সম্পাদকের পত্র

শ্রীপাঠক-মননেষু,
বর্ণ-গোত্র-ধর্ম-লিঙ্গ-বয়ঃক্রম নিরপেক্ষ হে পাঠক, পত্রের প্রথমেই আপনি আমার অভিবাদন গ্রহণ করুন। আশা করি এই অতিমারী-জর্জরিত দুর্দিনেও আপনি সজীব এবং সজাগ আছেন। ইদানীং প্রায়শ বাংলা সাহিত্যের প্রতি আপনার ক্রমবর্ধমান অনাগ্রহ লইয়া হা-হুতাশ শুনিতে পাই। শুনিয়া অন্যান্যদের ন্যায় আমিও কখনও কখনও নিরাশ ও দুর্ভাবনাগ্রস্ত হ্ইয়া পড়ি। তথাপি কদাচ হতোদ্যম হই না। বিগত পঞ্চবর্ষাধিক কাল ধরিয়া ‘বম্বেDuck’ প্রকাশ করিয়া আসিতেছি এবং ভবিষ্যতেও করিতে থাকিব। এ কৃতিত্ব আমার একেলার নহে। সম্পাদনা কর্মে বাংলা বিভাগে শ্রীযুক্ত বাবু সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীযুক্ত বাবু অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় এবং ইংরেজী বিভাগে শ্রীমতী পূজা রায় মহাশয়া ও শ্রীযুক্ত বাবু প্রদীপ রায়চৌধুরী মহাশয়ের সক্রিয় সহায়তা ব্যতীত ক্রমান্বয়ে এই দ্বিভাষিক পত্রিকা-প্রকাশ-কার্য সম্পন্ন করিয়া যাওয়া আমার দ্বারা সম্ভব হইত না। আমি কৃতজ্ঞ চিত্তে তাহাদের অবদান স্বীকার করিতেছি।
এই সংখ্যার কবিতা বিভাগে অতি অল্প সময়ে যত্নসহকারে অলংকরণ করিয়াছেন শুভানুধ্যায়ী শ্রীযুক্ত বাবু কল্লোল রায় মহাশয়। তাহাকে যে কী বলিয়া ধন্যবাদ জানাইব বুঝিতে পারি না।
পূর্বেই ঘোষণা করা হইয়াছিল যে এতৎ সংখ্যা হইতে পত্রিকা বিষয়-ভিত্তিক হইবে। বর্তমান সংখ্যার বিষয় স্থির হইয়াছিল– ‘পত্র’, অর্থাৎ ‘চিঠি’। আমরা জানি পত্র লিখিবার প্রথা অন্তর্জলিযাত্রায় গিয়াছে। এক্ষণে তাহার মৃতপ্রায় অস্তিত্ব মধুর স্মৃতি-জাগানিয়া রূপেই পরিগণিত! আমাদের জীবন, যাপন, সমাজ ও অভ্যাস হইতে অপস্রিয়মাণ এই ‘পত্র’ এবং তাহার ইতিহাস ও বিচিত্র স্মৃতিকে ঘিরিয়া পত্রিকার এই সংখ্যাটিকে সজ্জিত করিবার প্রচেষ্টা করিয়াছি। আমন্ত্রিত কবি-লেখক এবং যাহারা স্বতঃপ্রণোদিত হইয়া আমাদের আন্তর্জালিক দপ্তরে তাহাদের মূল্যবান লিখন প্রেরণ করিয়াছেন, তাহাদের সকলকে জানাই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ।
বড় সাধ ছিল ওয়েব-ম্যাগ হইয়াও বম্বেDuck একদিন সকল কবি-লেখকদের, যাহাদের মূল্যবান লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হইবে, যৎসামান্য হইলেও, প্রতীকী সাম্মানিক প্রদান করিবার সংস্কৃতির সূচনা করিবে। কী করিয়া সেই দুঃসাধ্য সাধন করিব তাহা না ভাবিয়াই এই সংখ্যা হইতে তাহা পালন করিব এইরূপ সংকল্পের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণাও করিয়াছিলাম। সেই সংকল্প সাধনে যাহারা বিজ্ঞাপন দিয়া সহযোগিতার হাত বাড়াইয়া দিলেন সেই ‘মমতা ফাউণ্ডেশন’, ‘ট্র্যাকঅন কুরিয়ার’ এবং ‘লিওসারা ওয়ার্ল্ড’-এর প্রতি ঋণী রহিলাম।
সাধ্যমত করিলাম, হে পাঠক। আপনার প্রশ্রয় প্রাপ্তিতে প্রফুল্ল হইব। আপনি পাঠ করিলে, পাঠ-প্রতিক্রিয়া জানাইলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মানিব এবং আপনার সামান্যতম তৃপ্তি সাধন করিতে পারিলেই নিজেকে কৃতার্থ ভাবিব। শুভেচ্ছান্তে,
ভবদীয়,
অর্ঘ্য দত্ত, সম্পাদক



উত্তম বিশ্বাস
June 27, 2021 |‘চিঠি’ সংখ্যায় সম্পাদকীয়তে আরও একটু অভিনবত্ব আশা করেছিলাম! কেননা এটুকুর জন্যে মুখিয়ে থাকি। যাইহোক এগিয়ে চলুক টিম বম্বেDuck !!!
দেবাশিস ঘোষ
June 27, 2021 |ভালো লাগল সম্পাদকীয়। অসাধু কালে সাধু বাংলার ব্যবহারে বেশ আকর্ষণীয় হয়েছে। বিষয় যথাযথ।
Pradip Roy Chowdhury
June 27, 2021 |সম্পাদক মন্ডলীর এই সাধু প্রচেষ্টা এবং অর্ঘ্য দত্ত -সম্পাদক মহাশয়ের সাধু ভাষায় লিখিত সম্পাদকীয় , “বম্বে duck “ পত্রিকার এই চিঠি বিষয়ক বিশেষ সংখ্যার মহিমা বর্ধিত করিয়াছে । সেই কারণে পত্রিকার পাঠককুলের পক্ষ হইতে আমার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিলাম ।
যে কোন পত্রিকা’র চলিবার পথে ,নব ভাবনায় প্রাণ সন্চার করিবার প্রয়োজন হয় । সম্পাদক মন্ডলী তাহাই করিয়াছেন । আমার শুভকামনা সাথে আছে ।
Mausumi Chaudhuri
June 27, 2021 |সাধু ভাষায় লেখা চিঠিতে সম্পাদকীয়টি ভাল, তবে আগের সম্পাদকীয়গুলো যেন বেশি আকর্ষনীয় ছিল।আপনার গদ্যের আমি একনিষ্ঠ ভক্ত।
Ishita Bhaduri
June 27, 2021 |আমার তো সম্পাদকীয় পছন্দসই লাগলো।
গোরাচাঁদ চক্রবর্তী
June 29, 2021 |সম্পাদক মহাশয়ের সম্পাদকীয় নবকলেবরে যথার্থই হইয়াছে। চিঠি বিষয়ক সংখ্যা খুব ভালো লাগিয়াছে। বিশেষত ঈশিতা ভাদুড়ী মহাশয়ার লেখাটি অতি মূল্যবান বলিয়া প্রতীত হইতেছে। আর যাহা ভালো লাগিয়াছে তাহা হইল কবিতা বিভাগের অলংকরণ। কল্লোল মহাশয়ের প্রশংসা না করিয়া থাকা যায় না। অলংকরণ তখনই সার্থক হয় যখন, অঙ্কনের সাথে লেখার সাযূজ্য থাকে। কল্লোলবাবু সেই কার্যটি যথার্থই করিয়াছেন।
সুব্রত মণ্ডল
August 19, 2021 |খুব ভালো লাগলো এই সম্পাদনা