পুনরপি
ঈশিতা ভাদুড়ী

(১)
রানার ছুটেছে তাই ঝুমঝুম ঘন্টা বাজছে রাতে
রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে,
রানার রানার চলেছে রানার!
রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার।
দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার-রানার
কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার…
— হেমন্ত মুখপাধ্যায়ের কন্ঠে এই গান আমার কিশোরীবেলার গান, যখন আমার কাছে পত্রের আলাদা কোনো মানে ছিল না। এই গান শুনতে শুনতেই আমার বেড়ে ওঠা, আমার পত্রের মধ্যে ডুব দেওয়া, সেই পত্রের মাধ্যমে অন্তরের ভাব-প্রকাশ, রাস্তার দিকে অপলক তাকিয়ে ডাকপিওনের অপেক্ষা…
সেইদিনের সেই লাল ডাকবাক্সের অপরিহার্যতা আজকে ইমেইলের আড়ালে হারিয়ে গেছে। সেদিনের সেইসব চিঠিপত্রের মাধ্যমে যে উপলব্ধির গভীরতা ও আন্তরিকতার প্রকাশ ছিল, সেসবও বা কোথায়! সেদিনের সেই চিঠিপত্র হাতে নিয়ে রক্তে শিরশিরানি অনুভব হারিয়ে গেল যখন আমাদের জীবন থেকে একে একে, তখন সেই অভাববোধ থেকেই তো লিখে উঠি –
গোপন খামে ব্যক্তিগত হরফে যে অক্ষর বিনিময় হত…
রহস্যে ও মায়ায় যে স্পর্শ থাকতো নির্ভুল …
তারা কেন মিলিয়ে গেল অর্থহীন কুয়াশায়
কেন তারা উড়ে গেল তুমুল হাওয়ায়…

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন – যারা ভালো চিঠি লেখে তারা স্বপ্নে জানলার ধারে বসে আলাপ করে যায়। তার কোনো ভার নেই। বেগও নেই। স্রোত আছে…

(২)
তুমি এলে সূর্যোদয় হবে।
পাখি জাগে সমুদ্রের ঘাটে
গন্ধের বাসরঘর জেগে ওঠে উদাসীন ঘাসের প্রান্তরে
হাড়ের শুষ্কতা, ভাঙা হাটে।…
— এমন অনবদ্য লাইন পড়ে যে কিশোরী পাঠ্যপুস্তকের বাইরে প্রথম কবিতা পড়া শুরু করেছে, সে কেমন ও কতখানি মন্ত্রমুগ্ধ হতে পারে সেকথা ব্যক্ত করার মতো অক্ষর নেই আমার। গুণমুগ্ধ পাঠকের প্রতি পূর্ণেন্দু পত্রীর যে দৃষ্টি, আমি সেইটুকুই বলতে চাই। এবং আমার লেখাজোকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কতখানি, সেটুকুও।
তখন সতের বছর বয়েস আমার। ‘তুমি এলে সূর্যোদয় হয়’ বইটি হাতে এল। আর আমার উন্মাদ-অবস্থা। এমন সব কবিতা আছে সে বইতে যেগুলি সতেরো-আঠারো বছরের পক্ষে ‘স্ফীত বন্যাজল’।
সবাই মানুষ থাকবে না।
মানুষের কেউ কেউ ঢেউ হবে, কেউ কেউ নদী
প্রকাশ্যে যে ভাঙে ও ভাসায়।
— তাঁর কবিতা পড়ে যতখানি মুগ্ধতা, তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়ে আরও বেশি মুগ্ধতা। চিঠির পর চিঠি তাঁকে চিনতেও সাহায্য করেছিল অনেকটা। প্রথম চিঠি পেয়ে খামটা হাতে নিয়ে আমার এমন শিহরণ হয়েছিল যে, অনেকক্ষণ প্রায় সারা দুপুর খামটা না খুলে হাতে ধরে রেখেছিলাম। খুললাম যখন তখন আরেক বিস্ময়। এমন দীর্ঘ এবং আন্তরিক চিঠিও তো প্রাপ্য ছিল না আমার, সেসব দিন ছিল কমলা-হলুদ-সবুজ স্বপ্নের মতো।
বুকের মধ্যে বাহান্নটা মেহগনি কাঠের আলমারি।
আমার যা কিছু প্রিয় জিনিস, সব সেইখানে।
সেই সব হাসি, যা আকাশময় সোনালী ডানার ওড়াওড়ি
সেই সব চোখ, যার নীল জলে কেবল ডুবে মরবার ঢেউ
সেই সব স্পর্ম, যা সুইচ টিপলে আলোর জ্বলে ওঠার মতো
সব ঐ আলমারির ভিতরে…
— শুধু কবিতা নয়, ব্যক্তি পূর্ণেন্দু পত্রীও ছিলেন অত্যন্ত বড় মাপের। তাঁর আন্তরিকতা ছিল অতুলনীয়। একসময় আমি ‘ঠুংরী’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতাম, ‘ঠুংরী’ নামাঙ্কনটি করে দিয়েছিলেন স্ব-ইচ্ছায় , যদিও এত পত্রিকার ভিড়ে নতুন আরেকটি পত্রিকা প্রকাশের বিপক্ষে ছিলেন তিনি। পূর্ণেন্দু পত্রী এত গুণী মানুষ, তাঁর গুণে মুগ্ধ না হয়ে পাঠকের যেমন উপায় ছিলনা, সেরকমই তাঁরও পাঠকের প্রতি প্রশ্রয় কম ছিল না। নাহলে প্রতিটি চিঠিই এত আন্তরিক কেন হবে! কেনই বা অনুরোধে আমার মতো সামান্য মানুষের প্রথম কবিতার বইয়ের প্রচ্ছদ তিনি করে দেবেন, কেনই বা তাঁর অমূল্য পেন্টিং থেকে দুটি আমাকে উপহার দেবেন! শুধু আমি নই, অনেক পাঠক-পাঠিকাই তাঁর প্রশ্রয় পেয়েছে।
…আমি মনে করি আজ যে আমি কবিতা লিখি, সে বিষয়ে যদি কারও কারও কিছু কিছু কৃতিত্ব থাকে তবে তাঁদের মধ্যে একজন অবশ্যই পূর্ণেন্দু পত্রী, বলা ভালো তাঁর কবিতাই উদ্বুদ্ধ করেছে আমাকে কবিতা লিখতে।

(৩)
…‘সন্তোষ ঘোষ নই, সন্তোষ কুমার ঘোষ আমি’ – আনন্দবাজারে তাঁর ঘরে বসে মজা করে বলেছিলেন। হাতে ছড়া-টড়া, মুখে সেই সজীব হাসি। আমি তাড়াহুড়োয় ‘কুমার’টি বাদ দিয়ে তাঁর নাম লিখেছিলাম। ফলে তাঁর রসিকতা – ‘কৌমার্য মোটেই হারাইনি, যদিও বাড়িতে নীহার আছে’। তখনও নীহার বৌদির সঙ্গে পরিচয় হয়নি। সন্তোষ কুমার ঘোষকেই তখনও জানা হয়নি কিছুমাত্র। কিছু পত্র-বিনিময় বা বার-দুয়েক সাক্ষাৎ যে তাঁর মতো অসাধারণ ব্যক্তিত্বকে জানার পক্ষে যথেষ্ট নয়, সেসব আমি ধীরে ধীরে বুঝেছি। সেইসব প্রতিটি মুহূর্ত অমূল্য সম্পদ।

আগেই বলেছি স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের কথার জের টেনেই তাঁকে লিখেছিলাম এবং দ্রুত জবাবও পেয়েছিলাম। আবার চিঠি, আবার উত্তর। বলা বাহুল্য চিঠির জবাব পেয়ে সাহস আরও বেড়ে গেল। বারংবার বলা সত্ত্বেও ফোন না করেই একদিন আনন্দবাজার অফিসে গিয়ে হাজির। তখন আনন্দবাজার অফিসে প্রবেশ নিয়ে এত বিধিব্যবস্থা ছিলনা। তবে আমি কিনা যাচ্ছি সম্পাদকের ঘরে! রিসেপশন থেকে ফোন করা মাত্রই লোক পাঠিয়ে নিয়ে গেলেন তাঁর চারতলার ঘরে, সেই ঘর এখন আর নেই।
তখনও মুখোমুখি পরিচয় ঘটেনি, সেই প্রথম দেখলাম, পরনে ধুতি-পাঞ্জাবী, শিশুর মতো চঞ্চল, অন্যরকম মানুষ একজন। আমাকে, আমার মতো সামান্য এক মানুষকে দেখে তাঁর খুশীর আন্তরিকতা সারা ঘরে কেমন ছড়িয়ে পড়ল আমি আজও দেখতে পাই। কত রকম বাক্যালাপে ভরে উঠল ঘর, “বলো… তোমার খবর বলো… ছড়ার বই প্রকাশ করছো, ভূমিকা লিখবে না? ভূমিকা লিখতে গেলে আমি কিছু বলতে পারি। শোনো ছড়া দু-রকম হয়। একরকম হলো আশ্চর্য কল্পনায় গড়া, আরেক রকম হলো শব্দের মিল। সুকুমার রায় আর রবীন্দ্রনাথ দুজনের ছড়া পাশাপাশি দেখলেই বুঝতে পারবে…”
“এখন এখানে যারা আছে তারা তো বিশেষ কেউ রবীন্দ্রনাথকে দেখেনি। দু’চারজন বাদে। সাগরবাবু দেখেছেন, আমি দেখেছি … তিনি অত্যন্ত সুপুরুষ ছিলেন। সেই তিনিও বঙ্কিমচন্দ্রকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন, জীবনস্মৃতিতে পড়েছো নিশ্চয়ই … তোমাকে ‘বোর’ করছি না তো? জানো তো, রবীন্দ্রনাথের মতো সুপুরুষ আরও অনেকেই ছিলেন, তবুও তিনি বিদেশের পথে হেঁটে গেলে অনেক বিদেশি মহিলা মুগ্ধ হয়েছেন। তাঁর প্রতি অনেক মেয়ে আকৃষ্ট হয়েছিল। তিনি সেই সব আকর্ষণ মাড়িয়ে হেঁটে চলে গেছেন। আবার অনেক সময়ে তিনি মরমে মরেছেন। তার পরিচয় রবীন্দ্রনাথের গানে, কবিতায় আছে। বিশেষভাবে কিছু জানা যায়নি অবশ্য। আমি তোমাকে ঠিক বোঝাতে পারছি না …”
হঠাৎ বললেন, “তোমার একটা লেখা পড়াও না!” তখন বয়স অল্প, সঙ্গে কবিতার খাতা থাকতো। ‘শব্দেরা কথা বলে’ নামে একটি দীর্ঘ কবিতা ছিল। পড়লেন। ঐ সামান্য লেখার মধ্যেও আকণ্ঠ রস অনুভব করলেন। বললেন… “তোমার অনুভূতি তো খুব গভীর, প্রকাশও ভীষণ সূক্ষ্ম … তোমার ভাষা অভিধান ছাড়িয়ে চলে গেছে। জানো তো অভিধানের ভাষা সমতলের, তোমারটা তার ওপরে, মানে…. মনে করো আমি আমার বাড়ীর ব্যালকনিতে দাঁড়ালে পৃথিবীর কিছুটা দেখতে পাই, ছাদে দাঁড়ালে আরও অনেকটা।” তিনি সন্তোষকুমার ঘোষ, তিনি ‘নতুনত্বের উপাসক’। তাই তাঁর স্বভাব মতো প্রশংসা করলেন অনেক বেশী, আমি জানি না সবটুকু আমার প্রাপ্য ছিল কিনা। কিন্তু লেখালিখির শুরুতে সেই প্রাপ্তি আমার কাছে অমূল্য সম্পদ আজও। আমি অবশ্য তখনও জানতাম না সন্তোষদা নতুনদের লেখা পড়তে সর্বদা আগ্রহী ছিলেন এবং ভালো লেখা পড়ে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতেন, আমি এসব কিছুই জানতাম না তখন। সন্তোষকুমার ঘোষকে আমি খুব স্বল্প সময় পেয়েছি। যতটুকু দেখেছি ততটুকুতে তাঁকে আগাগোড়া জানা অত্যন্ত দুষ্কর। ঈষৎ তির্যক ভঙ্গিতে তাঁর ঠোট চাপা হাসি, তাঁর অসামান্য বাকপটুতা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, সব মিলিয়ে উজ্জ্বল এক ব্যক্তিত্ব, অত্যন্ত সজীব এক মানুষ। সন্তোষকুমার রবীন্দ্রনাথে আচ্ছন্ন ছিলেন, আমি ধীরে ধীরে সন্তোষকুমারে আচ্ছন্ন হতে থাকলাম।
সন্তোষদা মুহূর্তের মধ্যে প্রসঙ্গ বদলে ফেলতেন। এখনই হয়তো রবীন্দ্রনাথ নিয়ে কথা বলছেন, তারপর হয়তো আমার কবিতা, তারপরেই “তোমার সঙ্গে স্বাতীর পরিচয় আছে?” 
—হ্যাঁ, স্বাতীদি বলেছিলেন আমার নামটা আপনার খুব প্রিয়।
—তার বানানটা আলাদা, অর্থাৎ ইশিতা। তোমাকে লিখেছিলাম বোধহয়। আসলে আমি একটি মেয়েকে ভালোবাসতাম। তাকে আমি ‘ইশিতা’ বলতাম, যদিও তার নাম অন্য ছিল। স্বাতী সেসব জানে। আমার ‘ইশিতা’ মোটেও কোনো রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়িকা নয়। অধিকাংশ রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়ক গায়িকার সঙ্গেই আমার খুব ভাল সম্পর্ক। আসলে আমি রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসি, তাঁর সব কিছুই… আমি যে মেয়েটিকে ভালোবাসি তার নাম বললে তোমরা চিনবে না, সে খুব সাধারণ একটি মেয়ে। সেই মেয়েটির সঙ্গে বছর দেড়েক কোনো যোগাযোগ নেই … যাক্ ওসব কথা থাক্। তুমি আমার কবিতা পড়েছো?
বললেন, “একদিন এসো আমাদের বাড়িতে। আমার কাছে কোনো মেয়ে এলে মোটেই আমার স্ত্রী আপত্তি করেন না।” হেসে ফেললাম, “এই ভরা ষাটেও আপত্তি?” হাসির জবাবে হাসি, “না. চল্লিশেও আসেনি।” পরে অবশ্য বাড়ি গিয়ে নীহারবৌদির সঙ্গে পরিচয় যখন হলো, দেখলাম যথার্থই বলেছেন সন্তোষদা। খুবই সহজ সরল ভালোমানুষ। 
সন্তোষদার কাছে আমার অনেক কিছুই শেখার ছিল। একবার কোনো একটি গল্পে লিখেছিলাম, ‘প্রতি রাতে কিংশুকের গন্ধ নিই’। সন্তোষদা পড়ে বললেন, “ভুল লিখেছো, লাল ফুলেরা সচরাচর গন্ধবিহীন হয়। তুমি বরং ওখানে লিখো, কিংশুকেরও গন্ধ নিই। অর্থাৎ তুমি তোমার অনুভূতি দিয়ে যেটা নেই সেটাও অনুভব করছ।”
একবার কোনো এক লেখকের লেখায় ‘শ্রদ্ধাম্মিতাসু’ শব্দ পেয়ে বলেছিলেন, “শব্দটি সঠিক নয়, ক্লীবলিঙ্গ হয়ে যাচ্ছে, অনেকে ‘শ্রদ্ধাস্পদাষু’ লেখে, সেটিও সঠিক নয়।”
তখন ‘সানন্দা’ পত্রিকার জন্ম হয়নি, সবেমাত্র ভাবা হচ্ছে আনন্দবাজার থেকে একটি মেয়েদের পত্রিকা প্রকাশ করার কথা, সন্তোষদা হবেন সম্পাদক। সেটি আর তাঁর জীবদ্দশায় সম্ভব হয়নি। তবে সন্তোষদার সম্পাদনায় পত্রিকাটি নিশ্চয়ই অন্যরকম হতো, অনেক গভীরতা থাকতো।
শেষ জীবনে সাংবাদিকতার জন্যে তিনি সাহিত্যকে অবহেলা করেছিলেন। তার জন্যে তাঁর নিজের দুঃখ আমাদের চেয়েও শতগুণ ছিল। একদিন প্রশ্ন করেছিলাম, “আপনি বড় কিছু লিখছেন না কেন?”
—সেইটাই দুঃখ। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “আমার হার্টের অসুখ, তার ওপর আমার অফিস আমায় চেপে ধরেছে। ইচ্ছে আছে মরার আগে শেষ একটা উপন্যাস লিখে যাবো, যার পরে আর কিছু না লিখলেও চলে।” আমাদের দুর্ভাগ্য, ‘শেষ নমস্কার’-এর পর সেরকম আর কিছু লিখে যেতে পারেননি সন্তোষকুমার ঘোষ।
সন্তোষদা স্বভাবে খুব রসিক ছিলেন। ‘ঠুংরী’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করবো বলে তাঁর কাছে কবিতা চাইতে গিয়েছি। তিনি বললেন “ঠুংরী বেশ একটা ছেলের নাম। সে প্রেম করবে চিংড়ি নামের একটি মেয়ের সঙ্গে। কি বলো?” সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য রসিকতা বাদ দিয়ে বললেন, “তুমি যাই বলো, নামটা তেমন গভীর হয়নি।” আমি তখন পত্রিকা বার করার আনন্দে আছি। তাঁর কথা মানতে পারছি না। বললাম, “কি যে বলেন, ঠুংরীর মধ্যে গভীরতা পাচ্ছেন না?” হাসতে হাসতে মাথা নেড়ে বললেন “পাচ্ছি, দুষ্টুমি মেশানো। অর্থাৎ খেয়াল যদি চওড়া রাজপথ হয়, ঠুংরী তবে সরু গলি।” এমন সুন্দর উপমা আমার বোধোদয়ের জন্যে অবশ্যই যথেষ্ট উপযুক্ত ছিল।
একজন মানুষ একই সঙ্গে এত গভীরতা এত চঞ্চলতা নিয়ে যে বাস করতে পারেন, তাঁকে না দেখলে জানতাম না। তাঁর কথা ভাবলে কন্যাকুমারিকার সমুদ্রের কথা মনে পড়ে। তাঁর কথা মনে করেই একটি কবিতায় কখনো লিখেছিলাম, “কন্যাকুমারিকা সমুদ্র তুমি, অস্থিরতা একমাত্র তোমারই প্রাপ্য”।
সন্তোষদা শিশুর মতো চঞ্চল যেমন ছিলেন, খুব অভিমানীও ছিলেন। কত সময় শিশুর মতো অভিমান করে দূরে থেকেছেন, আবার কাছে গেলে বুকে টেনে ‘বড়’র মতো মাপ করেছেন। যদিও আমি তার অভিমানের কারণ কখনো হইনি, কিন্তু অনেক বড় বড় মানুষের ওপর সময় অসময় অনেক অভিমান করতে দেখেছি আমি তাঁকে। 
…সন্তোষদা কথা বলতে খুব ভালোবাসতেন। বলতেন, “অমুক রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা করবে কেন? আমি করতে পারি। কেননা, আমি সম্পূর্ণ রবীন্দ্রনাথ পড়েছি। শুধু পড়েছি তাই নয়, রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুভব করেছি”।

4 Comments

  • সুব্রত মণ্ডল

    Reply August 20, 2021 |

    ভালো লাগলো বেশ

    • Ishita Bhaduri

      Reply August 20, 2021 |

      ধন্যবাদ

  • প্রদীপ ঘোষ

    Reply August 20, 2021 |

    সমৃদ্ধ হলাম। ভালো লাগলো ভীষণ-ই

    • Ishita Bhaduri

      Reply August 20, 2021 |

      ধন্যবাদ

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...