অসহবাস – একাদশটি একা গল্পের কোলাজ করে লেখা একটি গল্প
তনিমা হাজরা


(১) অসহবাস শব্দটিকে কুচি কুচি করে কেটে ভালো করে ম্যারিনেট করে রাঁধলাম।। 

(২) বাসমতী চাল দিয়ে “অসহ্য”খেতে খুব একটা মন্দ লাগলো না।। 

(৩) হয়ত এই অসহ ক্ষুধায় মজে আছে আমাদের ঘাতসহ বাসনাবিলাস।।

(৪) সহবাস এর পাশ থেকে স্বরবর্ণটি ব্যঞ্জন ছেড়ে কবে যেন অভুক্ত উঠে গেছে।।

 (৫) অহো! বা! কি সুন্দর দুটি স বেঁধেছি অ-সুরে এই শব্দসরগমে।।

 (৬) অসহবাস কে উলটে ফেলতে গিয়ে বুঝলাম চর্যাপদের যুগ ফেলে এসেছি সেই কবেই।। 

(৭) মানুষ আঘাত করলে, তার প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে পড়ি, প্রতিটি  আঘাতের নাভিমূল থেকে ফুটিয়ে তুলি এক একটি অপূর্ব ফল, যার সুমিষ্ট স্বাদের জন্য এ পৃথিবী আমাকে মনে রেখে দেবে বহুদিন।। 

(৮) বস্ত্রবিপণীগুলির বহিঃ ও অন্তর সজ্জায় ব্যাপৃত থাকতে থাকতে আমি তোমার, তুমি আমার লজ্জা ধরে টানাটানি করি, এই আমাদের খড়িমাটি মাখামাখি অসহকুটির।।

(৯) কোকিল বল্ল, কুহু, মেয়েটি বল্ল, উঁহু, সহবাসের পরে ঘরের কোণে  কনট্রাসেপ্টিভ পিলের প্যাকেটের গায়ে লেপ্টে রয়েছে চুমুর ইমোজি।। 

(১০) ভয় নেই ভাই, আমিও এখন হয়েছি যথেষ্ট সাবধানী, উলুবনে আর মুক্তো ছড়িয়ে ফেলি না। রসগোল্লার পায়েস দিয়েছি পাতে, নিমপাতাদেওয়া সুক্তোটা লুকিয়ে ফেলেছি ফ্রিজে।। 

(১১) একঘরে হলে বেশ আত্মপ্রত্যয় জন্মে, মনে পড়ে সেইসব একঘরে ক্ষণজন্মা পদাতিকদের নাম, শৃগাল ও সারমেয় ইতিবৃত্ত কাটিয়ে পায়ে পায়ে অরণ্যে চলে যাই।। 

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...