পীযূষকান্তি বিশ্বাসের দুটি কবিতা

যমুনা
সেসব কথা থাক, এই যাপনবৃত্তান্ত তুলে রাখি প্রবাহনিশ্চিতে, অক্ষৌহিনির বিপুলে মিলিয়ে যেতে থাক যন্ত্রনার ঘনকৃষ্ণনাদ, স্তিমিত হোক তপনের উদ্ধত রৌদ্ররস, ধুয়ে যাক মলিনতার আকন্ঠ তরল, যখন এই শহর, এই বয়ে যাওয়ার নামে এই স্বল্পস্রোতা নদীটির নাম রেখেছে যমুনা ।
আমি এই জলবরজের মুলুকরেখায় রেখে যাবো আমার উদ্যত চরণ , তার দেহলিজ ছুঁয়ে যাবো , পার করে যাবো জাহানপানহের উন্নাসিকতা। এই যমুনার শয়নসয্যায়, একটু একটু করে বদরপুর মেশাবো। কোন উষাকালে কোন পথচারী যাতে চমকে উঠতে পারে, চকমকি জ্বলে উঠতে পারে অতিক্ষুদ্র দর্পনের এক গঠন একক।
ফরিদাবাদ
এই দুরন্ত সোনালী নিয়ে সোহনা রোড যায়, ফিরে ফিরে যায় রায় পিথোরা আর রাঢ় মাটির লাল। হে, ফরিদাবাদ, আমি তোমার পড়শী হই। আমি দেখি তোমার পাশ ফেরা, অগুন্তি চলা নিয়ে বিছিয়ে দেওয়া আরাবল্লি, আর ঝাটিবাবলার সবুজে তোমার খিলখিলিয়ে হেসে ওঠার ঝিলিক ঈর্ষা করি। তুমি মঙ্গারের গভীর নিয়ে যখন ডুবে আছো আত্মখননে, আর আমরা রাজধানীর আকাশবাতাশ ভরিয়ে তুলেছি হৈ হৈ হা হা প্রতিদিনের নিউজ চ্যানেলের অট্টহাসিতে।
তুমি, কন্টক রুক্ষতায় মুগ্ধ রয়েছো, আর আমি ছেপে যাই অগভীর ভাষা ভাষা পাতা প্রণালী। পাতা যা নিতান্তই সহজ ,আগামী এপ্রিলে তা দিল্লির পথে পথে অতৃপ্ত হাওয়ায় উড়ে যাবে ।