চারটি কবিতা
বৈশাখী রায়চৌধুরী


সেলাই

নদী আঁকতে তে গিয়ে বারবার মনে পড়ছে তোমাকে
ঘৃণা বোঝাতে এঁকেছি শুধু তোমার প্রত্যাখ্যান

নিজেকে আঁকতে গিয়ে কেবল আঁকতে পেরেছি তোমার ভালোবাসা
কি নিপুণ! নিপাট হয় মেয়েদের সেলাইয়ের ফোঁড়।


নিঝুম সানাই

অপরূপকে রূপ দিতে গিয়ে দেখি কবিতার উঠোন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে কৃষ্ণচূড়ার শব। শুধুমাত্র চলে যাওয়াটুকু দেখবে বলে স্টেশনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে যে আরক্তিম যুবক চোখ একটু পরেই তার দৃষ্টি পথের মধ্যে দিয়ে দুলতে দুলতে হারিয়ে যাবে রক্ত আলতামাখা বসন্ত ভোর। অদৃষ্ট নিয়তি চুপচাপ বসে বসে দেখবে এসব কিন্তু কোনদিন চিৎকার করে বলে দেবে না সবাইকে

প্রত্যাশা একপ্রকার অলিখিত আত্মহত্যারই শিরোনাম যা রোজ একটু একটু করে ডুবিয়ে মারছে মানুষদের।


পৃথিবীর ইতি

আর কোনদিন দেখা হবে না আমাদের
পুরনো অ্যালবামের কোণে লুকিয়ে রাখবো তোমার চিঠি

গোপন হলে সন্দেহ বাড়ে
সন্দেহে বাড়ে ভালোবাসাপ্রবণ হৃদয়

অবশেষে একসময় অখন্ড বৈধব্য নিয়ে চৌকাঠে এসে দাঁড়ায় মৃত্যু

মৃত্যু আসলে কিছুই না একটা খোলস মাত্র

যেদিন প্রথম নারীর চোখে ঘৃণা দেখা দিয়েছিল পুরুষের জন্য
সেইদিনই লেখা হয়েছিল কেয়াফুলের গন্ধে পৃথিবীর ইতি।


“তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা”

হাড়ের ভেতর দিয়ে বাতাস প্রবেশ করে সহজেই
সারারাত ধরে খেলা করে রক্তের সঙ্গে মজ্জার সঙ্গে
হৃদপিণ্ড ধরে দুই হাতে লোফালুফি করে

সকালে দেখা হলে প্রতিবেশী জিজ্ঞাসা করে ‘রাতের মেহফিল কেমন জমলো হে?’

কিছু বলার আগেই বুক থেকে ঝরে পড়ে বাশির সুর
প্রতিবেশী হাসতে হাসতে হারিয়ে যায় করোটির ভিড়ে।

অলংকরণঃ কল্লোল রায়



2 Comments

  • Ishita Bhaduri

    Reply June 27, 2021 |

    কবিতাগুলো ভালো লাগল

  • Madhuparna Basu

    Reply July 7, 2021 |

    চমৎকার অনুভব

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...