তিনটি কবিতা
সমরেন্দ্র বিশ্বাস

কৃষিজীবির মেঘ ও মেমোরি

সংকেতের দীর্ঘতম ক্লাউডের বাইরে

কৃষিজীবি লোকটি শুধু মেঘকে চেনে।

সে কম্পিউটর, ইন্টারনেট চেনে না।

কয়েক একর জমিতে সে তার মেমোরিকে আটকে রাখে

আকাশের মেঘ আর বর্ষার ক্লাউডে।

সকাল-সন্ধ্যার বীজঘর থেকে

সে উদ্ধার করে তার ধান ও গমের ওয়ার্ড ফাইল,

মহাজনদের থেকে উদ্ধার করে ফোল্ডারের লুপ্তপ্রায় সফটওয়ার –

তার সামনের কী-বোর্ডে

নিজের জীবনের ভাঙ্গা কাট-আউট ইমেজ,

কম্পিউটরে ভয়েসহীন বিপন্নতা,

অনবরতই শুধু কাঁপা কাঁপা স্ক্রিন!

কৃষিজীবি লোকটির সামনের দিগন্ত জুড়ে পড়ে থাকে

ঝাকঝাক পঙ্গপাল, ফাঁসের দড়ি আর

স্যানিটাইজারবিহীন বছরের বিক্ষিপ্ত প্রোগ্রামিং!

অন্ধ কামরা, লকডাউনের চিঠি

এরোপ্লেনের জানালাটা খোল হে,

ল্যান্ডস্কেপ দেশটার জন্যে কিছু করি।

উড়ে যাচ্ছে আকাশের অন্ধ কামরাগুলো

মেঘ থেকে উড়ে আসছে ছেঁড়া চপ্পল;

হোমোস্যাপিয়েন জনতা – সামলে চলো!

যারা রোজগারে বেরিয়েছিলো

তারা এখন রেলিং-ভাঙা সেতুর নীচে।

মাটির উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে

উড়ন্ত আকাশযানের জানালা, অন্ধ কাঁচ!

মহাকাশযানের নিহত কক্ষটা আজকাল

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত তৈরীর কারখানা!

আকাশ থেকে নেমে আসছে চিঠি!

নীলডাউন করে বসিয়ে রাখা লকডাউন,

বুঝলে হে, আজ থেকে তোমার টানা সাতদিন কানমলা।

ছেঁড়া চপ্পলেরা নেমে আসছে আকাশ থেকে-

কোন প্রশাসনিক ভরসাই ধুয়ে দিতে পারছে না

ভাইরাসের জীবনকাল!

তবুও মাঝে মাঝেই সুদর্শন ভেসে আসছে আওয়াজ –

এরোপ্লেনের জানালাটা খোল হে,

ল্যান্ডস্কেপ দেশটার জন্যে কিছু করি।

হিসেবের খাতা

যাত্রাপথের ব্যস্ততাতেও নিয়মিত লেজার লিখতাম

লিখতাম ডেবিট ও ক্রেডিট।

আজ যখন ফাইন্যাল হিসেব করবো

তখন দেখছি

একটা লেজারও খুঁজে পাচ্ছি না।

তোমাদের কোন ঋণই নেই আমার কাছে –

বরং আমার এই পোষাক, এই শরীর, পায়ের নীচের একটু মাটি

রেখে যাচ্ছি তোমাদের কাছে,

শুভেচ্ছা রইলো,

এসব ফেরৎ নিতে

আমি আর কখনোই এখানে আসবো না!

1 Comment

  • UTTAM BISWAS

    Reply November 2, 2020 |

    অসামান্য!

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...