমন কাগজের সঙ্গে ছবিটার দিকে একবার তাকায়। নিষ্পাপ একটি মেয়ে। টানা টানা চোখ। পাসপোর্ট সাইজের ছবিতে কোনওরকমে শুধু তার কিশোরী মুখের আদলটুকুই বোঝা যায়। সাদাকালো ছবি। ঝাপসা। তার মধ্যেও বড়ো দীঘল চোখদুটি নজর কাড়ে। নির্ঘাত বখাটে কোনও ছোকরার পাল্লায় পড়েছে। কাঁচা বয়সের ভুল। প্রেমিকের সঙ্গে নতুন ঘর বাঁধার উন্মাদনা। বাড়িতে মেনে নেয়নি হয়ত। অথবা পাচারের কেসও হতে পারে। বিক্রি হয়ে গেছে নিশ্চই। মুম্বই না দুবাই, কোন অন্ধগলিতে যে ঘুরপাক খাচ্ছে কে জানে! কিছুদিন বাড়ির লোকের থানায় ধর্না। তারপর সংসারের একটা মুখ কমে গেল ভেবে দীর্ঘশ্বাস সরিয়ে চাপা স্বস্তি। মায়ের মন উচাটন। কী জানি, পেটের টানে মা’ও তো ফাঁদে পা দেয়। বাপ-মা-আত্মীয়-পরিজন রক্তের টান– সবকিছুর চেয়ে বড় হয়ে ওঠে খিদে।

দুপুরের এই সময় ঘরটা বেশ তেতে থাকে। জানালার বাইরে অন্য একটা বড়সড় দালান। হাওয়া আসার সব পথ বন্ধ। ফ্যানটা ফুলস্পিডে গরম হাওয়া নিয়ে ঘরের মধ্যেই তোলপাড় করে। রুমন ব্যাগ খুলে ছোট্ট রুমাল হাতে নেয়। পুঁচকে একটা এইটুকু রুমালে যতটুকু হাওয়া খেলানো যায়। মুখ জ্বালা করছে। রোদের হলকার মধ্যেই হেঁটে আসতে হয়েছে অনেকটা। রিকশা পায়নি। বাড়ির ভেতরে ঢুকেও বেশ গরম। তেতেপুড়ে এসে একটু ছায়া-মাখা ঠান্ডা ঘরে বসারও সুযোগ নেই।

দুপুরের দিকে রুমনের কাজের চাপ প্রায় নেই বললেই চলে। ভয়েস ওভার আর্টিস্ট সে। এখানে ক্যাজুয়াল অ্যানাউন্সার। প্রথমে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া মানুষের তালিকা নিয়ে আসে ডিউটি রুম থেকে। তারপর তালিকা মিলিয়ে একের পর এক ছবি দেখা। বর্ণনা লেখা সহজ বাংলায়। তারপর অফ-স্ক্রিনে বসে পরপর পড়ে যাওয়া। কে, কখন, কবে, কোথায়, কীভাবে…।

সুমন নস্কর ওরফে টুবলু। বয়স চৌত্রিশ। তার উচ্চতা, গায়ের রঙ, জামা-কাপড়, বাড়ির ঠিকানা দেখেও খটকা লাগে। এই বয়সে কেউ আবার হারিয়ে যায় নাকি! তখনই একেবারে শেষ লাইনে হারিয়ে যাওয়ার কারণটা জ্বলজ্বল করে। মানসিক ভারসাম্যহীন। দেখেছ কান্ড! আচ্ছা বাড়ির লোক একটু চোখে চোখে রাখতে পারেনি? কোথায় থাকতে পারে সুমন এখন? তার বাড়ির ঠিকানা এন্টালি। সে হারিয়ে গিয়েছে বড়বাজার থেকে। কেন গেল সে বড়বাজার? কে নিয়ে গেল তাকে? কী দরকার ছিল তার নিজের পরিচিত চৌহদ্দি ছেড়ে বেরোনোর? কী হবে এখন বেচারার?

রুমন দেখে আর ভাবে। লেখে আর থমকে থাকে কিছুক্ষণ। এক-একটা ছবি, নাম, ঠিকানা, সেই ছবিতে না বুঝতে পারা গায়ের রঙ, উচ্চতা, গড়ন আর জন্মদাগ কল্পনা করে নেয়। পুলিস কেস ডায়েরির তলায় কখনও থাকে সই, কখনও থাকে টিপছাপ। বাড়ির লোক সই করেনি মানে সই করতে পারেনি। তার মানেই নিরক্ষর পরিবার। গরিব। তাদের কাছে ঘরের কেউ একজন হারিয়ে যাওয়া মানে শোকে আকুল হয়ে আছাড়ি-পিছাড়ি দুঃখ নয়। সে তো বিলাসিতা। বরং অনেকদিনের গুমরে বেড়ানো চাপা কান্না। হা-হুতাশ। বাসি ভাতে আধখানা কাঁচা লংকা মেখে তার ঝাঁজে চোখে যতটুকু জল আসে, ততটুকুই। খেতে খেতেই হালকা বাঁ হাতে সেটুকু আলগোছে মুছে নেওয়া। তারপর সব ঠিকঠাক। যে কে সেই।

পিজি হসপিটাল থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মধু সাহার বর্ণনা লিখতে লিখতে আজ একটু আনমনা লাগে। চট করে এক ফাঁকে মোবাইলের মধ্যে ঘড়ি দেখে রুমন। রুদ্রর স্কুল থেকে ফেরার সময় হয়ে গেল। পুলকারে ঠিকঠাক উঠেছে তো? যা দুরন্ত। ছ’বছরের ছেলে সর্বক্ষণ ছটফট করছে। বাড়ি পৌঁছনোর পরে মমতাদি ফোন করে জানাবে। ততক্ষণ অবধি উৎকণ্ঠা। মাঝে মাঝে রুমনের খুব আতঙ্ক হয়। আচ্ছা, এই যে রোজ এত লোক হারিয়ে যাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে ওরা? সবাই কি স্বেচ্ছায় চলে যান? পৌঁছতে পারেন প্রার্থিত ঠিকানায়? না কি পথেঘাটে বেওয়ারিশ ভিখিরির মতো…। রুমনের কেবল উদ্ভট সব চিন্তা মাথায় ভিড় করে। মাথা ঝাঁ ঝাঁ করছে। সব কাজ গণ্ডগোল হয়ে যায়। এই হল রুমনের সমস্যা। যে কোনও কিছু নিয়ে বড্ড বেশি ভেবে ফেলে ও। আর ওর বর মিতাস ভীষণ রেগে যায়।

এই সব সিলি থিং নিয়ে এত ভেবে ভেবে মাথা গরম করো কেন রুম? কাজের জায়গায় যাবে, কাজ করবে, চলে আসবে। এইসব হ্যাং ওভার নিয়ে ঘুরে বেড়াও কেন? তোমার নিজের মাথা খারাপ, আমাদেরও বিরক্ত করছ। ছেলেটাকেও তোমার মতো বানিও না প্লিজ।

মিতাসের প্রতিটি কথায় অকাট্য যুক্তি। বড্ড ধারালো। কিন্তু রুমন তো এইরকমই। বোকার মতো এটাসেটা কল্পনা করে ফেলে। ও নিজেকে বদলাবে কেমন করে?

তবু চেষ্টা করে। আপ্রাণ চেষ্টা কুড়িয়েবাড়িয়ে জড়ো করে ভাবনাগুলোকে হালকা করে একটা ফুঁ দেয় রুমন। হালকা রোঁয়ার মতো সেগুলো খানিক এদিক-সেদিক ভেসে বেড়াক। ততক্ষণ কাজে মন দেওয়া। দুটো বেজে গেল এর মধ্যেই। একটু পরেই স্টুডিওতে ছুটতে হবে। ছবির সঙ্গে লেখা মেলানো বাকি। পরপর সাতটা লোকের বর্ণনা। কোথা থেকে কীভাবে সাতটা লোক বেমালুম হারিয়ে গেল।

সাত নম্বরের নিরুদ্দেশ লিখতে গিয়েই প্রচন্ড হোঁচট খায় রুমন। ইংরেজিতে লেখা রয়েছে, নাম জিষ্ণু রায়। বয়স একত্রিশ। বাড়ির ঠিকানা টালিগঞ্জ, আজাদগড়। রুমনের হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যায় যেন। নাম-ঠিকানা-বয়স সব মিলে যাচ্ছে না! হুবহু। কিন্তু ছবি? চোখ সরিয়ে সাদা-কালো ছবিটার দিকে কিছুতেই তাকাতে পারছে না রুমন।

– এই দেখ রুমনি, চিনতে পারছিস? তাকা আমার দিকে… আমি জিষ্ণু। আমাদের আজাদগড়ের ওই বাড়িটা মনে পড়ছে না তোর? গিয়েছিলিস তো কতবার! সেই যে রে… একটা ব্লাইণ্ড লেন। বড় রাস্তা থেকে আমাদের কানাগলিতে ঢুকলেই সার দিয়ে দু’পাশে ঝাঁকড়া সব গাছ। রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, অমলতাস, জারুল, শিরীষ… পরপর সাজানো। পুরো গলিপথে রাশি রাশি ফুল ছড়িয়ে থাকত। চৈত্রের দুপুরে তোর কলেজফেরত কলিংবেল বাজলেই বাবা পড়ার ঘর থেকে ঠিক গেয়ে উঠবে, ঝরা ফুলদলে কে অতিথি… বাবা ঠিক বুঝতে পারত তুই এসেছিস। আমি জানি, আমার চেয়েও বাবা তোকে বেশি ভালবাসত। আমি দেখেছি বরাবর। বাছা বাছা গান গাইত। কবিতার কোটেশন। তোকে পড়তে দেবে বলে অনেক বই খুঁজেপেতে রাখত। তোর মুখে তখন অমলতাসের আভা। আমিও দেখেছি, তুইও বোধহয় আমার চেয়ে আমার বাবাকেই বেশি… অনেকটা সময় ধরে গল্প চলত তোদের। বরাবর দেখেছি, তুই এলেই বাবা ছটফটে, প্রাণবন্ত। আমাকে তো তোরা কেউ তখন পাত্তাই দিতিস না।

– জিষ্ণু… তুই… তুই এখানে, মানে আমি তো তোকে কেমন আবছা হয়ে যাওয়া একটা পর্দার আড়ালে কোথায় কবে যেন ফেলে চলে এলাম, তাই না? কতদিন… কতদিন আগের কথা বল তো… আগের জন্মের?

– না না, রুমনি। এইসব বলিস না। আমিও তো কোনওদিন তোকে বলতেই পারিনি আমি তোকেই ভালবাসি, থাকতে চাই তোর সঙ্গেই, আসলে আমি তো কোনওদিনই তেমন গুছিয়েগাছিয়ে কথা বলতে পারিনা। আর তুইও তো কেমন চুপচাপ, শান্ত। বরাবর হাসিমুখ নিয়ে এসে ঢুকতিস। আমাদের মা-হারা একলা বাউন্ডুলে বাড়িটায় তুই ওই রোদেলা দুপুরের মধ্যে এসে নিজেই শরবত বানাতিস। মাঝেমধ্যে কাগজিলেবু থাকত তোর ঝোলা সাইডব্যাগটায়। নুন-চিনি মেশানো কাগজিলেবুর গন্ধ দেওয়া শরবত। আমরা তিনজনে মিলে তারিয়ে তারিয়ে খেতাম। বাবাও খেত। একটিবারও বাবা বলত না, রোদ থেকে তেতেপুড়ে এলে। আগে বোসো একটু। বাবা যেন তোর জন্য অপেক্ষা করত চাতক পাখির মতো।

– তোদের ফ্রিজে কখনও একটুও ঠান্ডা জল থাকত না।

– হ্যাঁ রে। আসলে মনে করে রাখা হত না। কে রাখবে বল? ফুরিয়ে গেলেই সব ফাঁকা। আর তুই তো জানিয়ে আসতিস না। হঠাৎ …

– কিন্তু কাকু নিয়ম করে ঠান্ডা জল চাইতেন রোজ। প্রতিবার বলতেন, দেখো ফ্রিজে আছে বোধহয়। পরশুদিন দেখেছিলাম যেন… একটা বোতল ছিল… দেখো, দেখলেই পেয়ে যাবে।

– বাবা তো ওইরকমই। চিরকাল আপনভোলা। পড়ার টেবিলে স্তূপাকৃতি বই, লেখার কাগজ। দিস্তা দিস্তা কাগজে শুধু ধুলোর গন্ধ। ফাউন্টেন পেন থেকে কালি চুঁইয়ে সব ক’টা আঙুলে মাখামাখি।

– মনে আছে রে। কাকুর খদ্দরের হাফ-হাতা সব ক’টা পাঞ্জাবিতে কালির ছোপ থাকত। বুক পকেটে, কোলের কাছে। নীল কালির ছিটে ছিটে দাগ। দেখেই বোঝা যেত, ভাল করে কাচা হয়নি। কুঁচকোনো, আধময়লা। বড্ড মন খারাপ হত।

– কে আর করবে বল? তুই তো প্রায়ই এসে বাবার টেবিল গোছাতিস। অথচ আমার বাবা কোনওদিন আমাকে পর্যন্ত তার টেবিলে হাত দিতে দিত না। বকত না, কিন্তু বারণ করত। বলত, হাত দেবে না। কাজের জিনিস সব। হারিয়ে যাবে। আচ্ছা, তুইই বল, ওই অগোছালোর মধ্যে আর নতুন করে কী হারাবে?

– না রে জিষ্ণু, ওই অগোছালোটাই একটা সিস্টেম। অনেক পরে বুঝেছি জানিস, ডিসঅর্ডারটাই ওখানে অর্ডার। ফ্রয়েডের বইয়ের ভেতর চিরুনি দিয়ে পেজমার্ক, কলমের ঢাকনা আটকানো বঙ্কিম রচনাবলীতে, বাড়ির ইলেকট্রিক বিল সিলভিয়া প্লাথের বইয়ের মধ্যে। ওইভাবেই মনে রাখা। হাত বাড়ালেই চট করে পাওয়া যায় যাতে… শিল্পী মানুষ তো। আপনভোলা। তোর-আমার সাধারণ সিস্টেমে এঁরা কেউ ফিট করেন না।

– তা’ হবে। মনে আছে, তোর ধানী সবুজ ওড়নায় একদিন অনেকটা চা পড়ে গেল। বাসি চা। একগাদা বইয়ের আড়ালে আধকাপ না-খাওয়া লিকার চা পড়েছিল। কবেকার কে জানে। তুইও খেয়াল করিসনি। বই টানতে গিয়ে কাপের চা উলটে পুরো তোর গায়ে। আমাদের পার্ট ওয়ান পরীক্ষা তখন শেষ হয়েছে সদ্য। তার পরের দিনই বিকেলে তুই এলি…

– হ্যাঁ হ্যাঁ মনে আছে। বইটা ছিল … না না, একটা নয়, দুটো বই ছিল পরপর, এঙ্গেলসের। ডায়ালেকটিকস অফ নেচার আর পেজেন্ট ওয়ার ইন জার্মানি। আমি একটাও পড়িনি আগে। ওগুলো দেখে টানতে গিয়েই পেছনে রাখা কাপটা… ইস। যা তা ব্যাপার। পুরনো চায়ের দাগ। আর ওঠেনি। সুতির ওড়নাটা নষ্ট হয়ে গেল। কাকু কিন্তু খুব অপ্রস্তুত হয়েছিলেন সেদিন। বার বার বলছিলেন, এই দেখো রুমনি, আমার বেভুলো মন… কোথায় কী রাখি। তুমি কেন এসব ঘাঁটতে যাও। দেখো তো তোমার এত সুন্দর ওড়নাটা গেল নষ্ট হয়ে। কাকু অনেকবার করে বলছিলেন সেদিন। যতক্ষণ ছিলাম ততক্ষণ। খুব অপরাধী গলায় বলছিলেন। আমারও খারাপ লাগছিল।

– অপরাধী গলায়? আমার বাবার অপরাধবোধ? রুম, তোর মনে হয় ওটা অপরাধবোধ? স্যরি রে। আমার মনে হয় না। মনে হয়নি কখনও।

– জিষ্ণু, তুই এভাবে কথা বলছিস কেন? এত শক্ত গলায়?

– এটাই আমার এখনকার গলা রুম। এটাই তো আমি।

– কিন্তু, তোকে তো বরাবর বড্ড নরম… জিষ্ণু, এই তো এতক্ষণ যে সেই মায়াবী গলায় কথা বলছিলি…

– না রে রুমনি। আমি না। আমাকে দেখিসনি তুই। আমার দিকে তাকাসনি কখনও। আমার কথা ভাবিসনি। আমার সঙ্গে ক’টা কথাই বা বলতিস তুই?

– এসব কেন বলছিস জিষ্ণু? আমি… আমি তোর ছেলেবেলার বন্ধু, তোর ক্লাসমেট… সেই কোন ছোটবেলার ইস্কুল থেকে কলেজ অবধি। তোর মনে পড়ে না, কাকীমা চলে যাওয়ার পরে আমার মা তোকে ডেকে বলেছিলেন, জিষ্ণু আজ থেকে এটাও তোমার বাড়ি। যখন দরকার চলে আসবে, যা খেতে ইচ্ছে করবে আমাকে বলবে। বলেনি? বল? ভুলে গেলি সব?

– বলেছে তো। কিন্তু আমি কি গেছি কখনও? ভেবে দেখেছিস কখনও? গেছি? তোদের বাড়িতে? তুইই বল না… কখন যাব? মা চলে গেল। দুঃখ করার অঢেল ফুরসত। হাঁ-করা সংসার। অভাব অনটন কাকে বলে একটু একটু করে চিনতে পারছি। বাবা আরও উদাসীন। হাবে-ভাবে প্রায়ই বুঝিয়ে দিত, আমি বাড়তি, আমি ফালতু। যেন মায়ের সঙ্গে আমারও …। তখন মনে হত তোর কথা, তোদের কথা। দুটো বাসস্টপ পেরিয়ে ‘কিরণ টেলার্স’-এর পাশের গলি। গলিতে ঢুকে বাঁদিকে পাঁচ নম্বর বাড়ি। বাইরের গেটে মাধবীলতা। খুব ছেলেবেলায় একবার কি দু’বার গিয়েছিলাম। বড়বেলায় তোর সঙ্গেই একবার। মনে আছে। আমি যাবার আগেই তো তুই চলে আসতিস। নিয়ম করে চলে আসতিস। ব্যাগে টিফিনবক্স। তাতে টুকটাক খাবার। থোড়ঘন্ট, আলুপোস্ত, কাঁচকলার কোপ্তা। এনেই বাবাকে বলতিস, মা পাঠিয়েছে কাকু। খাবেন তো?

– তুই… তুই এসব কি বলছিস রে? মা’ই তো পাঠাত আমাকে। বলত, দিয়ে আয়। কে ওদের করে দেবে? আহা, মা-মরা ছেলেটা! আমি তো তোদের দু’জনের কথা ভেবেই… একা কাকুর জন্য তো নয়, তোর জন্যই তো পাঠাত।

– হ্যাঁ। ঠিক। তার মানে, তুই নিয়মিত আসছিস। তুই খাবারদাবার ভরে নিয়ে আসছিস। বা কখনও খালি হাতেও আসছিস। কেন আসছিস? আমরা কেমন আছি দেখতে। তাই তো? মানে, আমি নয় আমরা। বন্ধু জিষ্ণু একা নয়, জিষ্ণু আর তার বাবা।

– অদ্ভূত কথা। বাড়িতে তোরা দুটি মাত্র প্রাণী। কাকিমা হঠাৎ ওভাবে চলে না গেলে…

– হ্যাঁ। মা চলে না গেলে আমি বুঝতেই পারতাম না বাবা মা’কে একদিনের জন্যেও মিস করে না। বাবা ভাবেও না মায়ের কথা। মা যেন কোনও এনটিটি নয়। একটা অবাস্তব কেউ। যে ছিল, কিন্তু না থাকলেও চলত। আর যে চলে গেছে বলেই রুমনি এসেছে। রুমনি আসে। রুমনি জায়গা ভরাট করতে আসে। রুমনি অভাববোধ মেটাতে আসে। খোঁজখবর নিতে আসে।

– জিষ্ণু, তোর কথাগুলো বড্ড বোকা বোকা শোনাচ্ছে। শুধু কি তুই, শুধু কি তোর বাবা, তাদের জন্যই কি যেতাম? আর তোদের বাড়ির বইগুলো? ওগুলোও তো টানত আমায়। কাকুর টেবিলের বইগুলো কেমন কথা বলত, সাড়া দিত। আমি হাত দিলেই আমার আঙুলগুলো কেমন শিরশির করে উঠত। কতদিন তো মা’কে না বলেই চলে গেছি।

– হবে হয়ত। তুই কেন আসতিস, আমার জন্য, না বাবার জন্য, না বইয়ের জন্য, না কি তোর মা তোকে পাঠাত বলে… জানি না আমি। শুধু জানতাম, বাবার অধিকারবোধ ছিল প্রবল। ওই বইগুলোর ওপর। তোর ওপর। কখনও আমার সামনে প্রকাশ করত না। কিন্তু বাবা সবসময় মনে মনে চাইত, তুই এসে বাবার টেবিল গোছাবি। বাবার কাচা জামা ভাঁজ করে আলনায় রাখবি। সব বইয়ের তাক ঘেঁটে দেখবি কোথায় কী কী বই আছে। জিগ্যেস করবি, আরে এই তো অ্যারিস্টটলের পোয়েটিকস। আমি তো পড়িইনি এটা…। বুঝিয়ে দেবেন আমাকে একটু সহজ করে? বাবা তোকে বোঝাবে, তুই মোড়ায় বসে ঘাড় উঁচু করে শুনবি। শুনেই যাবি। তোর ঘাড়ের কাছ থেকে লাল আঁচিলের পাশ দিয়ে একটা কোঁকড়ানো চুলের কুচি পাশের টেবিল ফ্যানের হাওয়ায় মাঝে মাঝে অবাধ্য হয়ে উঠবে। তুই আনমনে হাত দিয়ে সরাবি, আর বাবার চোখের দিকে অপলক চেয়ে চেয়ে শুনবি।

– তুমি এমন করে বলছিস কেন জিষ্ণু? সত্যিই তো তোদের বাড়িতে কত্ত বই! এখনও মনে আছে আমার। দেওয়ালজোড়া বড় বড় তাক, কাঠের শোকেসে, স্টিলের র‍্যাকে, শুধু বই আর বই। ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য, কবিতা। উপন্যাস, গল্প— ক্লাসিক থেকে সাম্প্রতিক, আধুনিক থেকে উত্তর-আধুনিক, যে কোনও বিষয়… আমার ঘোর লেগে যেত জানিস? আমি নামেই আর্টসের স্টুডেন্ট। তোর মতো ভাল ছাত্র তো ছিলাম না। তুই কত জানতিস। ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি। কলেজ লাইব্রেরিতে বসে রেফারেন্স বই খুলে টুকে যাওয়া আর কাকুর কাছে বসে বসে শোনা– কত ফারাক! তুই বুঝবি না জিষ্ণু। এই অমৃতের স্বাদ তো তুই তোর জন্ম থেকে পেয়ে আসছিস। বাড়িতেই সব বই, বাড়িতেই কাকুর মতো একজন পণ্ডিত মানুষ– তোর তো সবটাই হাতের নাগালে… আমি তো যেতাম কাঙালের মতো…

– হুঃ। অমৃতের স্বাদ। কাঙালের মতো। ভালই বলেছিস। ছেলেবেলা থেকেই তো দেখছি। দেখেছি। বাবা পড়ার টেবিলে। ঘুম থেকে উঠেও তাই। শোবার সময়ও তাই। পন্ডিত মানুষ তো। উদাসীন। বাজার-হাট, দোকান-পাট, গেলেও হয়, না গেলেও হয়। বেলা বাড়লে প্রেসে যায়। কীসব করে। রাতে ফেরে। মায়ের ভোরবেলার স্কুল। রাত থাকতে উঠে রান্না। খাবার গুছনো। ছুটে ছুটে সেই কতদূরের স্কুল। সাড়ে এগারোটা-বারোটায় ফিরত। আমার সঙ্গে দেখাই তো হত না। ছেলেবেলা থেকেই একা একা স্নান করে খেয়ে স্কুল যেতাম। তরুমাসি ভাত বেড়ে রাখত। আমার খাওয়া হলে ঘর ঝাঁট দিত, বাসন মাজত। ও’ই তরুমাসিই তখন আমার যা একটু খেয়াল রাখত।

– জানি। মনে আছে একটু একটু। ইস্কুলে তখন অতশত বুঝতে পারতাম না। শুধু মাঝেমধ্যে দেখতাম তোর কুঁচকোনো জামা। প্যান্টে ঝোলের দাগ। এলোমেলো চুল। আমরা সবাই পরিপাটি হয়ে ইস্কুলে এসেছি। তোর প্রায়ই দেরি। ক্লাসে লেট হয়ে প্রসূনস্যারের বকুনি খাস। চুপ করে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকিস।

– ওই বকুনি আমায় বিঁধত না। কিন্তু টিফিনের সময় বড় কান্না পেত। আমার পকেটে শুধুই পয়সা। মায়ের গুছিয়ে দেওয়া টিফিন আমার কপালে জোটেনি। ছুটিছাটায় মা উসুল করে দিত। তবু, আমার গোটা স্কুলবেলাটা কেমন মা-হারা হয়েই কেটে গেল। ভাবতাম, বড় হয়ে গেলে মা’কে নিশ্চই কাছে পাব। সে’ও আর হল কই।

– কাকিমা কাউকে কিচ্ছু জানতেই দেননি। অথচ কতদিন ধরে ভুগছিলেন… চুপচাপ…

– বাবার ওপর অভিমানে। প্রচন্ড অভিমান। আসলে মায়ের পৃথিবীটাই তো ছিল বাবাকে ঘিরে। বাবা কখন কী খাবে, বাবা কী জামা পরবে, কখন ফিরবে, কোথায় বসবে, কোথায় শোবে, তার পড়ার টেবিল, শোবার বিছানা, বইয়ের তাক সবসময় পরিপাটি। মা হাতের নাগালে রেডি করে রাখত সবকিছু। অথচ বাবা ফিরেও দেখত না। গ্রাহ্যই করত না। যেন এই সবকিছুই তার প্রাপ্য। যেন এই সবকিছু চারপাশে এইভাবেই থাকার কথা ছিল। বাবার তো তাকে আলাদা করে কোনও স্বীকৃতি দেওয়ার কথা নয়। তার একজন স্ত্রী আর যেন হঠাৎ ফোকটে পেয়ে যাওয়া একটি সন্তান তার জীবনে রয়েছে, ওই পর্যন্ত। তাদের জন্য আলাদা কোনও দায়-দায়িত্ব-কর্তব্য তার নেই। কোনওদিন ছিলও না। মা’ও কিচ্ছু বলেনি। কোনও চাওয়া-পাওয়া নিয়ে রাগ ঝগড়া অনুযোগ কিচ্ছু দেখিনি। একতরফা ভালবাসাও তো কোথাও শেষ হয়।

– আমার বড় মায়া হত জানিস। ছেলেবেলায় তো তোদের বাড়িতে যাইনি কখনও। কাকিমাকেও খুব অল্প দেখেছি ছেলেবেলায়। খুব একটা আসতেন না ইস্কুলে। কিন্তু হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষার ঠিক আগে ইংলিশ কোচিং ক্লাসে রত্না খবর দিল, জিষ্ণুর মা আর নেই… আমি ছুটতে ছুটতে বাড়ি এসে মা’কে বললাম। আমার মায়ের সে কি মনখারাপ। আহা রে! এত ছোটবেলাতেই ওর মা চলে গেলেন! ওর মা’কে চিনতাম তো। একদিন জিষ্ণুকে আসতে বলিস…

– বড় হয়ে ওই একদিনই কিন্তু আমি গিয়েছিলাম। তোদের বাড়িতে। নেতাজিনগরে ডি এম স্যারের কোচিং ক্লাস থেকে বেরিয়ে তুই বললি, আমার মা তোকে যেতে বলেছে।

– তুই তক্ষুনি চলে এলি।

– মায়ের কথা মনে পড়ছিল খুব। কিন্তু ওই একদিনই তোর সঙ্গে গেছি। দুটো স্টপ পেরিয়ে। তোর পাশে হেঁটে হেঁটে। গলির মধ্যে মাধবীলতায় দুধে-আলতা রঙ ধরেছে। তারপর থেকে তুই আসতিস। নোটস নিয়ে। খাবার নিয়ে। এমনি এমনি আসতিস। পরীক্ষার পরে তো আরও বেশি করে…

– কাকু আমাকে হিস্ট্রি অনার্স নিতে বলেছিলেন।

– আমাকে বলেননি। কিন্তু, তুই হিস্ট্রির ফর্ম তুলেছিস বলে আমিও ওই কলেজেই গেলাম। অথচ…

– কি অথচ জিষ্ণু?

– তুই তো আমার জন্য কোনওদিন কলেজে আসিসনি। তুই তো আমার জন্য দাঁড়াসনি কোথাও কোনওদিন। তুই আমার সঙ্গেও আসতিস না। আমাক তুই বলতিস না যে, আমাদের বাড়িতে আসছিস। শেষ পিরিয়ডে পল সায়েন্সের জিবি’র ক্লাসে তোকে ফার্স্ট বেঞ্চে না দেখলেই বুঝতাম, তুই আমাদের বাড়িতে চলে গেছিস। আমার বাবার কাছে। আমার ভেতরটা কেমন পাগল-পাগল করত। ছুট্টে বাড়ি চলে যেতে ইচ্ছে করত। কোনওরকমে ক্লাস শেষ হওয়ার অপেক্ষা। গলির মোড় থেকেই দেখতাম আমাদের সবুজ কাঠের দরজা আধভেজানো। কোলাপসিবল গেট খোলা। সাদা-হলুদ ডোরাকাটা পর্দা উড়ছে। ভেতরে রুমনির দুটি চোখ আমার বাবার মুখের দিকে, অপলক।

– জিষ্ণু, তুই…

– বিশ্বাস কর, রুমনি, আমার তক্ষুনি ইচ্ছে করত এক ধাক্কায় চেয়ার থেকে ফেলে দিই ওই লোকটাকে। ঘাড় ধরে বের করে দিই ঘর থেকে। যে লোকটা আমাকে মানুষ বলেই গণ্য করে না। আমার মায়ের শেষযাত্রা থেকে ফিরেও যে উদাসীন। একদিনের জন্যেও আমার পিঠে হাত রাখেনি লোকটা। ওর জন্য আমার মা চলে গেছে। ওর জন্য রুমনিও…।

– তুই তো কোনওদিন একবারের জন্যেও বলিসনি জিষ্ণু। না বললে আমি কেমন করে জানব বল?

– হ্যাঁ। বলা হয়নি। তুই যখন আমাদের বাড়িতে আসা একেবারে বন্ধ করে দিলি, তখনও বলা হয়নি। ভেবেছিলাম। কিন্তু বলা হয়নি।

– ফাইনাল পরীক্ষা এগিয়ে আসছিল। আর যেতাম না। পড়তাম বাড়িতে।

– বাজে কথা। এর আগে অনেক পরীক্ষার আগে-পরে সমানতালে তুই আসতিস। প্রায়ই আসতিস।

– না। ওটা গ্র্যাজুয়েশনের ফাইনাল পরীক্ষা ছিল রে। তুই তো জানিস, আমি তো অত ভাল স্টুডেন্ট ছিলাম না। তাই তোদের ওদিকে যাওয়া কমিয়ে দিলাম।

– কমিয়ে নয়। মিথ্যে বলছিস। তুই হঠাৎ আসা বন্ধ করলি। আর পরীক্ষার হলে দেখা হল যখন, পাশ কাটিয়ে চলে গেলি।

– কি জানি। আমার মনে নেই।

– বাজে কথা। সব মনে আছে তোর। কবে, কোথায়, কেন, কখন… সব।

– কীসব বাজে বকছিস!

– একদম বাজে বকছি না। শুধু আর একবার মনে করিয়ে দিচ্ছি।

– আমার কথা তুই এত জোর দিয়ে বলছিস কি করে? আশ্চর্য! আমি কেন যাইনি, আমি কেন যেতাম, সব তুই একা জেনে বসে আছিস? অদ্ভূত তো!

– এ কি! তুই এত উত্তেজিত হচ্ছিস কেন রুমনি? তোর নাকের গোড়াটা লাল টকটক করছে, কানের পাশে অবাধ্য চুলগুলো যে কোনও মুহূর্তে তোর রাগী হাতের ঝাপটা খাবে, গলার নীল শিরাদুটো অল্প ফুলে উঠেছে, তোর পাতলা ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে দ্রুত নিঃশ্বাসের শব্দ আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি… ঠিক সেইদিনের মতো… একদম সেইদিন…

– কোনদিন?

– যেদিন শেষ শ্রাবণের বাদলা আকাশটা সকাল থেকেই শ্লেট রঙের। যেদিন আমার কলেজে যেতে একদম ইচ্ছে করছিল না। যেদিন কলেজে গিয়েই দেখলাম তোর জলচুড়ি শাড়িতে ধূপছায়া রঙ। যেদিন তোকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটের ভেতর ঠোঁট ডুবিয়ে আমার নিজের মনের কথা বলতে ইচ্ছে করছিল, ঠিক সেইদিন। সব মনে আছে আমার। স্পষ্ট। যেদিন ফিরে এসে দেখলাম ঘরের মধ্যে আবছা অন্ধকার। টানা পর্দার ওধারে আলো-আঁধারিতে দুটো চেনা শরীর। ভীষণ চেনা শরীর। শরীরদুটো মিলেমিশে একাকার। একটা ধূপছায়া রঙের শাড়ির আঁচল শরীর থেকে লুটিয়ে সাপের মতো কিলবিল করছে মেঝেতে। তর্জনী আর মধ্যমায় নীল কালিতে মাখামাখি একটা চেনা হাতের আলতো মুঠোয় ধরা রয়েছে ঘাড়ের কাছে লাল আঁচিলের পাশ দিয়ে নেমে যাওয়া লম্বা কালো মোটা বিনুনি। আর একটা হাত হয়ত সেইসময় খুঁজেছিল ঝিনুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দুর্লভ মুক্তো। তার দুটো হাতের অবিশ্রান্ত চলন আর অনেক জলের শব্দ। পাহাড় ভেঙে প্রথম জলপ্রপাত যেন। তোর মুখের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ের ঝাপট টের পেয়েছি পর্দার পাশে দাঁড়িয়ে। তোর দুটো হাত শক্ত করে যাকে আঁকড়ে ধরেছিল সে জিষ্ণু রায় হতেই পারত। কিন্তু সে তো জিষ্ণু রায়ের বাবা। আমার বাবা।

সাউন্ড চেক করার জন্য কানে এবার হেডফোন পরে নিল রুমনি। সামনের মাইক্রোফোনে শব্দের ব্যালান্স ঠিকঠাক হওয়ার আগে একবার গলাখাঁকারি দিয়ে গলাটা পরিষ্কার করে নেয়। সরাসরি সম্প্রচার। লাইভ টেলিকাস্টে হোঁচট খেলে চলবে না। একঢোঁক জল পেলে ভাল হত। থাক।

এখন নিরুদ্দেশ সংবাদ। টেলিভিশনের স্ক্রিনে জিষ্ণু রায়ের সাদা-কালো ছবি। অচেনা মুখ। ধূসর। যারা বরাবর হারিয়ে যায়।

4 Comments

  • Pushpita Samajdar

    Reply November 2, 2020 |

    বাহ আর একটা সত্ সাহসী লেখা ।

  • ভজন দত্ত

    Reply November 2, 2020 |

    নিরুদ্দেশ থেকে হারানো প্রাপ্তি, খুব ভালো লাগলো শ্যামলী।

  • ঈশিতা ঘোষ নন্দী

    Reply November 7, 2020 |

    জটিল সম্পর্কের অসাধারণ বুনন

  • Rana Paul

    Reply December 7, 2020 |

    ভীষণ ভালো একটি গল্প পড়লাম। আপনার গদ্য এত সাবলীল আর বাস্তব। আরো লেখা পড়তে চাই। শুভেচ্ছা।

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...