আচমন কথা
চয়ন ভৌমিক
১
ব্যর্থ শব্দটির সামনে দু মিনিট নিরবতা রাখি সাদা পোশাকে… ওই তো দূরে শো-কেস…অক্ষরহীন, শব্দহীন পাতার ডাঁই…অদৃশ্য কালিতে লেখা নির্জন রাতের নির্ঘুম স্বপ্ন…ফ্রেম করি ওকে…শুভ্রপুষ্পদলের মালা পরাই…কি সুন্দর ধুপের গন্ধ আসে…ঘর ভরে যায় তন্ময় আবহে…করুণ সুর বাজে বসন্তবাতাসের রঙে…যেন সরল এক অভিমান…যন্ত্রণার ভিতর থেকে ঘুরে ঘুরে, উপরে ওঠে প্রত্যাখ্যাত হাসি…পিছন ফিরে চলে যাওয়াই তো আদিম ভবিতব্য …পিছনে পড়ে থাকা ভালোবাসা, একাকী জাবরের সুখ…কফিনে শেষ পেরেক… অন্ধ ভিক্ষুর দুহাতের খোলা পাতায় ভরে ওঠা শিশিরের জল।
২
রাজার মতো ফিরে ফিরে আসে জীবন, কচি কচি পায়ে তাকে ঘিরে থাকে বসন্তের স্পর্শ। ডাকে নীল আকাশ। টলোমলো রং ছড়িয়ে পড়ে দানাদারের মতো। ক্রমশ ধারালো হয়ে ওঠে অরণ্য পথ। গাছে গাছে আগুন জ্বলে। সব জঙ্গলেই একটা মেঠো পথ থাকে… রক্তিম… আঁকাবাঁকা ও রহস্যময়…জলভরা খন্দ ইতস্তত। একটা পাতাহীন অ্যালবিনো গাছও থাকে, স্তব্ধ ও প্রবীণ। তার মাঝ দিয়েই বয়ে যায় সবুজ এবং সাহসী হাওয়া। কত আঁচড় ছেড়ে আসি আমরা, কত শীতরক্ত পেরিয়ে আবার শুরু হয় সাফারি। খোলস ছুঁড়ে ফেলা সাপ কবিতা লেখে। শহরের ছাদে ছাদে শেড বসে, টবের গাছে বেলি ফুল ফোটে, হারানো বেড়াল গা ঘসে ফিরে এসে। ছায়া ডাকি আমাদের সমস্ত ভুলের উপর। আমাকে বিশ্বাস করো পৃথিবী, পাশে বোসো… যোগ্যতমের উদ্বর্তনে আমি পিছিয়ে পড়েছি আজ। কিন্তু আবাদ ভুলিনি। ভুলিনি নিপুন দুহাতে আগলে রাখা ভ্রমণসঙ্গীকে।
৩
নির্জনতার সাথে গল্প করা বাকি আছে…ফিরে আসবো ঠিক একদিন দেখো…ও নদী, ও মায়াময় জ্যোৎস্না…অর্ধসমাপ্ত এই রাত্রি লিখে রাখা থাক আপাতত…লিখে রাখা থাক আবির ও কোমল নিষাদ…যত কোলাহল… হুল্লোড়ের খর রোদ…লম্বা ও তির্যক অশোক ও পলাশের আর্ত চিৎকার… অভিযোগ মেপে হেসে উঠবে কোনও এক শুভ সন্ধ্যায়… মুছে দেবে বাষ্প ও ঘাম… আর আমাদের রং জেগে উঠবে আবার… প্রেম ও পুজো পর্যায়ের সুর খুলে দেবে দরজা… আমাদের পায়ের চিহ্ন ধ্বনি তুলবে তখন… রাংতার প্রতিফলন মুছে দিয়ে আমাদের নাচ মিশে যাবে লাল মাটির একতারাতে।
৪
থলথলে স্নায়ু নিয়ে বহুদূর চলে গেল দিন… বিচ্ছিন্নতাকামী শক্তি আর গোপন দরজা ছুঁয়ে, কারা যেন উঠে দাঁড়িয়েছে দেখো কন্দর্প ভঙ্গিমায়…আর কিই বা চাওয়ার থাকতে পারে এখন… কোলাহল ও আলোড়ন থেকে সামান্য উঁচুতে সূর্য পেলে…দখিনা বাতাস পেলে…স্নানে ভিজে, ধুয়ে নিলে গতজন্মের পাপ…তাহলে, কেন এত যন্ত্রণা নির্জনতার গভীরে!…একটি ছোট্ট টোকায় যদি নিরুদ্দেশ হয়ে যায়, শহরের সব শানওয়ালা…একটা হালকা ফুঁয়ে যদি ফালাফালা হয়ে যায় খর চাঁদ, মাটির পেলব সরলতা…তাহলে মুড়ি-মিছরি একই দামে বেচে দিই এসো…লজ্জা কোরো না অতশত ভেবে…বরং, ঘন-সন্ধ্যার নীলে- বাঁচিয়ে রাখো আঙুলের বর্ণিল পাথর…ভিক্ষা চাও মন্দিরের ঘন্টা টেনে…তুমিই সেরা পৃথিবীর এই নির্বোধ বাস্তুতন্ত্রে… তুমিই একক বুদ্ধুচরিত…বিশুদ্ধ পায়েস খাবে বলে খুঁজে বেড়িয়েছ চিনির রাসায়নিক সংকেত…অথচ নজরে পড়েনি, কবিতার পাঠক কমে গেছে গুণোত্তর প্রগতিতে… আর বন্দুক ও মাংস বিক্রি হচ্ছে পাশাপাশি দোকানে।
Pradip Roy Chowdhury
May 24, 2022 |অপূর্ব কবিতা , চয়ন !
মুগ্ধ হলাম ।