দুটি কবিতা
অঞ্জন বর্মন

আকাশপ্রদীপ
এক তুচ্ছ জিনিসকে খুঁজতে গিয়ে কখনো হাতে এসে যায় হারিয়ে যাওয়া ম্যাজিকবক্স। যা কিনা এতদিন ঘরের এক কোণে অনাদরে পড়েছিল। হয়ত তার জমা ধুলোর আস্তরণে আঁকিবুকি কেটেছি অন্যমনে। ব্যস্ত পায়ের ঠোক্করে সে ঢুকে গেছে আরও কোনও অনালোকিত গভীরে।
তেমন একটা বাক্স খুললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক আকাশ স্বপ্নফুল। মিটমিট করে জ্বলা দুর্বল ইচ্ছেতারা। এক অবিনশ্বর ছায়াপথ। আনাচে কানাচে ফিসফিস, গুঞ্জন। অশ্রুগান ও ছিটকে পড়া আলোকুঁচি। তিরতিরে এক টুকরো ঝর্ণাচোখ। সময়ের ঝাঁকুনিতে সেই বাক্সের ডালা যত্ন করে ঢেকে দিয়ে ফিরে যাওয়া বাস্তবিক সুস্থলোকে।
ফেরার পথে মাথার মধ্যে বেজে ওঠে এক সমুদ্র মাউথঅর্গান। ট্রাফিকের লাল আলো শৈশবের আকাশপ্রদীপ। দূরভাষে বেলাফন্টে – “বাট আই এ্যাম স্যাড টু সে / আই এ্যাম অন মাই ওয়ে/ ওন্ট বি ব্যাক ফর মেনি এ ডে…”
মধু–চক্র
উন্মাদ আলো নিভিয়ে দাও সূর্য। পৃথিবীর ক্ষতস্থানে ঝরে পড়তে দাও অঝোর বৃষ্টি। এই নভোচারী প্রতিপদে এসে বসতে দাও মৌঋতু পরিচর্যাকারীকে। অনর্থক উন্মাদনায় বেঁধে দাও কুইনগেট। মধুশালার শ্রমিকের বিন্দুমাত্র আলস্যে বের করে আনো শানিত তরবারি। মধুভাণ্ড বিচ্ছিন্ন করে স্থাপন কর সুপারফ্রেমে।
পরিশেষে, বিভাজনে বর্ধিত কর কলোনির ঝাঁক।
অতঃপর মধু নাও অনালোকিত যাপন সংরাগে…