চারটি কবিতা
ঐশী চক্রবর্তী

ইন্দ্রজাল জানেন যিনি
দ্যাখো আমাকে, দেখতেই থাকবে প্রিয়সঙ্গমে
যতক্ষণ না হাত তুলি, মৃত্যু থামাই
এসব গুণ অধীনস্থ করেছি — ইচ্ছে বা অনিচ্ছে
জানানোর স্পর্ধা নেই— ঐন্দ্রজালিক আমি—
বাসবপুরুষ।
তোমার কানে কানে অত্যাশ্চর্যে বলব —
‘ব্যাধি ভাঙতে পারি, আশ্চর্যজনক, তাই না!’
ছলনায় রেখে দেব, বসন্তবেণু আসবে মায়া-
পারিজাত, চন্দনের বরচিহ্ন, নিমঘুম,
তীক্ষ্ণ তরুণে।
অমরাবতীতে হবে স্মৃতির মন্থন
ঐন্দ্রজালিক আমি—
বাসবপুরুষ।
বাসবপুরুষ
পাঁজর আড়ালে যদি কুহকেরা ধরা দিয়ে যায়
হাতের মুদ্রায় ভোলাব সমর্পণ, ভুলবে দুরন্ত মেঘ
কেন ঝরে পাতালের অববাহিকায়!
অমন দ্রাঘিমা-চোখে সংরাগ খুঁজি
অমন দ্রাঘিমা-চোখ নিজমুখে
আকৃষ্ট করে
এবং আমার অমোঘ শৌর্যে
ছলনায় মোহাতুরা ঋষিপত্নী
নিদাঘ দ্যাখে বজ্র ও বাণে
আমাকে না দেখলে বিষাদাচ্ছন্ন
কেটে যাবে নদীতীর— জলাভূমিখানি
বিশ্বাস না হয়, ইন্দ্র বলে ডাকো,
চোখের সম্মোহনে মৃত্যুকে আনি।
চোখের সম্মোহনে মৃত্যুকে আনি
দূর থেকে ছায়াগ্রহ, কাছে গেলে তিথিহীন বেদনাদায়ক
তিথিহীন অনুচ্চার
শঙ্খ লাগে গ্রহণে-গ্রহণে!
সে বলেছিল, সুখ দেবে
আনমনা প্রিয়দর্শিনী
কাচের মানুষ পেলে বেঁচে ওঠে মীনগর্ভিণী।
মানুষের ঘরবাড়ি, পুতুলের ভারও
ঠোঁট কেটে সাময়িক
মধুগন্ধি বিয়াস হয়ে যাক!
কথায় কথায় রাগ
এদিকে, কণ্ঠা বেয়ে জল নামে— বিগত কয়েকদিন
মরে আছি
পৃথিবীকে সারশূন্য করে। শঙ্খ লাগে গ্রহণে-গ্রহণে!
শঙ্খ লাগে গ্রহণে-গ্রহণে
চিঠি লিখেছিলাম, একদিন
ধূসর পায়রা আর নিশানের স্থলপদ্মকালে
বিষম ঋতুতে ফেরো গভীর দ্যোতনা
কাছে এসে, পাতায় পাতায় ভরো স্ফুলিঙ্গ
একবার জ্বলে গেলে তবে,
বারবার ভালবাসা হবে!
দ্বিতীয় প্রেমিক হল বহুকাল তৃষিত বন্দর
দুই হাতে ক্ষত ঢাকে— শান্তিতে শোয়
মেঘের নির্যাস তাঁর মেঘ-তিষ্য বুকে
আমার ঊষায় আছে যে,
সন্ধ্যায় তাঁকে ঠেলতে পারি না,
যাও বঁধু, ফিরে এসো
নিরুপায় হয়ে।
অলংকরণঃ কল্লোল রায়


