চারটি কবিতা
সন্দীপন দাস

১. আশিয়ানা
আর এভাবেই তুমি বারবার ফিরিয়ে দাও রোদজন্ম…
গায়ে মেখে নাও কাদা আর বালি
তাই দেখে সমুদ্রের খুব অভিমান হয়;
একটা মরা পাখি ভোরবেলা পড়ে থাকে তোমার
দোরগোড়া জুড়ে
যে দোরগোড়া অবধি পৌঁছাতে পারে না বশীভূত আলো, গোপন মন্ত্র…
আমার বুক থেকে উড়ে যায় হাজার হাজার বিষাদ রঙের প্রজাপ্রতি
ওই সমুদ্র, পাখির মৃত্যু, তোমার আবেশী দোরগোড়া ছুঁয়ে ওরা হয়ে ওঠে ওভারব্রিজের শীত
পাখিদের শহরে যেমন গাছেদের অসুখ…
এমন একটা আগুন…
এমন একটা তুরুপের তাস…
তুমি আজও ঘুম পাড়াতে পারোনি খিদের সাতকাহন, অন্ধকার, পরাজয় কিংবা এ কবিতাকে…
আর ঠিক এভাবেই তুমি তাই বারবার ফিরিয়ে দিয়েছো জীবন…
২. জীবাশ্ম
একটা অসুখ তোমায় সেই থেকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে
অপ্রিয় জন্মের মতো, অশান্ত আগুনের মতো…
তবু তুমি খুঁজে চলেছো সন্তাপহীন আলো, নীরব অভিমান, একটা আস্ত বর্ষার ছাদ…
অবেলায় আঁকড়ে ধরতে চাইছো মৌর্য সম্রাটের অহংবোধও…
কিন্তু তবু তোমার মুখোশ খসে যাচ্ছে…
খসে যাচ্ছে ওই অপ্রিয় জন্মের জড়ুলও…
একটা অসুখ তোমায় সেই থেকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে
হলুদ নদীর মতো, অস্থির বাংলাভাষার মতো…
৩.আলো
রোদ ওঠেনি…
এক- একটা মাইলস্টোন। তোমার পুরোনো ক্ষত…
আগুনের ঠিকানা ভুলে যেতে চেয়ে বৃষ্টিপুরাণের চর্চা
এই পাহাড়ী পথ তোমায় আত্মহত্যা দিতে পারবে না
জেনেও রডোডেনড্রন এর ভিড় জুড়ে তুমি ঢেলে দিলে শরীরের নীল বিষ…
সমস্ত জাদুজানলা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যায় প্রজাপ্রতি…
তোমার মনখারাপ হয়, চশমার কাঁচে জমতে থাকে
পারদের ওঠা-পড়া;
হিলস্টেশান জুড়ে সন্ধে নামে…
আবারও বিষ উগড়ে দেবার জন্য তুমি ছাতা হাতে
খুঁজতে থাকো মায়াবী আয়না…
একটুও রোদ ওঠেনি!
৪. পরিযায়ী
অপেক্ষার ওপারে তোমার জলপাই রঙের বাড়ি।
দূর থেকে দ্যাখা যায়…
কারা যেন চুপিচুপি ভোররাতে তোমার বালিশের
তলায় লুকিয়ে রেখে যায় আলোফুল;
তুমি আয়নায় চুল আঁচড়াও
আর আড়চোখে দ্যাখো কিভাবে বালিশের তলা থেকে উঠে আসছে প্রতিদ্বন্দ্বী শীতকাল…
অলংকরণঃ কল্লোল রায়


