Tempo
Joaquín Rubio Tovar
লয়
ভাষান্তর: শর্বরী গরাই

(লেখক পরিচিতি: খোয়াকিন রুবিও তোভার (Joaquín Rubio Tovar)। জন্ম ১৯৫৪এ মাদ্রিদে। ইউনিভার্সিটি অব আলকালায় রোম্যান সাহিত্যের অধ্যাপক। গল্পকার ও অনুবাদক। অনূদিত গল্পটি ১৯৯৩ সালে গাব্রিয়েল মিরো পুরস্কার প্রাপ্ত।)

আন্দ্রেয়াস জ্বিক্লেফের কনসার্টের ব্যাপারে উদ্যোক্তারা খুব একটা উৎসাহ দেখায়নি। বনজঙ্গলের মধ্যে ওই পুরনো টেম্পলার চার্চে চেলো, ওবো, হারপ্সাইকরডে জেমিয়ানিনি, বার্ড, গটফ্রায়েড আর মোজার্টের পিস বাজিয়ে আলোড়ন তোলা যে খুব একটা সহজ কাজ নয়, আন্দ্রেয়াস সেটা আমন্ত্রণ পাওয়ার সময় থেকেই জানত। তবে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহ কাজটা আরো কঠিন করে দিল, কারণ ওকে একাই বারাখাস পর্যন্ত টেনে আনতে হয়েছে হারপ্সাইকরডটা। নিজেও এসেছে একই প্লেনে। সাবধানে একবার ওঠানো, আবার নামানো তারপর একটা গাড়ি ঠিক করে, প্লাস্টিকের চাদরে ঢেকে চার্চ পর্যন্ত নিয়ে আসার ব্যবস্থা (এমনকি যে পথটুকু গাড়ি ঢুকতে পারেনি, সেখানে সে নিজেই বয়েছে) সবই একা করেছে। পৌঁছেও শান্তি নেই, বাক্সশুদ্ধু যন্ত্রটা সদর দরজা দিয়ে ঢুকল না। বহু কষ্টে পেছনের দরজা দিয়ে ঢোকান হল। চার্চের ভেতর পর্যন্ত নিয়ে যেতে বেশ কয়েকজনকে হাত লাগাতে হয়েছিল। অল্টারের ওপর তোলাও সহজ হয়নি। পাথরের মেঝে একটু এবড়োখেবড়ো, তাই পায়ার নীচে খবরের কাগজ গুঁজতে হল। এতকিছুর পর বাকি দিনটা সে রিহারস্যাল দিতে পারল। চার্চের অ্যাকুয়াস্টিক খুব ভালো, এক শতাব্দী ধরে জানলা দিয়ে আসা আলোও বড়ই মনোরম।

যদিও সহৃদয় শ্রোতারা হাততালি দিতে কার্পণ্য করেনি, কিন্তু বাজানোটা ঠিক মনোমত হল না। অনেকবারের মত এবারও আন্দ্রেয়াসের মনে হল যেন তার কোথাও একটা ভুল হচ্ছে, সে কিছুতেই সঠীক লয়ে বাজাতে পারছে না। এটা একেবারেই তার নিজস্ব অনুভুতি। শ্রোতারা তো নয়ই, এমনকি ওর সঙ্গে যারা বাজায় তারাও ধরতে পারে না। কিন্তু আন্দ্রেয়াস নিজে ঠিক বুঝতে পারে। বেশ কয়েক বছর হল সে এই পিসগুলো সঠিক লয়ে বাজানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। কখনো কখনো লয় নিখুঁত হলে সে টের পায়। সুরের মূর্ছনায় ভেসে গিয়েছিল আসর, শ্রোতারাও তন্ময় হয়ে উপভোগ করেছে। আন্দ্রেয়াস নির্ধারিত সূচীর বাইরে আরো পাঁচ ছ’টা পিস বাজিয়ে তবে অনুষ্ঠান শেষ করল। কিন্ত সে সন্ধ্যায় তার পরিবেশন নিখুঁত হয়নি। শেষ নিবেদন, মোজার্টের একটা গিগ, উপহার হিসাবে পরিবেশন করা হল। তারপরেই শ্রোতারা তাড়াতাড়ি লাইন করে চার্চ ছেড়ে বেরিয়ে গেল। স্যাক্রিস্টিতে সহশিল্পীরা, শিল্প সমালোচক, পাদ্রী ও চার্চের অন্যান্যরা খুশী হয়ে তাকে অভিনন্দন জানাল। বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল। যিনি বাঁশি বাজাচ্ছিলেন তিনি বাঁশিটা খুব যত্ন করে কালো ফেল্টের সুন্দর একটা খাপে ঢুকিয়ে রাখলেন। চেলো বাদক তার যন্ত্রটা বাক্সে ঢুকিয়ে বেরোতে যাচ্ছেন, এমন সময় ভেতর থেকে আন্দ্রেয়াসের ডাক শুনতে পেলেন। হারপ্সাইকরডটা নামাতে সাহায্য চাই। একজন অল্টার বয় স্ট্যান্ডটা দরজা পর্যন্ত নিয়ে গেল, আন্দ্রেইস আর চেলোবাদক কাঁধে করে বয়ে আনল যন্ত্রটা। কিন্তু সোজাসুজি, আড়াআড়ি, কোনাকুনি, এমনকি কাঠ ধরে টানাটানি করেও বাজনাটাকে বার করা গেল না। মিনিট পনেরো ধস্তাধস্তি করার পর পাদ্রি সে রাতে ওটাকে চার্চেই ছেড়ে,পরদিন সকালে যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে চেষ্টা করার পরামর্শ দিলেন। শোনামাত্র আন্দ্রেয়াস হাঁ হাঁ করে উঠলো। ওর হারপ্সাইকরড কিছুতেই একা পড়ে থাকবে না। পাদ্রি বোঝানোর চেষ্টা করলেন, কেউই ওটা চুরি করতে পারবে না, কারণ দরজা দিয়ে বার করতেই পারবে না। আন্দ্রেয়াস জোর দিয়ে বলল যে তার বাজনা কিছুতেই রাতে একা থাকবে না, তেমন হলে সে নিজেও রাতে চার্চেই থেকে যাবে। অপেক্ষা করবে পরদিন সকালে অন্যদের জন্য। সবাই বোঝাতে চাইল, রাতে চার্চে থেকে যাওয়া বোকামি। কিন্তু যদি যন্ত্রটার কিছু হয়ে যায়, এই ভেবে সে রাজী হল না। এখানেই সে বেশি স্বস্তিতে থাকবে। শেষে সবাই চলে গেল, আর আন্দ্রেয়াস পরদিন সকালে খুব সহজেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এই ভেবে রয়ে গেল।

প্রথম একঘন্টা সে কী কী উপায়ে ওটাকে দরজা দিয়ে বার করা যেতে পারে তাই ভেবেই কাটিয়ে দিল। অনেক হিসাব কষে বার করল বাঁ দিকে পয়তাল্লিশ ডিগ্রি কাত করে তুলে আলতো করে ডানদিকে ঘোরালে চৌকাঠটা এড়ানো যাবে। কিন্তু ঠিক এইসময় আবার বৃষ্টি শুরু হল।

সারাটা রাত অভিশাপের মত বৃষ্টি পড়ল। আন্দ্রেয়াস সেই পুরনো ছাইরঙা কাপড়গুলো, যেগুলো দিয়ে হারপ্সাইকরডটা মুড়ে এনেছিল, সেগুলো দিয়েই আবার ওটাকে ঢেকে রাখল। কিন্তু রাত যত বাড়তে লাগল, ওগুলো নিজের ওপর চড়াতে থাকল। প্রথমে একটা, সেটাতে নিজে পুরোপুরি আঁটল না, তখন একটা একটা করে বাকিগুলো, রাত দুটোর সময় যন্ত্রটা একেবারেই নিরাবরণ। গুটিশুঁটি হয়ে ও ঘুমিয়ে ছিল, পাখিদের ডাকে যখন ঘুম ভাঙল, তখন সোয়া আটটা বাজে। ভাবল লোকজন আসতে আর বেশি দেরি নেই। ঠান্ডায় শরীর অবশ, খিদেও পেয়েছে, মনে মনে ঠিক করল, অব্যবস্থার অভিযোগ করে চিঠি লেখা শুরু করবে খবরের কাগজে আর অনুষ্ঠান পরিচালককে। যতই এই পরিস্থিতি থেকে ছাড়া পাবার সময় এগিয়ে আসছে, ততই তার ক্ষোভ বাড়ছে, কিন্তু সময় পেরিয়ে যেতে থাকল, কেউ এলো না। অধৈর্য আন্দ্রেয়াস বাইরে বেরিয়ে সামনের খোলা জায়গাটায় হাঁটতে শুরু করল। হাওয়া তখনও জমে থাকা জলের ওপর আঁকিবুঁকি কাটছে, চার্চের গায়ে এনে ফেলছে হেমন্তের প্রথম ঝরা পাতাদের। কেউ কোথাও নেই। যেদিকেই তাকায় সব দিকেই এক অবস্থা। আবার চার্চে ফিরে এসে চারিপাশে হেঁটে বেড়াল। আরও তিন চার বার ঘরবা’র করল। ক্ষোভের পর এল মনখারাপ, তারপর দুশ্চিন্তা। শেষ বারের মত গেল পাদ্রির কোয়ার্টারের দিকে। আগের কয়েকবারের মত এবার আর দরজায় ধাক্কা দেবার ইচ্ছে নেই। এবার আঙুলের গাঁট দিয়ে জানলার কাচে টোকা দিতে থাকল, তারপর ঘুষি, কিন্তু নিজের হারপ্সাইকরড বাজানো হাতদুটর কথা ভেবে শেষে একটা নুড়ি তুলে কাচের গায়ে ছুঁড়ল। ফাটল ধরে ভাঙা জানলা খুলে আন্দ্রেইস ভেতরে ঢুকে গেল। একটা চৌকো ঘরে কয়েকটা ময়লা, নড়বড়ে আসবাব। পশ্চিমমুখো জানলাটার পাশেই একটা স্টোভ আর কিছু পুরনো বাসনপত্র। টেলিফোন নেই। চার্চে ফিরে এসে বেঞ্চে বসে রইল। না হয়েছে বেদীর সামনে আলো জ্বালানো, না হয়েছে বেদীটা কাপড় দিয়ে সাজানো। এসব দেখে মনে হল আরও অনেকক্ষণ, যতক্ষণ না ‘মাস’ এর জন্য সবাই জড়ো হয়, ততক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। তারপর এই ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দিল যে, ওকে সবাই ভুলে গেছে এটা হতেই পারে না। হয়ত একটা ভ্যান খুঁজছে, যাতে হারপ্সাইকরডটা এঁটে যাবে। তাছাড়া বৃষ্টি পড়েছে, খুব স্বাভাবিক যে গাড়িঘোড়া আস্তে চলবে…কিন্তু দুটো বেজে গেল, এটাই বেরোনোর সময়।

আন্দ্রেয়াস এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিল, একচোট কনকনে ঠাণ্ডা বৃষ্টি আর হতাশায় ক্লান্ত হয়ে আবার ঢুকল পাদ্রির কোয়ার্টারে। খাওয়ার জন্য খুঁজে পেল শুধু কয়েকটা আপেল আর সামান্য মদ। খাওয়ার পর মাথাটাও একটু ঠান্ডা হল। ধীরে ধীরে সে ঘটনাটা বিশ্লেষণ করতে বসল। যা যা ঘটে চলেছে আর যা কিছু অস্বাভাবিক লাগছে সেগুলো চিন্তা করতে লাগলো। চার্চে ফিরে এসে হারপ্সাইকরডের সামনে বসল, ব্যাগ থেকে বার করল কয়েকটা মিউজিক্যাল পিস, বাজাতে শুরু করলঃ মোজার্ট, বার্ড, হেডন আর জ্যাজ। বিশেষ করে জ্যাজ, হারপ্সাইকরডে কাচের টুকরোর রূপ নিয়ে স্বপ্নের মত রঙ্গিন মূর্ছনায় ছড়িয়ে পড়ছিল। যখন ভেতরে অন্ধকার ঘনিয়ে এল, আন্দ্রেয়াস বাইরে বেরোল। সুরের ছোঁয়ায়, আনন্দে সে পরিস্থিতি ভুলে গেছে। একটা মানুষেরও দেখা নেই। অতএব আরও একটা রাত কাটাতে হল সেই নোংরা ঢাকনা গায়ে জড়িয়ে বেঞ্চে শুয়ে। রাত নেমে আসার আগে পাদ্রির বাগানে গিয়ে খুঁজে পেল কয়েকটা কল বেরোনো ছোট ছোট আলু, দু একটা ক্যাপসিকাম আর প্রায় পচে যাওয়া কিছু টম্যাটো। সেগুলো নিয়ে পাদ্রির কোয়ার্টারে গেল। চার্চ থেকে বেদী ঢাকার কাপড় নিয়ে এসে নড়বড়ে চৌকিটায় পাতলো। ভোরের দিকে মনে হল যেন উঠোনে কিছুর আওয়াজ হচ্ছে । দেখা গেল হাওয়ার দমক বেড়েই চলেছে। ঘুম প্রায় হলই না।

সকালে কিন্তু জেগে উঠল বেশ তরতাজা হয়ে। আগের রাতের বেঁচে যাওয়া খাবারটুকু খেয়ে আন্দ্রেয়াস চার্চে গেল। হারপ্সাইকরডটা কাল ঢেকে রাখা হয়নি, স্ট্যান্ডে একটা মিউসিক্যাল পিস পড়েই আছে। সেটা দিয়েই বাজানো শুরু করল, জেমিয়ানিনির একটা ফুগে, ছ’লাইনের। বেলা বাড়লে হেঁটে চলে গেল মাঠের শেষ পর্যন্ত, আশেপাশে ঘুরে বেড়াল কোনো একটা গাড়ির দেখা পাওয়ার আশায়। চার্চের দিকে যে রাস্তাটা এসেছে সেটা ছাড়া আর কোনো পাকা রাস্তা নেই, দু একটা ফলের গাছ আর একটা ভুট্টার ক্ষেত দেখতে পেল। “কাউকে না কাউকে তো এখানে আসতেই হবে, ততদিন আমার খাওয়ার জোগাড় হয়ে গেছে, আমি বাজানো প্র্যাক্টিস করি, ফসল তোলার সময় পর্যন্ত আমি কোনোরকমে কাটিয়ে দেবো”, আন্দ্রেইস নিজেকেই বলল। ওর মনে হল যেন উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। আর এই প্রথম ওর খুব খিদে পেল। কয়েকটা বাদাম খেয়ে, আগের দিনের তুলে আনা সবজি রাঁধতে বসল। স্নান, খাওয়ার পর আগের চেয়ে অনেক সুস্থ বোধ হচ্ছিল। এবার রাগ হল অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের ওপর, পাদ্রির ওপর, নিজের বন্ধুদের ওপর, গোটা দুনিয়াটার ওপর। কিন্তু আস্তে আস্তে বুঝতে পারল অপেক্ষা করা আর বাজিয়ে যাওয়া ছাড়া তার আর কিছুই করার নেই। সে হারপ্সাইকরডের সামনে বসল, অনেকক্ষণ বাজালো, প্রথমে এক হাতে, তারপর অন্য হাতে, শেষে দুহাতে একসাথে, নবীন শিক্ষার্থীর বিনয়ে। জটীল পিসগুলোর ওপর অনেকটা সময় দেওয়ার পর মনে হল সে ওগুলো পরিবেশনের সঠিক লয় খুঁজে পেয়েছেঃ andante ma non troppo (ধীরে, কিন্তু অতি ধীরে নয়)। মন খুশিতে ভরে উঠল, নিজেকে ওর খুব তৃপ্ত, সফল মনে হচ্ছিল। হৃদয়, মন, আঙুলগুলো যেন অনুভব করছিল থেমে যাওয়া কিন্তু মনের গভীরে রয়ে যাওয়া সেই লয়। মিউজিকাল পিসটার জন্ম হয়েছে তার মনের গহনে, এক সুগভীর অনুভূতি, আঙুলের সঞ্চালন,ছন্দ, আর অশ্রুত কোনো স্বরের বৈশিষ্ট্য থেকে।

হেমন্তের বেলা, দিনগুলো এখন আরও ছোটো। সাদা মেঘ উড়ে যায়, বিকেলের বাতাসে ভেসে আসে দূরে কোথাও কারো কাঠকুটো জ্বালানো আগুনের গন্ধ। আন্দ্রেয়াস বহুবার ঘুরে এসেছে চার্চের আশেপাশে, খুঁজে পেয়েছে পুদিনা আর চন্দনের ঝাড় আর একটা বিরাট ইয়েরবালুসিয়ার ঝোপ। সেগুলো দিয়ে চ্যাপেলটা সাজাবে ঠিক করল। নদীর বাঁকে ছিল একটা ফলে ভরা আখরোট গাছ, ব্রিজের অন্ধকার কোণে পেল কিছু স্যালাড পাতা। পকেটে বাদাম আর মিষ্টি পানিফল ভরে নিয়ে আন্দ্রেইস সুগন্ধি লতাগুলো চার্চ পর্যন্ত বয়ে আনল।

আস্তে আস্তে ও কাজের একটা ছন্দ খুঁজে পেল। সকালের চেয়ে বিকেলে প্র্যাকটিস করা ভাল কারণ বিকেলের আকাশ একাগ্রতা বাড়ায়, পিসগুলোর রিদম আর টেক্সচার আবিষ্কার করা যায়। কয়েকটা বিকেলের প্র্যাক্টিসই আন্দ্রেয়াসের পক্ষে যথেষ্ট একটা পিসকে সঠীক লয়ে বাজানোর জন্য।

শীত এলো, জানলা দিয়ে ঢোকা আলো্টা পাল্টে গেল। দিনের পর দিন কনকনে ঠান্ডা হাওয়া বিশাল হাত বুলিয়ে যায় খোলা মাঠটায় আর পাশের জঙ্গলে। সারারাত দুচোখের পাতা খোলা রেখে আন্দ্রেয়াস সেই শব্দ শোনে যতক্ষণ না ভোর হয়। সকালের দিকে তার চোখে ঘুম নেমে আসে। তারপর উদ্দেশ্যহীন কেটে যায় কয়েকঘন্টা। কিছু জড়িবুটি গরমজলে ফুটিয়ে চুমুক দেয়, ক্ষেতে যা পাওয়া যায় খায়, কখনো কখনো দু একটা ট্রাউট মাছ ধরে। শীতে চার্চের ভেতরটা গরম থাকে। আন্দ্রেয়াসের অভ্যাস হয়ে গেছিল চার্চের আলো আঁধারি । লেবুফুলের লতাটা ঢেকে দিয়েছে সামনের অংশটা, চন্দনের গন্ধ ছাপিয়ে যায় অন্য সবকিছু। বাইরের অঝোরে পড়া তুষার এবং বরফের তুলনায় চার্চের ভেতরটা বেশ গরম।

এক সকালে বরফ আর কনকনে ঠান্ডাকে অগ্রাহ্য করে আন্দ্রেয়াস হাপ্সাইকরডের সামনে বসল, হান্ডেলের একটা পীসের ওপর কাজ করছিল। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর বুঝল লয়টা তার আয়ত্তে এসেছে। আঙুলের গতি, স্বর, রচনাটির অন্তরের ছন্দ, গোটা নির্মাণটাই পরিষ্কার। এইরকমই রচনাটা, আর এভাবেই তাকে সমগ্র রূপ দিতে হবে। তাড়াতাড়ি উঠে সে দরজার কাছে গেল। সদ্য শীত পেরোনো খোলা প্রান্তর, দিগন্ত পর্যন্ত লুটিয়ে আছে তার সামনে।

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...