চারটি কবিতা
রুবেল মণ্ডল

১ চ্যাপলিন
চ্যাপলিন জানো, তোমাকে দেখে
চমকে উঠেছিলাম প্রথমদিন
মা বলেছিল—
তুমিও নাকি মানুষ…
আমাদেরই মত। সাজটাই শুধু ওইরকম।
বাবা হেঁটে দেখিয়েছিল দু’একবার।
আজ এতগুলো রাত পেরিয়ে
এই পুষ্ট বুদ্ধি নিয়েও
তোমাকে মানুষ ভাবতে পারছি না আবার।
২ মেনোপজ ও অন্যান্য
মায়ের শাড়ি পরে কৈশরে দাঁড়িয়ে থাকা
মেয়েটার জন্য একটা কবিতা লিখেছিলাম।
সেই কবিতায় ছিল প্রেম। ভালোবাসা। আর তীব্র আবেগ।
মেয়েটা আঙুল চেটে খেয়েছিল।
অল্প দামের শাড়ি পরে বার্ধ্যক্যে শুয়ে থাকা
বৃদ্ধার জন্য একটা কবিতা লিখেছিলাম।
সেই কবিতায় ছিল বিরক্তবোধ। বাতের ব্যামো। আর সন্তান-সন্ততির ভালবাসা।
বৃদ্ধাও কবিতাটা গোগ্রাসে গিলে ঢেকুর তুলেছিল।
কেবল যৌবনের শেষ পর্যায়ে যে মেয়েটা দাঁড়িয়েছিল—
যে মেয়েটার মেনোপজ ঘটে গিয়েছে ইতিমধ্যে
তাঁর জন্য কাঁপাকাঁপা হাতে লেখা কবিতায় রেখেছিলাম শুধুমাত্র আপন পুরুষের ভালবাসা।
সংশয়ের বশে মেয়েটা
সেই কবিতার উপর দিয়ে জুতো প’রে হেঁটে চ’লে গেছে।
৩ রাষ্ট্র ও আমরা
ঈশ্বরের হাতে বন্দুক থাকে না বলে
তাঁকে ডরাই না আর
তবে মাঝেমধ্যে অপ্রসন্ন মনে হলে
একটা মুরগির বিনিময়ে সহজ চুক্তি সেরে নিতে হয়
ঈশ্বরও খুশি হয়ে যায় আর আমরাও
শুধুমাত্র রাষ্ট্র অপ্রসন্ন হলে
আমরা চিন্তায় পড়ে যাই
বেলপাতা ফুল-চন্দন দিয়ে
সোহাগ ভরে পুজোর আয়োজন করি
আর ঠিক সেই মুহূর্তেই
ওঁরা আমাদের প্যান্টের বোতাম খুলে দেয়
৪ প্রেমিকা বাতাবী
জানালার পাশে যে বাতাবী গাছ
আমি তাকে ডাকি পাকুড় বলে।
তার সৌন্দর্যে ঘা লাগলে
ফুঁপিয়ে ওঠে গাছটি।
কথাও বলে না দু’-চারদিন।
আমি তবুও বিরামহীন—
পাকুড়
পাকুড়
পা-কু-ড়!…
একসময় ঝরঝর করে কেঁদে ফেললে
সজোরে হেসে উঠি আমি।
হাসতে—হাসতে—হাসতে
ফুসফুস ছোট হয়ে এলে
মৃত্যু ধেয়ে আসে।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে
শোঁ-শোঁ শব্দে আমার ভেতর
ঢুকে পড়ে সে বাতাসের মত।
অলংকরণঃ কল্লোল রায়


