‘ম’-কার বিষয়ক
তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায়

এ এক অমোঘ খেলা। হিতাহিত বোধ মুছে যায়।যেটুকু বসন হয়ে রয়ে গেছে খোলসের মায়া,সব খ’সে প’ড়ে গিয়ে শুধু জ্ঞান থাকে; নিরুপায়সাধকের সহস্রারে ঘাঁটি গাড়ে ষোড়শীর ছায়া।
১
নেশাপন্থা বামাচার। সাধনায় দেহ মূর্তিবৎ।ব্রহ্মরন্ধ্রে ধারাস্রোত। আলোড়িত ভূত, ভবিষ্যৎ।আধার পদ্মের দল, কুলকুণ্ডলিনী বশংবদ।আদ্যাশক্তি ইষ্টরূপ। আজ্ঞাচক্রে বয়ে যাচ্ছে মদ।তাকেই অমৃত মানি, মানি তাকে আদি গূঢ় রস।চিদাকাশে সাদা মেঘ ঢেকে দেয় অলীক তমস।
২
ক্ষুধাইষ্ট মহাদেবী, নামান্তরে ‘মা’ শব্দ রসনা।ক্ষুধাগর্ভে বাক্ ঢালো, বাক্য ঢালো, প্রিয় পদ্মাসনা।মৌনব্রতে শব্দ অন্ন, সেই অন্ন খেয়ে ফেলা রোজ।রসনাসম্ভূত বাক্য মূল মাংস, সে-মাংসের ভোজ।সমস্ত ফলের মোহ তোর মুখে ঠুসেছি, বিভূতি।ব্রহ্মের এষণা হেতু বাক্যমাংসে সাজানো আহুতি।
৩
যমুনা, গঙ্গার রূপে বয়ে যাচ্ছে ইড়া ও পিঙ্গলা।শাক্তমতে আত্মমাঠ ব্রহ্মচাষে সুজলা, সুফলাযমুনা, গঙ্গার স্রোতে দুটি মাছ প্রশ্বাস, নিঃশ্বাস।সে-দুটি মাছের গতি নিয়ন্ত্রণে ধরে রাখা রাশ।মৎস্যগতি ইচ্ছাধীন, পুষ্টি আনে কুম্ভকের খেলা।সুষুম্নানাড়ির পথে ভেসে যাচ্ছে উরগের ভেলা।
৪
সহস্রার মহাপদ্মে আত্মার পারদ দুলে ওঠে।কোটি সূর্য তেজ তার, কোটি চন্দ্রে শীতলতা জোটে।সে-পারদ মুদ্রাপ্রাণ, বুকে রাখে স্থির কুণ্ডলিনী।মন্ত্রবীজ উচ্চারণে জেগে ওঠে মায়াস্বরূপিনী।অসাধুসঙ্গের কাম ছিঁড়ে ফেলে সাধুসঙ্গে গিয়েমুদ্রার সাধনা জাগে রিপুবহ্নি শরীরে নিভিয়ে।
৫
বায়ুরূপ লিঙ্গ শেষে শূন্যরূপ যোনির গভীরে।রমণে কুম্ভক ফের, সৃষ্টি-স্থিতি-লয় ধীরে ধীরেযে-যার সময় বুঝে আদিম লীলায় মিশে যায়।এই এত জপ, তপ, মোক্ষপথে ছুটে যেতে চায়।তত্ত্বাদি ন্যাসের নাম আলিঙ্গন ষড়ঙ্গসাধনে।ধ্যানের চুম্বন নাম; শীৎকারের স্বর আবাহনে;দক্ষিণান্ত রেতঃপাত; রমণ জপের মোহঘর।অনুলেপনের নাম নৈবেদ্য; মৈথুনের অপরনাম রাখি মহাক্রিয়া। সহস্রারে ব্রহ্মরূপ জাগে।
জীবাত্মা সচ্চিদানন্দে মিশে যায় দেবীর সোহাগে।
অলংকরণঃ কল্লোল রায়



Kaushik Sen
June 29, 2021 |বিস্ময়!