গান্ধী, হিটলার ও না পৌঁছনো চিঠি
তন্ময় মণ্ডল

একসময়ে চিঠিই ছিল কত বড় বড় বার্তা পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম। সে ব্যক্তিগত মনের ভাব থেকে শুরু করে খুব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও চিঠি হয়েই অপরপ্রান্তের মানুষটির কাছে পৌঁছত। কত চিঠিই তো লেখা হত, আজও হয়, হয়ত অন্য আঙ্গিকে অন্য মাধ্যমে; কিন্তু কিছু চিঠি এমন থাকে যেগুলোর কথা উঠলে মানুষের সমস্ত স্নায়ুযন্ত্র আরও যেন সচল হয়ে ওঠে। আজ পৃথিবীর ইতিহাসের এমন দুটো চিঠির কথা বলব যার বিষয়ে হয়ত অনেকেই জানেন তবে জানেন না এই এই সংখ্যাটাই বেশি।
ভারত তথা বিশ্ব রাজনীতিতে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী এই নামটা অহিংসা ও মানবতা-ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতিভূ। আর একটি নাম অ্যাডলফ হিটলার। প্রতিহিংসা, ক্ষিপ্রতা তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কান্ডারী হিসাবেই ইতিহাস তাঁকে চিনিয়েছে। একটু অবাক লাগলেও একথা সত্য অহিংসাবাদী মহাত্মা গান্ধী, চরম ফ্যাসিস্ট হিটলারকে একটা নয় দু-দুটো চিঠি লিখেছিলেন। এই নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠতে পারে, আলোচনা-সমালোচনায় হতেই পারে। আর আগে এক এক করে চিঠিগুলোতে নজর ফেলা যাক।

হিটলারকে গান্ধীজী প্রথম চিঠিটি যখন লেখেন সেই সময়ের বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট বড় উত্তাল। ১৯৩৯ সালের ২৩ আগস্ট তিনি হিটলারকে চিঠি লেখেন আর তার আট দিন পরেই জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করে। শুরুতেই একটা কথা বলে রাখা দরকার গান্ধিজীর এই চিঠি কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের নজর এড়িয়ে হিটলারের হাতে পৌঁছয়নি।
প্রথম চিঠিতে গান্ধীজি লিখেছেন-
প্রিয় বন্ধু,
মানবতা রক্ষায় আপনাকে কিছু লেখার জন্য আমার বন্ধুরা আমাকে তাগাদা দিচ্ছিল। কিন্তু আমি তাদের অনুরোধে বাধা দিই, কারণ মনে হচ্ছিল তা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করবে। কোনো একটা কারণে আমি নিজেই অনুভব করছি, যেভাবেই বিবেচিত হোক না কেন, আমার বেশি ভাবা উচিত হবে না, আমি অনুরোধ জানাতে পারি।
এটা স্পষ্ট যে আজ আপনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি যুদ্ধ থেকে নিষ্কৃতি দিতে পারেন, যুদ্ধ রাষ্ট্রের জন্য মানবিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কোনো কিছু আপনার জন্য যেমন মূল্যবানই হোক না কেন তার জন্য কি শোধ তুলে ছাড়বেন? আপনি কি এমন একজনের কথা শুনতে চান, যিনি স্বেচ্ছায় যুদ্ধ এড়িয়ে চলছেন দৃশ্যমান কোনো সফলতা ছাড়াই? যাইহোক লেখায় যদি আমি কোনো ধৃষ্টতা দেখিয়ে থাকি, আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

মহাত্মা গান্ধী দীর্ঘদিন লন্ডনে ছাত্রাবস্থায় ছিলেন। এই সময় ইউরোপের মানুষদের সঙ্গে গভীরভাবে একাত্ম হয়েছিলেন এবং ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে তার খুব ভালোই ধারনা ছিল। ইউরোপের দেশগুলোর উপনিবেশদের প্রতিও তাঁর মমত্ববোধ ও সহানুভূতি ছিল, যারা তথাকথিত সিভিলাইজেশনের আলোয় পদপিষ্ট হচ্ছিল। তাঁর অনেক বন্ধু ও সহকর্মী লন্ডনে থাকতেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা গান্ধী দেখেছিলেন। তাঁর ধারনা ছিল হিংসা কেবল উচ্চতর ধ্বংসাত্মক ক্রিয়াকলাপ ছাড়া কিছুই ঘটাতে পারে না। তাই নিজস্ব বিশ্বাস থেকেই সতর্ক করা তাঁর কর্তব্য বলে হয়তো মনে করেছিলেন।
তাঁর ডায়েরি থেকেই জানা যায়, মুসোলিনির সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কথা। আর সেই বৈঠকের পরের বছরগুলিতেই, ইউরোপ অনিবার্যভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। মানবতা তখন প্রায় ধ্বংসের মুখে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের পরাধীন লোকদের সদস্য ছিলেন, তবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের পতন ও জার্মানির বিজয় অথবা ভারতের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তির চেয়ে মানবতা ও অহিংসতার প্রসঙ্গ সেই সময়ে তাঁর কাছে অনেক বেশি জরুরি মনে হয়েছিল। মুক্তির জন্য সহিংসতা কোনও রাস্তা নয় বলেই যার আজীবনের দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর কাছে এটাই তো প্রত্যাশিত।
চিঠিতে আমরা দেখতে পাই, গান্ধীর চিঠিটি লেখার তেমন ইচ্ছা ছিল না, তিনি হয়তো বুঝেইছিলেন তিনি কোনও ইটের প্রাচীরের সাথে কথা বলছেন। তবে তার বন্ধুদের কিঞ্চিৎ খুশি করা এবং এটুকু বলতে পারা যে তিনি অন্তত চেষ্টাটুকু করেছিলেন। “এটা স্পষ্ট যে আজ আপনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি যুদ্ধ থেকে নিষ্কৃতি দিতে পারেন”-এই বাক্যটিতে যদি একটু বিশেষ মনোযোগ যায় দেখা যাবে, তিনি হিটলারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে তিনি যুদ্ধ না চালিয়েও এই পৃথিবীতে একজন শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী শাসক হতে পারেন।
এই চিঠির আর একটি অংশ দেখা যাক, যেখানে গান্ধী বলছেন, “আপনি কি এমন একজনের কথা শুনবেন, যিনি স্বেচ্ছায় যুদ্ধ এড়িয়ে চলছেন দৃশ্যমান কোনো সফলতা ছাড়াই?” প্রশ্নের ভেতর প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পত্রপাঠকের বুঝে নিতে অসুবিধা হবে না। যুদ্ধে যে উভয়পক্ষকেই ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে এবং হিংসা যে স্থায়ী সমাধান দিতে পারবে না, অর্থাৎ গান্ধীর নিজস্ব বিশ্বাস চিঠিতে স্পষ্ট।
এবার এই চিঠি ইংরেজ ঔপনিবেশিক সরকার হিটলার অবধি পৌঁছতে দেয়নি। সেটা অন্য প্রসঙ্গ। যদি পৌঁছেও যেত হিটলার কি এই নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবতেন? নেতিবাচক সম্ভাবনাই হয়তো এতে বেশি থেকে যায়।

এবার আস যাক দ্বিতীয় চিঠির প্রসঙ্গে। গান্ধী কখনও জানতেন না যে তাঁর প্রথম চিঠিটি হিটলারের কাছে পৌঁছায়নি। তবে তিনি এটাও বিবেচনা করেছিলেন যে চিঠিটি যদি তাঁর কাছে পৌঁছেও থাকে, তবে এটি পড়তে তাঁর আগ্রহ হয়তো হয়নি।
দ্বিতীয় চিঠিটি গান্ধী লেখেন ১৯৪০ সালের ২৪ ডিসেম্বর। এই চিঠিটি ছিল আগেরটির চেয়ে অপেক্ষাকৃত বড়। ইতিমধ্যে হিটলার পোল্যান্ড এবং মধ্য ইউরোপের বহু দেশ আক্রমণ করে ফেলেছে। এই চিঠির শেষে উঠে এসেছে হিটলারের সঙ্গে জোট গড়া ইতালির ফ্যাসিস্ট বেনিটো মুসোলিনির প্রসঙ্গও। যুদ্ধের আসন্ন পরিণাম সম্পর্কে গান্ধী হিটলারকে সতর্ক করেছিলেন চিঠিতে। দ্বিতীয় চিঠিটি একবার দেখে নেওয়া যাক।

প্রিয় বন্ধু,
আপনাকে আমার বন্ধু সম্বোধন শিষ্টাচারের খাতিরে নয়। কেউই আমার শত্রু না। বিগত ৩৩ বছর ধরে আমি জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে পুরো মানব জাতির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছি। আমি আশা করছি, আপনার জানার সময় ও ইচ্ছা হবে মানবজাতির একটি শুভ অংশ কিভাবে আপনার ধারণার প্রভাবের বাইরেও জীবন-যাপন করছে।
জন্মভূমির জন্য আপনার ত্যাগ ও সাহসিকতা নিয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। প্রতিপক্ষ যেভাবে আপনাকে দানব আখ্যা দিচ্ছে, তাও আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু আপনার, আপনার বন্ধু ও গুনগ্রাহীদের লেখা ও ঘোষণাগুলো সন্দেহের অবকাশ রাখেনি যে, আপনার অনেক কাজই মানবিকতার জন্য অশুভ ও দানবীয়। বিশেষ করে আমার মতো যারা বিশ্বভ্রাতৃত্বে বিশ্বাস করছি তাদের জন্য।
যুগোস্লাভিয়াকে নাকাল করা, পোল্যান্ডে ধর্ষণ ও ডেনমার্ককে দখলে নেওয়া; এসব ধ্বংসযজ্ঞ আপনার কাছে মহৎ কাজ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু আমাদের ছেলেবেলা থেকে শেখানো হয়েছে, এসব মানবতার জন্য অবমাননাকর।
সম্ভবত আমরা আপনার সেনাবাহিনীর সফলতা চাইতে পারি না। তবে আমাদের অবস্থান স্বতন্ত্র। ব্রিটিশ উপনিবেশকে আমরা নাৎসিদের চেয়ে কম প্রতিরোধ করি না। পৃথিবীর পাঁচ ভাগের একভাগ মানুষকে ব্রিটিশ শাসনের কবলে নিয়ে আসা হয়েছে, যা আসলে কোনো নিরীক্ষণ প্রক্রিয়াকে মেনে নেয় না।
আমাদের প্রতিরোধ ব্রিটিশদের ক্ষতি করা নয়। আমরা তাদের বদলাতে চাই। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত করতে নয়। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ নিরস্ত্র। আমরা তাদের বদলাতে পারি কিংবা না পারি; অহিংস আন্দোলনের মধ্যে তাদের শাসন এখানে অসম্ভব করতে বদ্ধ পরিকর।
এ অহিংস পদ্ধতিতে বলপ্রয়োগ করা যায় না। এই বোধ ধারণা দেয় নির্যাতনকারীরা তাদের অভিপ্রায় বাস্তবায়ন করতে পারে না; যদিনা ভুক্তভোগীদের নূন্যতম ইচ্ছা, সহযোগিতা ও বাধ্যবাধকতা থাকে। শাসকরা আমাদের শারীরিক নিপীড়ন করছে, ভূমি দখল করেছে তবে আমাদের সত্ত্বা নয়। প্রতিটি ভারতীয় নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যা করে তারা কিছুই পাবে না। হয়ত সবাই সেরকম সাহসিকতা দেখাবে না; ভয়ের কারণে বিদ্রোহীরা পিছু হটতে পারে, তা সত্য। তবে তা অন্য আলোচনা।
যদিও তেমন নারী ও পুরুষ পাওয়া যায় যারা নিপীড়নকারীদের কাছে দয়া-প্রার্থনা না করে জীবন উৎসর্গ করতে পারবে। স্বৈরাচারের সহিংসতা থেকে তারা স্বাধীনতার স্বাদ পেতে পথ দেখবে। আমি চাই আপনি বিশ্বাস করুন এ ধরনের অপ্রত্যাশিত সংখ্যক মানুষ রয়েছেন ভারতে। গত ২০ বছর ধরে তারা এভাবে নিজেদের গড়ে তুলেছেন। গত ৫০ বছর ধরে আমরা ব্রিটিশদের হটাতে চাইছি। স্বাধীনতার আন্দোলন আগে কখনোই এতটা শক্তিশালী ছিল না। এখানে সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস যেটিকে চূড়ান্ত পরিণতিতে নিয়ে যেতে চাইছে। আন্দোলনের অহিংস চেষ্টায় আমরা উল্লেখযোগ্য সফলতা পেয়েছি। সংঘবদ্ধ ব্রিটিশ সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা সবচেয়ে সঠিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি।
এখন আপনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। দেখার বাকি জার্মান ও ব্রিটিশদের মধ্যে কোনটি বেশি সংঘবদ্ধ। আপনি জানেন ব্রিটিশদের শেষ হওয়াটা আমাদের জন্য এবং সারাবিশ্বে অ-ইউরোপীয় জাতিগোষ্ঠীদের জন্য কিরূপ অর্থ বহন করে। কিন্তু জার্মানির সহযোগিতায় তাদের শাসনের অবসান হোক তা আমরা চাই না।
আমরা অহিংস পথ খুঁজে নিয়েছি। অহিংস প্রক্রিয়ায় পরাজয় বলে কিছু নেই। এটি হল কাউকে হত্যা বা আহত না করেই ‘করো অথবা মরো’ পন্থা অবলম্বন করা। অর্থ ও বিজ্ঞানের ধ্বংসযজ্ঞ না করেই যেটির বাস্তবায়ন সম্ভব। এই অলৌকিক ব্যাপারটি কারও করায়ত্তে নেই।
যদি ব্রিটিশরা না পারে, অন্যকোনো শক্তি নিজেদের সক্ষমতা বাড়াবে ও আপনাদের পরাজিত করবে। আপনারা এমন কোনো চিহ্ন রেখে যাচ্ছেন না, যাতে আপনার দেশের জনগণ গর্ববোধ করতে পারে। দক্ষভাবে পরিকল্পিত কোনো হত্যাযজ্ঞের প্রশংসা তারা বহন করতে পারে না।
আমি আপনার কাছে অনুরোধ করি মানবতার খাতিরে এই যুদ্ধ থামানোর জন্য। আপনি ও যুক্তরাজ্য বিবাদমান বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বা যৌথ উপায় নিষ্পত্তি করলে, আপনি কিছুই হারাবেন না। যদি যুদ্ধে জিতেও যান, তাতেই প্রমাণ হয় না আপনি সঠিক। এটা শুধু বলবে আপনার ধ্বংসর ক্ষমতা বেশি।
একটি পক্ষপাতহীন ট্রাইব্যুনাল মানবিকভাবে যাচাই করুক কোনপক্ষ সঠিক। খুব বেশিদিন হয়নি আমি আবেদন জানিয়েছিলাম ব্রিটেনবাসী যেন আমার পন্থা গ্রহণ করে, আপনি সে বিষয়ে জানেন। আমি বিদ্রোহী হলেও ব্রিটিশরা আমাকে বন্ধু ভাবে তাই বলেছিলাম। তবে আমি আপনার ও আপনার দেশের জনগণের কাছে অপরিচিত। ব্রিটিশদের জন্য আমি যে আহ্বান জানিয়েছি তা আপনাকে বলার স্পর্ধা আমার নেই। এটা একইভাবে কাজও করবে না। বাস্তবিকতা বিবেচনায় আমার বর্তমান প্রস্তাবটি তাই সহজ।
এই সময় যখন ইউরোপবাসী শান্তির জন্য আরও বেশি একাগ্র। এমনকি আমরাও আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন স্থগিত করেছি। ব্যক্তিগতভাবে এটি হয়ত আপনার কাছে অর্থবহন করে না। শান্তির জন্য আপনার কাছে এটুকু চাওয়া কি খুব বেশি কিছু? লাখ লাখ ইউরোপীয় শান্তির জন্য বোবাকান্না কেঁদে যাচ্ছে, যা আমিও শুনতে পাচ্ছি।
আপনাকে ও মুসোলিনিকে যৌথভাবে আমি এই আবেদন জানাতে চেয়েছি। একটি সম্মেলনে তার সঙ্গে আমার সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল, ইংল্যান্ড থেকে রোম সফরকালে। আমি আশা করব, পরিবর্তন কামনা করে তিনি এই আহ্বান গ্রহণ করবেন।
আপনার নিকটতম বন্ধু
এম.কে. গান্ধী

এই চিঠিটি পড়লেই যুদ্ধবিরোধী গান্ধীর বন্ধু সম্বোধন ও আবেদনের মনোভাব এবং তার স্বপক্ষে কিছু যুক্তি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। চিঠিতে এক বিশ্ব সৌভ্রাতৃত্ববোধের চিরন্তন বার্তা যেমন গান্ধী হিটলারকে পাঠাতে চেয়েছিলেন তেমন সাবধানও করেছিলেন আগামীর ভয়াবহতা নিয়ে। একথা তো সত্যই যত বলশালীই হোক না কেন তার চেয়েও ক্ষমতাধর কেউ পরবর্তীতে আসবেই।
গান্ধীর চিঠি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির চোখ এড়িয়ে হিটলার অবধি পৌঁছইয়নি ঠিকই। আর পৌঁছলেও আদৌ তা হিটরারের কাছে তার কোনো গুরুত্ব থাকতো কিনা সেটা অন্য প্রসঙ্গ। তবে এই চিঠি দুটো দুই ভিন্ন আদর্শের জাতীয়বাদী দেশনায়কের মনোভাব ও ক্রিয়াকলাপের কিছু অংশের সাক্ষ্য তো বহন করে।

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...