গুচ্ছ কবিতা
সোমা দাস

কেমন আছো

কেমন আছো, এ প্রশ্ন অবাঞ্ছিত
এই যে উদ্যান ভরা সৌন্দর্য ছুঁয়ে বেঁচে আছি
এই যে অনুভূতিতে শান্ দিতে দিতে
শানিত হয়ে উঠছে আমার চার প্রহর

এ সবই তোমার জন্য

এই যে বদলানো চরিত্রে অভিনয় করে
সকলের নজর কাড়ছি
এও তো তোমারই জন্য

কোনোদিন দেখা হলে প্রশ্ন ক’রো-

‘কি করে এত ভালো থাকতে পারো’ ?

মা

এভাবেই উষ্ণতা পেলে
ভালোবাসা গলে যায়,
রজঃস্বলা হয়ে ওঠে মাটি ছুঁয়ে
জন্ম দেয় কিছু অনাথ ভালোবাসার,

যারা মা হিসেবে কেবল নদীকেই জানে!

আত্মসমীক্ষা

আত্মসমীক্ষা করতে গিয়ে বুঝেছি
আমার ভিতর এক-
মেরুদণ্ডহীন কেন্নোর বাস, যে
একটু ছোঁয়া পেলেই
গুটিয়ে নেয় দেহ!
এই ছোঁয়া বাঁচাতে বাঁচাতে
ফিরে আসি আত্মার কাছে!

সেইসব দিন

সেইসব দিনগুলোতে কান্না এলে
পড়ন্ত বিকেলের সূর্যটা  একটু বেশি লাল হয়!

পূর্ণতা আর অপূর্ণতার মাঝে যে
বনজর জমি, তাতে-
আপোষি সংলাপগুলো তেতেপুড়ে
লৌহবৎ সাহসী হয়ে ওঠার লড়াইয়ে
দিনরাত পরিশ্রম করে চলে! তবুও-

সেইসব দিনগুলোতে কান্না এলে
নিঃস্ব কাঠ-টগর গাছটার কাছে গিয়ে দাঁড়াই
যার গা থেকে কেবল-
একটিই হলুদ পাতা দোল খায়!

কাঙালি ভোজন

আমি কাঙালি ভোজনের দলে গিয়ে বসি
ওখানে গরম গরম সুখ দেয়
এক নিঃশ্বাসে যতটা সম্ভব, গিলে নিই
বড্ড দামি!

বিরহ যাপিত শীর্ণ দেহ
আবার একটা কাঙালি ভোজনের অপেক্ষায় থাকে,
জমতে থাকে অ-সুখ
ভারি হয়ে আসা চোখের পাতায়!

পথ

সহজ পথেই হেঁটেছি, ছুঁতে পারিনি গন্তব্য।
অবশ্য পথ বদলে নিলেও যে
লক্ষ্য ছুঁতে পারতাম,
তেমন কোনো গ্যারান্টি ছিল না।

আসলে সব পথেই হাঁটতে গিয়ে দেখেছি
ভেতর থেকে আরও একটি পথ
বেড়িয়ে আসে! ঠিক তারপরই
গুলিয়ে ফেলি সব!

কামনা

কৃষ্ণগহ্বরের মত তোর সব
দুঃখ কষ্ট শুষে নেব
এটা বলা মানে নিজেকে
ঈশ্বর ভেবে নেওয়া! কিন্তু

ঈশ্বর হতে তো চাইনি, কেবল
চেয়েছি যতটুকু পাবো
ভাগ করে নেব।

চাঁদ-সূর্য

তোমার শহরে রাত হয়না, তাই
তোমায় মুগ্ধ করে না চাঁদের যৌবন

তোমার শহরে রাত হয়না, তাই
তারাদের লাজুক দৃষ্টি তোমায়
স্পর্শ করে না

তোমার শহরে রাত হয়না, তাই
তুমি মাতাল হতে পারোনা , আর-

আমার শহরে সূর্য ওঠেনা বলে
বারোমাস শুকোয়না আমার আঁচল!

বেনামী

বেনামী সকাল
অখ্যাত দুপুর
অপরিচিত রাত-
প্রত্যহ হেঁটে যায় এ পথ দিয়ে
পরিচয় জানতে চেয়ে
ছুটে গেছি বারংবার, অবশেষে
বহু প্রচেষ্টায় জানতে পেরেছি তারা-

কেউ বধির
কেউ বোবা
কেউ অন্ধ!

কথা

অ-কথা গুলোকেই আজকাল
কথার মতো শুনতে লাগে!

সেই কবে বলছিলে ভালো থেকো
তারপর থেকেই-
কথার ঘরে অনাহার, উনুন জ্বলেনা
হাড়ি চড়েনা, বেজার মুখে পড়ে থাকে

তাই ,অ-কথা গুলোকেই
কথার মতো শুনতে লাগে!

রং

আপোষি যাপনে রং লাগানো মানে
দাঁড়কাকের পালক লাগিয়ে ময়ূর সাজার সমান

মায়ের কাছে রং বলতে
এক চিলতে সিঁদুর

আঙুলের ফাঁক গলে যে
সুখগুলো গড়িয়ে যায়-

মা তাদের নাম রাখেন বনজারন !

আকার

সাকার নিরাকারের প্রসঙ্গে
আমি দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয় মনে করি,

স্মৃতির স্পষ্ট নগ্ন রূপে
আমি চোখ নামিয়ে রাখি! আর-

আকারে বেঁধে রাখা ঈশ্বর!
ডেকে ডেকে ক্লান্ত, তবুও তো কোথায়!
ঈশ্বর… ঈশ্বর…

অলংকরণঃ কল্লোল রায়

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...