তিনটি কবিতা
অমিত চক্রবর্তী

একটা মিথ্যে কথা বল

এবার তুমি আমাকে একটা মিথ্যে কথা বল
একটা সরল কর্ডে বোনা – যেন পদাবলী বা মালঝাঁপ পয়ার
যেন শুশ্রূষা
আমার সমস্ত আই ক্যিউ প্রতিবাদ করে উঠুক
বাঁদিকের মস্তিষ্ক ফুঁসে উঠুক ফেনায়
তবু তুমি একটা সরল মিথ্যে সাজাও
বল পাতাঝরা হেমন্তের পরই বসন্ত আসবে
বাতাবী ফুলের গন্ধ নিয়ে
বসন্ত আসবে মায়াসন্ধ্যেয় –
আমি গলে যাব সেই উমানোয়
আমি কেঁপে উঠব সেই ছলনার
চিত্রমালায়
একটু সন্দেহ, একটু কুয়াশা ঘুরে বেড়ালেও
চোখ মুছে নেব তোমার মিথ্যে আঁচলে।

বাতাস, লাভারবয়

জানি না কি বলে গেল বাতাস, উইন্ডচাইমের কানে কানে, ফিসফিসিয়ে
আরক্ত ঘষে যাওয়া দাগ, লাল জড়ুল
যেন লজ্জাবতী, যেন হিকি
বেজে উঠল নতুন ডুয়েট, জয়জয়ন্তী বা মালকোষ
সন্ধ্যের ঝোঁকে –
দোল দোল রেডবাড দেখল উঁকি মেরে
ডেকে বসা ব্লু জে দেখল, একটু গম্ভীর
কৌতূহলী চড়ুই বা কার্ডিনাল, নাইনে পড়া মেয়ে
খিলখিল করে হেসে, আহা কি অসভ্য ওই বাতাস, লাভারবয়
কি বলে গেল বাতাস, ফিসফিসিয়ে, উইন্ডচাইমের কানে কানে
একেবারে বেহায়া, কানের লতিতে জিভ রেখে তার
সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে, আলতা ধুইয়ে,
কি বাজিয়ে দিয়ে গেল শিহরণের সিম্ফনিতে।

কবোষ্ণ অথবা চৌচির

মন ভাল থাকলেও সে কবিতার কাছেই আসে
অথচ তার চাহিদা অন্য, দাবিদাওয়া সচেতন
প্রেমিকাকে সে তখন সোনালিয়া বলে ডাকে।
মন খারাপ থাকলে সে ঘোরে ক্লিষ্ট
শনিবার, শনিবার থতমত একটু
মুখ তুলে তাকাতে যেন ভয়
যেন শব্দগুলি তাকে নিরাশ করেই
জন্ম নিয়েছে। ভাঙা কপাল ফেরে।
আমি তাকে দু’দিক থেকেই দেখি, দু’দিকেই তার
বর্ম আমি, আগলে রাখি, সামলে রাখি,
চুমু দিয়ে, জ্বর তাড়িয়ে। তার ভাল জ্বর আর
মন্দ জ্বর সবই আমি তাড়াতে পারি, সবই ম্যাজিকে,
ছোট্ট ফুঁ-তে উড়িয়ে দিয়ে। সে কিন্ত জানেনা এসব কথা
সে কিন্তু আমার কাছে আসেনি কখনো
সে শুধু কবিতার কাছেই ভিখিরি অথবা নীলিমা
সে শুধু কবিতার কাছেই কবোষ্ণ অথবা চৌচির।

অলংকরণঃ কল্লোল রায়

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...