অনুপমের আত্মগোপনের কয়েকটি কারণ
ইন্দ্রনীল বক্সী

যে অন্ধ লোকটা একটা স্পিকারে মিউজিক ট্র্যাকের সংগে গান গাইছিল সে এবার চুপ করল। কামরার জানালা দিয়ে আসা বেলার তেরছা রোদটা জানালার রডে আড়াআড়ি ভাগ হয়ে লম্বাটে বর্গাকারে ওর পায়ের কাছে পড়ে আছে। লোকটা এবার নিঃশব্দে হাত বাড়িয়ে রইল।
কামরা ফাঁকাই বলা যায়। অবেলায় ট্রেন চাপার এই একটা সুবিধা। ট্রেনটা একটু থেমে আবার চলতে শুরু করল। অন্ধ লোকটা নেমে গেছে , ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে ট্রেনের ভিতর থেকে। ছোট হতে হতে দেখলাম লোকটা স্টেশনের মাঝ বরাবর একমাত্র কৃষ্ণচূড়া গাছটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গাছটা এখন একদম ফুলে লাল হয়ে নেই। গাছটা যে কৃষ্ণচুড়াই সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই , ফুল ছাড়া গাছ চেনা বেশ কঠিন কাজ। এক সময় লোহার কাঠামোর উপর প্ল্যাটফর্মের সেড আর হলুদ স্ল্যাবে লেখা স্টেশনের নামটা অদৃশ্য হয়ে গেল। পলাশপুর। কি আশ্চর্য্য তাই না! স্টেশনের নাম পলাশপুর অথচ গাছ রয়েছে কৃষ্ণচূড়া। এভাবে অন্ধ লোকটার নাম অমলতাস হতে পারে ভেবে ভালো লাগছে। যাঃ, মানুষের নাম আবার অমলতাস হয় নাকি!
পরবর্তী স্টেশনের পরের স্টেশনে আমি নামব। নিজেকে সেই মতো গুছিয়ে নিলাম, এই যেমন শাড়ির কুঁচিটা একটু ঝেড়ে নিলাম। আঁচলের পিনটা ঠিক করে বুকের কাপড়টা ঠিক থাকা স্বত্তেও আর একবার টেনে ঠিক করে নিলাম। পিঠ বেড় হয়ে আঁচলের প্রান্তদেশটা কোমর দিয়ে ঘুরিয়ে কোলের উপর রাখলাম। হাত ব্যাগটা একটু কাছে টেনে নিয়ে দু ঢোক জল খেলাম বোতল থেকে। রুমালে কপাল ও থুতনি মুছে নিলাম। এক সময় নেমে এলাম ট্রেন থেকে। সুজনডাঙ্গা হল্ট।
প্ল্যাটফর্মে পা রাখতেই একটা এলোমেলো বাতাস এসে গায় লাগল। জনবিরল স্টেশনে ইতি উতি কয়েকটিই মাত্র লোক, একটা কুকুর একমনে জিভ দিয়ে পায়ের কাছটা চেটে যাচ্ছে , একটা লোক উবু হয়ে বসে মলিন পোশাকে ততোধিক মলিন পুটুলি খুলে কী সব ঘাঁটাঘাঁটি করছে! সম্ভবত তার কাছে মুল্যবান কিছু গুছিয়ে গুছিয়ে রাখছে , যার খবর পৃথিবীর আর কেউ জানে না, খেয়ালও রাখে না। লোকটা স্টেশন থেকে বেরোবার রাস্তার কাছেই বসে আছে। ঘোলাটে দৃষ্টি মেলে লোকটা সোজা আমার দিকেই তাকিয়ে আছে না! হ্যাঁ একদম আমার দিকেই। আমায় কি চেনে লোকটা!
“ দিদিমণি আপনি অনুপমের বাড়ি যাবেন তো!… বেরিয়ে বাঁ দিকে সোজা রাস্তা, আগের মোড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে নেবেন সুবিধা হবে।” কাছাকাছি যেতেই পুটুলি ঘাঁটা বন্ধ করে আমায় উদ্দেশ্য করে লোকটা বলে উঠল আচমকা। এটা কীভাবে সম্ভব হলো!
আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়লাম। কোনো উত্তর দেওয়ার আগেই পায়ের নির্দিষ্ট গতিপথে একসময় ছোট্ট স্টেশনের বাইরে এসে দাঁড়ালাম। মধ্য দুপুরের রোদ্দুর হাই তুলছে এর মধ্যেই। আমি কি বাঁ দিকেই যাব! ওই লোকটা যেমন পথ নির্দেশ দিলো সেই মতো। এক পা দুপা করে হাঁটতে লাগলাম। কাঁচাপাকা রাস্তা, মানে পাকা রাস্তাই কিন্তু বহুদিনের পিচের প্রলেপ উঠে ক্ষীণ হয়ে রয়েছে, মাটি আর সুরকি বেরিয়ে এসেছে জায়গায় জায়গায়। রাস্তার ধার বরাবর মজে যাওয়া নয়নজুলি লম্বা লম্বা বুনো ঘাস, কলমি সহ কিছু কিছু উদ্বৃত্ত জল জমে আছে, স্থবির, বাহ্যিক বহমানতা নিয়ে নির্লিপ্ত। স্টেশনের নির্দিষ্ট যে লোহার বেড়া তার ছায়া পড়েছে কাকচোখ জলে। বাতাসের মৃদু কম্পন উঠছে শুধু মধ্যে মধ্যে। একটা বুনো গন্ধ ভেসে আছে বাতাসে। এখানে কি একটু আগেই বৃষ্টি হয়ে গেছে! কই ট্রেনে আসতে আসতে তো বৃষ্টি পেলাম না!
একটা তেমাথা মোড়ে এসে দাঁড়ালাম। একটামাত্র চায়ের দোকান, এখুনি দোকানি সম্ভবত উনুনে কয়লা দিয়েছে, গলগল করে ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে বিবর্ণ দরমা আর টালির ফাঁক ফোকর গলে। এখন কয়লা দিয়েছে উনুনে! এখন তো পড়ন্ত বেলা , হয়তো দ্বিতীয়বার দিয়েছে নিভে যাওয়া আঁচটাকে উসকে দিতে!
“ শুনছেন … ” আমি যথাসম্ভব মোলায়েম গলায় দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে চায়ের সরঞ্জামে মগ্ন মধ্য বয়স্ক দোকানীকে ডাক দিলাম। বয়স ঠিক বোঝা যাচ্ছে না, মধ্যই হবে। আবছা হয়ে যাওয়া একটা চেক লুঙ্গি আর হাতাওয়ালা স্যান্ডো গেঞ্জির ভিতরে কালো গিঁট ধরে যাওয়া শরীরটা কতটা প্রাচীন বোঝা মুশকিল। মাটির উনুনের পাশে সিমেন্টের এক চিলতে বেদীর মতো জায়গাটায় কাঁচের কটা গ্লাস উপুর করে রাখা, তার একপাশে গোটা তিনেক বয়ামে বেকারির বিস্কুট। পিঁপড়ের সারি উঠে এসেছে নিচের ভাঙা বালতি থেকে, যেখানে ব্যবহার হয়ে যাওয়া চায়ের পাতা ফেলা হয় সেখান থেকে।
“ বলছি একটু সাহায্য করতে পারেন!” দোকানির মোটা কাঁচের চশমা, যা সম্ভবত লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে আটকে রাখা, তার পিছনে স্থির বড় বড় লাগছে চোখগুলো। সেই দিকে তাকিয়ে বলে উঠলাম। একবার যেন আমায় আপাদমস্তক জরিপ করলো চোখদুটো। এতে আমার অনভ্যাসের কিছু নেই। “ চা খাবেন?…একটু দাঁড়াতে হবে …”
“ না না আমি আসলে …”
“ অনুপমের বাড়ির ঠিকানা খুজছেন তো! জানি …একটু জিরোন , একটু চা খান বসে, বলছি …” আমার কথা শেষ করতে না দিয়ে হাতের ইশারায় আমায় থামিয়ে বলে উঠল দোকানি। লোকটার মুখের রেখায় কি কিছু পরিবর্তন দেখা গেল! আমারই বা আচমকা চোখগুলো জ্বলছে কেন! সম্ভবত উনুনের ধোঁয়াতে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বসলাম রুমাল দিয়ে কাঠের নড়বড়ে বেঞ্চটা একটু ঝেড়ে নিয়ে। লোকটা কী বলতে চাইল … চা না খেলে ঠিকানা বলবে না! নাকি এ নিতান্ত গ্রাম্য ভদ্রতা!
“ বেশ …লিকার …চিনি দেবেন না।”
বাঁ হাতে পোড়ো মন্দিরটাকে রেখে চা দোকানির নির্দেশ মেনে এগোতে লাগলাম পথ ধরে। রাস্তার পাশে বসতি ক্রমশ চেপে ধরছে রাস্তাকে। একটা বছর দশেকের মেয়ে ছাগলছানা কোলে নিয়ে অনর্গল কথা বলছে আপন মনে, ছাগলছানাটা কচি স্বরে ডেকে ডেকে তার উত্তর দিচ্ছে যেন! আমার সঙ্গে চোখাচোখি হতেই মেয়েটির কথা থেমে গেল, কোনো শব্দ উচ্চারণ না করে ধীরে ধীরে একটা হাত রাস্তার প্রান্তে একটা বাঁকের দিকে তুলে ধরল। নাঃ, আর আমি চমকাচ্ছি না! ব্যাপারটায় ইতিমধ্যে আমি অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি।
অবশেষে এক চিলতে ঘাসজমি পেরিয়ে রাস্তা থেকে কিছু দূরে আমি এসে দাঁড়ালাম একটা এসবেস্টারের ছাউনিয়ালা বাড়ির সামনে। শাড়ির কুঁচি অল্প তুলে হাঁটলেও কিছু চোরকাঁটা লেগে গেল ভাঁজে ভাঁজে। শেষ যে মহিলা টিউবকলে জল তুলতে তুলতে আমায় পথ দেখাল তার কথা অনুযায়ী এটাই অনুপমদের বাড়ি হওয়া উচিত। পালপাড়া দক্ষিণ। বাড়িটা যেন গ্রাম থেকে আলগা হয়ে রয়েছে , আসেপাশের বাড়িগুলি কিছুটা দূরে দূরে।
“কেউ আছেন ?” সাধ্যমতো গলায় জোর এনে ডাক দিলাম নিঝুম হয়ে থাকা বাড়িটার ছিটে বেড়ার গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে। বাঁশের বাতা, খুঁটি আর জায়গায় জায়গায় গাছের ডাল পুঁতে অবিন্যস্ত বেড়াটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। অযত্নেই বেড়ে উঠেছে মাধবীলতা আর অপরাজিতার গাছ। গলাটা কেমন বুজে এসেছে , এর থেকে বেশি জোরে ডাকতে পারলাম না। কয়েকটা মুহুর্ত পার করে, একজন প্রৌঢ় মানুষ এসে দাঁড়ালেন দাওয়ার খুঁটিতে হাত রেখে। স্থির দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকার মধ্যে আমি কোনো বিস্ময় লক্ষ্য করলাম না! যেন আমার আসার প্রস্তুতি ছিলোই। ন্যুব্জ শরীর টেনে এগিয়ে দড়ির আগল খুলে সরিয়ে দিলেন বেড়ার গেটটা।
“আসেন… ভিতরে আসেন।”
আমি পেরিয়ে গেলাম অনুপমদের বাড়ির গেট। আমার সঙ্গে যেন হু হু করে এক দমকা বাতাসও পেরিয়ে গেল। প্রৌঢ় মানুষটি জানতেও চাইলেন না আমি কাকে খুঁজছি, আমিও জিজ্ঞাসা করলাম না এটাই অনুপমের বাড়ি নাকি!
প্রৌঢ় মানুষটিকে অনুসরণ করে ঢুকলাম বাড়ির প্রথম ঘরটাতে। একটা তক্তা আর দুটি বেতের মোড়া রাখা, দেওয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড় করানো মাদুরটা পড়ে যেতে যেতে আটকে আছে একটা ভাঙাচোরা আলনার গায়। ঘরটা পেরিয়ে ডান দিকে আর একটি ঘরের সামনে দাঁড়ালাম এসে আমরা। শেকল নামিয়ে দরজা খুলে দিলেন প্রৌঢ়। এটি তুলনায় ছোটো ঘর।
“বসেন… আমি আসছি একটু ”
ভিতরে ঢুকতেই একটা গুমো গন্ধ ঠেকল নাকে। এই ঘরে কেউ বাস করে না দীর্ঘদিন, কোনো মানুষের বসবাসের গন্ধ ভেসে নেই ঘরের বাতাসে এটা বুঝতে পারছি আমি, মেয়েরা পায় ঠিক এসব গন্ধ।
এঘরেও একটা চৌকি পাতা। একটা কুঁজো রাখা আছে তার পায়ের কাছে। দেওয়ালে তাক, তাতে অজস্র বই … রচনাবলীর সঙ্গেই রাখা আছে থার্মোডায়ানামিক্স , কোয়ান্টাম ফিজিক্স! দেওয়ালে ঝুলছে একটা বিবর্ণ ক্যালেন্ডার। জগতগৌরি হার্ডওয়ার। একটা তারিখে গোল করে লাল কালি দিয়ে দাগিয়ে রাখা…২১ নভেম্বর!
পাঁচফোড়নের গেরস্ত গন্ধে এলোমেলো করে দিলো ঘরের ভিতরকার পরিমন্ডল। মুহূর্তে মনে পড়ল এ বাড়িতে মানুষ বাস করে, রান্নাও হয়!
দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকলেন এক প্রৌঢ়া। হাতে কাঁচের প্লেটে দুটো নারকেল নাড়ু আর কাঁসার গেলাসে জল। ঝুরি নামা মুখে একটা মায়াময় প্রশান্তি মেখে আছে , এগিয়ে এসে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন এক মুহূর্ত, ঠোঁট কেঁপে উঠল কথার উচ্চারণে।
“দাঁড়িয়ে কেন ! বোসো …” প্লেট নামিয়ে রেখে বলে উঠলেন প্রৌঢ়া।
চৌকির উপর বসে একটু স্মিত হাসবার চেষ্টা করলাম আমি। অনেক সময়ই হাসবার সময়ে আমাদের চেষ্টা করতেই হয়!
“তুমিই বিশাখা ! …” আমার চিবুক স্পর্শ করে বলা শব্দগুলোর সাথে প্রৌঢ়ার চোখ যেন উত্তরের অপেক্ষায় নেই , শুধু মিলিয়ে নেওয়া আছে! কিছু দীর্ঘতর শব্দহীন মুহূর্ত পার হয়ে যায়। সংলাপের নির্মাণের আলস্যে অনুপমের অনুপস্থিতির উপস্থিতি প্রবল হয়ে ওঠে! না থেকেও যেন আছে! থেকেও যেন নেই!
“এই প্যাকেটটা তুমি নিয়ে যাও” প্রৌঢ়া একটা হলুদ পলিথিনের প্যাকেট আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন। আমি একটু বিস্মিত হয়ে তাকাতেই উনি আবার বলে উঠলেন
“ এটা তোমার জন্যই রাখা ছিলো সম্ভবত! দেখ, তোমার নাম লেখা প্যাকেটে …”
আর কিছু দেখার নেই আমার , আর কিছু জানারও নেই! …আমাকে কেউ প্রশ্নও করেনি! ফিরতি পথে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম এসবেস্টারের চাল দেওয়া, গ্রাম থেকে একটু বিচ্ছিন্ন ঘরটাকে … আমার হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে ঘরটা দুলছে, দৃশ্যপট পালটে যাচ্ছে, সেই কোলে ছাগলছানা নিয়ে মেয়েটা নেই! কোত্থাও নেই, চায়ের দোকানটা একটা ঝাঁপ ফেলা ঝুপড়িমাত্র, দর্মার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসা ধোঁয়ার চিহ্নমাত্র নেই!
ছয় মাস আঠারো দিন। সময়টা বেশ লম্বাই! আমি এতদিন দেরী করলাম কেন! জানি না … কোনো যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর নিজেকে দিতে পারলাম না। চোখ বন্ধ করে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে রইলাম নিশ্চল, জলের ধারা আমার একান্ত নগ্নতা ছুঁয়ে নেমে যাচ্ছে। অনুপম ছিল, প্রবলভাবে, গত শীতের কার্ডিগানেও আমি ওর গন্ধ টের পাই! টেক্সটের মুছে যাওয়া অংশে … শুধু ‘ লাস্ট সীন’ লেখা অংশে ছমাস আগের তারিখ, সময় আটকে আছে… ২১শে নভেম্বর…।
বিছানায় সেই হলুদ প্যাকেট থেকে বেরিয়ে আসা জিনিস ছড়িয়ে আছে, হিটস অফ কিশোর কুমার – লং প্লে “দূর কাঁহি যব দিন ঢল যায়ে…”, ‘কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখেনি’ … বডি মিস্ট।
আমি মন দিয়ে শাড়ির পাড়ে বিঁধে থাকা চোরকাটাগুলো তুলে ফেলতে লাগলাম…।

2 Comments

  • Rumki Ray Dutta

    Reply January 11, 2022 |

    দুটি লাইন চূড়ান্ত মাত্রা এনে দিল গল্পটার। ১. পাঁচফড়ুনের গন্ধে মনে হওয়া এই বাড়িতে মানুষ থাকে রান্না হয়।
    ২. শাড়ির পাড়ে বিঁধে থাকা চোরকাটা
    গল্পটার মূলে বলতে চাওয়া গল্পকে বাক্যে প্রতিষ্ঠা করা একেই বলে।
    দারুণ উপস্থাপন!

  • Ruma Dey

    Reply January 12, 2022 |

    অপূর্ব

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...