পায়ের গল্প
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

এক

এক একটা পা এক একটা সম্মতি। বুটের অপশাসনের বিরুদ্ধে রাগী রাগী কথালাপ। ঘুরে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ চমকের মতো খুব দ্রুত অন্ধকার ক্যানভাসে আগুন বুলিয়ে দেওয়া। দুলে ওঠে, ফুলে ওঠে। মানতেই হয়, তা না হলে মুহূর্তে ক্যানভাসে এক চিমটি ধূসর ছাই।

দুই 

প্রশ্নের পাহাড় তৈরি হলে তেতে ওঠে চারপাশ। আমাদেরই চোখের সামনে দিয়ে গতানুগতিক পথে বয়ে গেছে কিছু নির্ধারিত সমীকরণ। কিছু মিলেছে যেমন একটানা হেঁটে গেলে দেখা হয়ে যায় কিছু কিছু চোখে। এসব তো মিলে যাওয়া নয়। পাশে পাশে গেলে এমনিই তো গন্ধ আসে নাকে। কে আর নেড়েচেড়ে দেখেছে গন্ধের ঠিক নিচেই জমা আছে কতকালের আগুন। তবুও সবাই ধরে নেয় গন্ধ মানেই কিছু বাধ্য পায়ের মালা। বাকি সব অবাধ্য সমীকরণ। এই অগ্নিগর্ভ কন্দর থেকেই বেরিয়ে আসবে কিছু পা আর ঠিক তখনই অন্ধকারের গায়ে লেখা হবে আগুনের বর্ণমালা। 

তিন

ফাটা পায়ের পরিধি জুড়েই থাকে একটা দেশের মানচিত্র। অনেক কাল আগে শুনেছিলাম ফাটা পায়ের মাটিতেই থাকে দেশ। মাটি খুলে খুলে নিলে তৈরি হয় একটা গোটা মানুষ। কেউ কোনোদিন তাকে মাটির দুয়ারে বসিয়ে জল বাতাসা হাতে তুলে দেয় নি। তবুও সুযোগ পেলেই ঘোষণার মতো করে আঙুল তুলে দেখিয়েছি এই আমার দেশ। চেনার কিছু নেই। দেখার কিছু নেই। সাতসকালে গতানুগতিক পথে হেঁটে গেলেই সন্ধের অনেক আগেই পৌঁছে যাওয়া যাবে দেশের অন্দরে।

চার 

পায়ের ইতিহাস কার আর খুলে বসতে ইচ্ছা করে। বেশিরভাগ মানুষই একটু হাত পা নাক কান মুখ বেঁকিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারলে বাঁচে। এমন একটা ভাব করে যেন সবই তো আমার চেনা। অথচ চোখ দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায় চলে  যেতে পারলে বাঁচে। আসলে পায়ের ইতিহাস বইয়ের প্রচ্ছদেই থাকে একটা আয়না। আর উলঙ্গ হয়ে পড়ার ভয় কার নেই? 

অলংকরণঃ কল্লোল রায়

2 Comments

  • Kaushik Sen

    Reply June 29, 2021 |

    ভীষন ভালো। মুগ্ধ হলাম

  • অর্ঘ্য দে

    Reply July 1, 2021 |

    খুব শক্তিশালী গদ্যকবিতা। প্রবল আঘাতের যে আবহ রচিত হয়েছিল কবিতার বাকি তিনটি অংশে সেই আঘাত অনিবার্য বজ্রাঘাতের মতো আছড়ে পড়ছে শেষ অংশে।

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...