এই সহবাস না অসহবাস
পারমিতা চক্রবর্ত্তী


সহবাস কথাটাকে আমরা যদি এ ভাবে ব্যাখ্যা করি সম মননের বাস, তবে অসহবাসকে  বলা যায়  সম মনন যখন মিলিত না হয়। আমাদের জীবন বয়ে যায় বহু ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে৷ সেই গতিপথে কখনও পরিচয় হয় রোদ্দুরের সাথে আবার কখনো বা কুয়াশার সাথে। আমরা কী চাই তা কি আমরা নিজেরাই জানি? আমরা না চাইতেও এমন অনেক কিছুর মুখোমুখি হই যাতে আমাদের সবটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আমরা না চাইতেও এমন অনেক নিয়ন্ত্রণহীন সম্পর্ক বয়ে বেড়াই ৷ অসহবাস শব্দটির জন্ম তখনই হয় ৷ যা আমাদের জীবনকে অসহনীয় করে তোলে৷ সহনশীলতা শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে থাকে সহ্য, ত্যাগ, মমতা ৷ পারস্পরিক বোঝাপড়া না থাকলেও সহনশীলতা অনেক সময় সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে৷ আর এই সম্পর্কের বেড়াজালে অনেক দীর্ঘশ্বাস, অভিমান, ক্ষোভ, দুঃখ উঁকি দেয়।

আগেকার মানুষরা বলতেন যদি হও সুজন তেঁতুল পাতায় নজন৷ সুজন। এই সুজন শব্দটা বড় বিচিত্র। সুজন হলেই আরো বেঁধে বেঁধে থাকা যায়৷ ভালোবাসায় মুড়ে রাখা যায় স্বজনকে৷ ভালোবাসার নাকি অনেক জোড়! তার অজস্র উদাহরণ আমরা দেখেছি। বেহুলা এই ভালোবাসার জোরেই লখিন্দরকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছিল৷ আর ভালোবাসাহীন সম্পর্ককে বয়ে বেড়ানো খাদের সামনে দাঁড়িয়ে ঝাঁপ দেওয়ার সমান। কিন্ত প্রশ্ন হল একটা সম্পর্ক কখন ভালোবাসাহীন হয়ে পড়ে? একসাথে থাকতে থাকতে সম্পর্কের মধ্যে উষ্ণতা হারিয়ে যায়। সম্প্রতি এক সমীক্ষা নিয়ে সাড়া পড়েছে দেশ জুড়ে। সমীক্ষার ফলাফল জানিয়েছে, ভারতে বিবাহ বিচ্ছেদের হার নামমাত্র। কিন্তু বিষয়টি চর্চিত হচ্ছে অন্য কারণে। মাত্র ১ শতাংশ বিবাহ বিচ্ছেদের হার মানে সবার ঘরেই যে পরিপূর্ণ দাম্পত্যসুখ, তেমন কিন্তু নয়। বরং উলটোটাই। সমীক্ষার ফলাফলের পেছনে লুকিয়ে থাকা সত্যিটা সুখের নয় আদৌ। এই সমাজে অধিকাংশ ফুরিয়ে যাওয়া সম্পর্ককেও চিরকাল ‘বিয়ে’ নামের ছাতার তলাতেই থেকে যেতে হয়। জল-হাওয়া না পাওয়া দাম্পত্যগুলোকেও শুকিয়ে কাঠ হয়ে যেতে হয় ওই ছাতার তলাতেই।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এদেশে হাজারে মাত্র ১৩টি বিয়ের পরিণতি হয় বিচ্ছেদ। সেই হিসেবে বিচ্ছেদের হার ১ শতাংশ, পৃথিবীতে সবচেয়ে কম। বিবিসি-র এই রিপোর্ট এই প্রসঙ্গে দুটি তথ্য দিচ্ছে। প্রথমত,  দেশে সেপারেশনের সংখ্যা বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের তুলনায় তিন গুণ। অর্থাৎ দম্পতি একসঙ্গে থাকতে না পারলেও ‘বিবাহ বিচ্ছিন্ন’ তকমা পেতে চাইছেন না। দ্বিতীয়ত, ভারতে পুরুষের তুলনায় বিবাহ বিচ্ছিন্ন মহিলার সংখ্যা বেশি। এ থেকে স্পষ্ট, একবার বিচ্ছেদ হলে মহিলাদের আবার বিয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, পুরুষদের ক্ষেত্রে সে সমস্যা হয় না বললেই চলে। সুতরাং এই “বিয়ে” নামক ট্যাবো থেকে মুক্তি পেতেও চাইছে না অনেকে ৷ আর সেখান থেকেই উৎপত্তি অসহবাস কিংবা অসহনীয় বাস। আর তার একটা কারণ সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামো ৷ এমন অনেক নারী  আছেন যারা হাজার অত্যাচার সহ্য করেও থেকে গেছেন এক সংসারে৷ এই আশাটুকু নিয়ে,”শেষ হয়েও হইল না শেষ …” 

আমাদের সম্পর্কের মধ্যে এমন অনেক ঘাত, অন্তর্ঘাত থাকে যা কিনা উপর থেকে বোঝা যায় না ৷ শুধুমাত্র যৌনতার উপর ভিত্তি করে একটা সম্পর্ক টিকে থাকে না। বহু নারীকে চোখের জলের বিনিময়ে সমস্ত দুঃখ, আবেগকে সংযত করতে দেখা গেছে৷ বহু নারী স্বামীর অত্যাচার সহ্য করেও, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে থেকে যায় আজীবন এক ছাদের তলায়৷ নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামীর যৌনখিদা মিটিয়ে থাকে৷ আমাদের নিচু তলায় অর্থাৎ বসতি, ঝুপড়িতে যারা থাকে তারা এই ধরনের জীবন ভোগ করতে প্রায় অভ্যস্ত৷ গৃহহিংসার শিকার হয়েও, বারবার বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার হয়েও মেয়েরা মুখ খুলতেই পারেন না, সমাজ তাঁদের মেনে নেবে না, এই আশঙ্কা থেকে। স্বামী অথবা স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে তাঁর যা অভিযোগ, সমাজের চোখে তা যথেষ্ট ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে না, এই ভয়টা কাজ করতেই থাকে। মন থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইলেও বলতে পারে না৷

কার্ল ইয়ুং-এর সামাজিক অবচেতন তত্ত্ব (থিওরি অফ সোশ্যাল আনকনশাস)-এর উল্লেখ করে এক অধ্যাপিকা বললেন, “আসলে মানুষের মনটা সমাজের আয়না। সমাজের এবং মানব মনের দুটো দিক থাকে, চেতন এবং অবচেতন। বিচ্ছেদ নিয়ে আমাদের মনের ভেতর একসঙ্গে দুটোই কাজ করে। চেতন ভয়ের জন্ম দেয়। আর অবচেতন বিশ্বাসের। প্রথমটির ফলে আমরা ভয় পাই, বিচ্ছেদ হলে কী হবে, সামাজিক নিরাপত্তা কতটা কমবে, ইত্যাদি। আর অবচেতন আমাদের ভেতরে ‘বিয়ে’ –এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটা বিশ্বাস তৈরি করে দেয়। যেখান থেকে আমাদের অবচেতনে একটা ভাবনা চলতে থাকে, বিয়ে এমন একটা সম্পর্ক, যা কখনও ভাঙা যায় না। এই দুয়ের  টানাপোড়েনে কেউ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। কেউ আগে নেন, কেউ পরে। কেউ আবার সারা জীবনেও নিয়ে উঠতে পারেন না।”

সুতরাং অসহবাস অনেক ভাবে গড়ে ওঠে। দুটি নরনারী ভালোবেসে ঘর বাঁধে কিংবা পরিবারিক সিদ্ধান্তে রাজী হয় একসাথে থাকতে। মধ্যিখানে চলার পথটা নদীর মত বয়ে চলে। একসাথে থাকতে থাকতে অভ্যাসে পরিণত হয় ৷ আর এই অভ্যেস শব্দটা বড় কঠিন হয়ে পড়ে কোন কোন সময়। তারা বুঝতেও পারে না তাদের সম্পর্কের মাঝে আড়াল তৈরী হয়ে গেছে। এক ছাদের তলায় থেকেও মনের খোঁজ রাখে না কেউ। শুধুমাত্র কর্তব্যের জন্য একটা সম্পর্ক কখনও টিকে থাকতে পারে না। এভাবেই দুটি নরনারী পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। বৈষ্ণবরা মনে করতেন এবং এখনও মনে করেন, প্রেমের মাধ্যমে ভগবানের সঙ্গ লাভ সম্ভব। আর এই প্রেমের প্রথম সোপান হচ্ছে পরকীয়া। পরকীয়ার মাধ্যমে ভগবত প্রেমের আবির্ভাব ঘটে। সম্ভব হয় প্রেমের স্বরূপ উপলব্ধির। আর এই প্রেমের সাধনার মাধ্যমে লাভ করা যায় ভগবানের সান্নিধ্য। প্রেমের মধ্য দিয়ে একটি নর নারী মিলিত হয়। আর এই মিলনে একটি পুরুষ বা নারী খুঁজে নেয় অপর নারী , পুরুষকে৷ শুরু হয় সহবাস। আপন স্ত্রীর চেয়ে অন্য নারীর প্রতি পুরুষের আকর্ষণ বা আসক্তির মাত্রা প্রবল থাকে। আর এটাই  ধর্মাচরণের প্রথম ধাপ। এই স্থূল দেহজাত প্রেম-ই মানুষকে ভগবৎপ্রেমে অনুসন্ধিৎসু করে তোলে। কারণ, ছয় রিপুর মধ্যে কাম-ই মানুষকে চঞ্চল করে তোলে বেশি এবং তাতেই ঈশ্বরকে পাওয়া সহজসাধ্য হয়। বিল্বমঙ্গল পরনারী চিন্তামণির দৈহিক প্রেমের জন্য আকুল হয়েছিলেন।

সহজিয়ারা মূলত তান্ত্রিক দর্শনের প্রভাবেই পরকীয়াবাদের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ ভারতব‍র্ষের বহু প্রাচীন সাধন প্রণালী হল এই তান্ত্রিক পদ্ধতি। সিন্ধু সভ‍্যতার সময় থেকেই এ প্রথার পুরাতাত্ত্বিক প্রমাণ রয়েছে। আবিষ্কৃত ধ‍্যানী যোগীমূর্তি ও মাতৃকা মূর্তি তার প্রমাণ। পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলেছেন, “বজ্রযান”, ” কালচক্রযান” প্রথা থেকেই সহজিয়া পরকীয়াবাদের উৎপত্তি। ( তথ‍্যসূত্র: বৌদ্ধগান ও দোঁহা )। ঋকবেদে জার ও জারিনী অর্থাৎ বহুপুরুষগামিনী নারীর উল্লেখ আছে ( ৬/৫/৫, ১০/৩৪/৫)। এরপর বেদোত্তর যুগে রচিত বিভিন্ন সংহিতা ও উপনিষদেও পরকীয়াবাদের প্রচ্ছন্ন উল্লেখ আছে। মহাভারতের যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, কর্ণ, নকুল, সহদেব, বিদুর, ধৃতরাষ্ট্র, পাণ্ডু— সকলেই ক্ষেত্রজ সন্তান‌। নৃবিজ্ঞানী মর্গ্যান জানাচ্ছেন, আমাদের মানব সমাজের অতীতটা ছিল সম্পূর্ণরূপে অনিয়ন্ত্রিত যৌন সম্পর্কের পর্যায়ভুক্ত।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ বা প্রাক্ আর্যযুগে এবং পরবর্তী বৈদিকযুগের প্রথমদিকেও সমাজে নারী-পুরুষের অবাধ যৌনসম্পর্ক চালু ছিল। নারীর কৌমার্য বা সতীত্ব বলতে এখন যা বোঝায়, তখন তার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ছিল না। ভারতবর্ষে বিবাহ প্রথা চালু করেন মহর্ষি উদ্দালকের পুত্র শ্বেতকেতু। তার আগে পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর সংজ্ঞা বলতে বোঝাতো মূলত যৌনসঙ্গী। মহাভারত যুগে বিবাহ প্রথার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যৌনসঙ্গী নির্বাচন ব‍্যবস্থা চালু থাকলেও সমাজে তখনও কিছু অবৈধ যৌন সংসর্গের ঘটনা ঘটতে থাকে। তাই মহাকাব্যের যুগে মহাভারতে কুমারী কন‍্যার গর্ভজাত সন্তানকে “জারজ” না বলে তাকে “কানীন” বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে সহবাস প্রথা কিংবা ধারণাটি অনেক দিন ধরে চলে আসছে৷ দুটি নরনারীর শারীরিক ও মানসিক মিলনের ফলশ্রুতি হল সহবাস। আর সহবাসের বিপরীতে যা থাকে তাকে দুঃসহবাস বলা চলে। দুটি মানুষ যখন সমান্তরাল ভাবে পথ চলে তাদের গন্তব্য এক হতেই পারে আবার নাও পারে। কেউ কাউকে অতিক্রম করে চলে যায় আবার কেউ একসাথে চলে। কিন্তু সেই গন্তব্যে পৌছানোর পন্থা ভিন্ন হতেই পারে৷ কিন্তু লক্ষ্য একটাই৷ আর এই লক্ষ্য পৌছতে গিয়ে কেউ পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। কেউ জীবনকে অন্যরূপে চেনে, জানে ।

“হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয়
সারা জীবন বইতে পারা সহজ নয়
এ কথা খুব সহজ, কিন্তু কে না জানে
সহজ কথা ঠিক ততটা সহজ নয় ।”

কবি শঙ্খ ঘোষের কিছু লাইন অসহবাস কথাটি সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। একটা সম্পর্ককে সারাজীবন বইতে পারা সত্যি  সহজ নয়। ঠিক যেমনটা সহজ নয় হাতের উপর হাত রাখা। ভালবাসতে  কাউকে শিখিয়ে দিতে হয় না। যে ভালোবাসায় অধিকারবোধ, ক্ষমতা থাকে সেই ভালোবাসা কখনও বেশিদিন টিকতে পারে না৷ বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে না আসার পিছনে শুধু ভালোবাসাহীনতা থাকে তা নয় , অর্থনৈতিক কারণ  থাকে। এমন অনেক দাম্পত্যে দেখা গেছে  দিনের পর দিন তার স্বামীর মদ্যপ অবস্থায় আছেন। নিজের দায় দায়িত্ব কোনটাই পালন করতে পারছে না এবং সেই আর্থিক অনটনের  জন্যই তাদের সম্পর্কটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সমাজ এখনও বহু নারী অর্থনৈতিক ভাবে স্বাধীন নয় ৷ তাদের স্বামী যতই অত্যাচারী হোক না কেন, অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীলতার কারণে বহু নারীকে সংসারে টিকে যেতে হয়। আর একটা কারণ হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা। একা একটা নারীর পথ চলা খুব একটা সুন্দর হয় না৷ যখনই একজন নারীকে একা মাথা উঁচু করে বাঁচতে দেখে একদল দুষ্কৃতিকারী ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ সামাজিক নিরাপত্তার জন্য অনেক নারী হাজার অসহনীয় অবস্থা সহ্য করেও থেকে যায়৷ সন্তানদের মঙ্গল কামনায় বহু নারী থেকে গেছেন সংসারে । দাম্পত্যের মূল ভিত্তি যদি যৌনতা কিংবা সহবাস হয় তাহলে এক্ষেত্রে বহু নারী পুরুষ শারীরিক ভাবে মিলিত না হয়েও থেকে যান এক ছাদের তলায়। তাদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব থাকলেও একটা সামাজিক বন্ধনে তারা আবদ্ধ হয়ে পড়ে৷ এরই নাম সংসার । সবাইকে একটা মায়ার বন্ধনে জড়িয়ে রাখে ৷ ভালোবাসাহীন হয়ে বেঁচে থাকা মৃত্যুর সমান ৷ কিন্তু সে ভাবেও বেঁচে থাকে বহু দম্পতি ৷

কিন্তু শুধু যে বিবাহিতরাই একসাথে থাকেন তা  নয় ৷ পশ্চিম সমাজের একটি রীতি যেখানে প্রেমিক-প্রেমিকা বিয়ে না করেও বিবাহিত দম্পতির মত একসাথে বসবাস করে এবং সন্তানের জন্ম দেয়। পশ্চিম দেশগুলোতে এই মতবাদের উদ্ভব বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে দেখা দেয়।

অবৈবাহিক একত্রবাস এমন একটি ব্যবস্থা যার মধ্যে বিবাহিত নয় এমন দুটি ব্যক্তি একসাথে থাকেন এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এই সম্পর্কটি স্নেহময় এবং সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সম্পর্কগুলি কখনও কখনও দীর্ঘ সময়ের জন্য যেতে পারে বা স্থায়ী হতে পারে।

বিশেষত পশ্চিম দেশগুলিতে এ জাতীয় সম্পর্ক খুব সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত বিবাহ, লিঙ্গ অংশগ্রহণ এবং ধর্ম সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক দশকে এই প্রবণতা প্রচুর পরিমাণে অর্জন করেছে।

ভারতের সুপ্রিমকোর্ট অবৈবাহিক একত্রবাসের সম্পর্কের সমর্থনে একটি যুগান্তকারী রায়ে জানিয়েছিলেন  যে, দু’জন মানুষ যদি দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সাথে বসবাস করে এবং সম্পর্ক রাখে, তবে তারা বিবাহিত বলে বিবেচিত হবে। 

 সহবাস হল দুটি নর নারী মিলিত বাস সেখানে কোন সোশাল ট্যাবো থাকে না কিংবা রাখা উচিত নয়। বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানের উর্ধে থাকে এই সহবাস৷ তবে অসহবাস মানুষকে জীবনের এক কঠিন পর্যায়ে এনে দাঁড় করায়। যার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ  একটা ব্যবস্থা, হৃদয়, মনন।

“কেউ কেউ তো থাকে এমন

যার কোনও ঘর হয় না, উঠোন হয় না।

কেউ কেউ তো থাকেই এমন

শহর ভর্তি মানুষ, অথচ

ভালবাসবার একজন মানুষ জোটে না।

কেউ কেউ কি এমন থাকে না

সারা জীবন পাখি এবং আকাশ দেখতে দেখতে

মানুষ এবং অরণ্য দেখতে দেখতে

সমুদ্র এবং শূন্যতা দেখতে দেখতে বয়স বাড়ে!

আর বয়স বাড়তে বাড়তে এমনও কি হয় না

যে ধসে যাবার আগ-মুহূর্তে

আর একটি জীবন যায় জীবন—যাপনের?

হয় না এমন তো নয়, হয়।”

– তসলিমা নাসরিন

কারো কারোর জীবনে ঘর থাকে না, উঠোন থাকে না৷ তবু ও আকাশের বুকে মুখ লুকিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। কখনও কখনও বিশ্বাস প্রতারণা করে৷ কখনও কখনও নিঃশ্বাসও প্রতারণা করে৷ মনে হয় এই তো আছি তবু কি আছি কি নেই। আসলে সবটাই বলবে সময়!  তাই সহবাস বা অসহবাস যাই হোক না জীবন একটাই ৷ তাকে ভালো রাখার দায় নিজের৷

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...