অসহবাস
রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায়

এই যাত্রাস্তব্ধ দ্বীপ…ঋতিক্লান্ত মুহূর্ত ত্বরণ…এই পাথরায়িত প্লাবনের নিঃসীম জলছাপ…
পদক্ষেপের ক্লিন্ন ছায়া বৃহত্তর হতে হতে আবছা হয়ে আসে পরিসীমা…
শূন্যতার পরমাণু মেখলায় কে যেন লিখে রাখে বালিয়াড়ি, যাকে ছুঁয়ে থাকা স্রোত থেমে গেছে…
সময়ের সাজে আজ কোন যথার্থ আকুল গন্ধ নেই,
ফাঁকা আস্তাবলে উপেক্ষার খড়কুটোয় অবিস্মরণীয় জন্মকথায় নেমে আসে
গরিমার উত্তরাধিকার, যাকে সম্পন্ন ঐশ্বর্যের মত আজও আগলে রয়েছে সে উন্মাদ,
অবোধে তাড়িত হতে হতে সে পাড় ভুলেছে,
সমদর্শী ঘাটে এসে দাঁড়িয়েছে হু হু সুরে দূরত্ব মুছে যাওয়া অলীক ভুবন…

এভাবে বলতে গেলেই শুধু আবছায়ার কথা চলে আসে। যাপিত মুহূর্তদের ভিড়ে কি সত্যি কোন আলো নেই? এ বললে সত্যের অপলাপ হয়। এভাবে বললে অস্বীকার করা হয় সে আরোগ্যপুরের ঠিকানা, যা একদিন উপশম অভিমুখে ধাবিত করেছিল। ‘ভুল’ এক আপাত আপেক্ষিক ধারণা, কে না জানে। অতএব ভুল থেকে প্রতিপাদ্যের পোক্ত ধারণা আদৌ লব্ধ নয়। সময় এক বহতা প্রবাহ। তার অন্ত্যমিল থেকে যে ছান্দসিক অবতারে পুনর্জন্ম ঘটেছিল, যে মিশেল প্রমাণিত করেছিল আগুয়ান দহনের পাঠক্রম, আজ নিভে গেছে বলেই সে তো মিথ্যে হয়ে যেতে পারেনা। অথচ তারপরও পথ হারিয়ে যায়নি, ছায়াপাত থেকে ফিরে আসা গিয়েছিল জনপদে, নতুন ভিড়ের মধ্যে একজন হয়ে ওঠা গিয়েছিল। এখন অরণ্যে ছুটি কাটাতে যাই, বাপেতে মেয়েতে ছুটোছুটি করি দেদার, ওর মায়ের মুখে সম্পৃক্ত হাসি না মিলিয়ে জ্বলে থাকে জোনাকির মত। এই আশ্চর্য প্রভার সাপেক্ষে আরণ্যিক অন্ধকার ভালোলেগে যায়। পাতা ঝরে পড়ে বিস্তারে বৈরাগী ধুনে, হাওয়ারা শূন্যতার বিধেয়তে সন্নাটা লিখে দেয়…নতুন লেখার প্লট ভেসে ওঠে। ‘ভুল’ সাঁকো পেতে দিয়ে নদীকে বাধিত করার খেলায় ভেসে যায় মুহূর্তের শব…ভেসে যাক…

কল্পদর্পণে প্রতিফলনের রশ্মিপাতে আহুতি মেপে দেয় স্থবির যতির মূর্ছনা
ওকে দিই আয়ু…ওকে অবচেতনের মায়াক্কাথে চিনিয়েছি উন্মাদরেখা
আমার প্রকৃত কোন সরণের গতিপথ নেই…ছুটে চলি দুর্নিবার ভুল কক্ষপথে,
একেই মাত্রা ভেবে নিয়েছে মসীহা,
ওরা ভাবে, আশরীর ক্ষতদাগ মুছে গেছে…
_

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...