টুকরো একাদশ
চয়ন ভৌমিক
১)
ভিনগ্রহ থেকে ভেসে আসে
অলীক রকেট।
পাখির পালকের মতো ভেসে নামে…
মায়াময় ছাদ তাকে বুক দেয়,
ভাঁজ খুলে যায়, বেরিয়ে আসে
মেঘ-রোদ- এলিয়েন পাটিগণিত।
২)
এক বিস্তৃত রঙে ভেসে আছে মনবিহঙ্গ।
চরাচর জুড়ে, তার উড়ান,
খুঁজে ফেরা নিরলস ছাউনি ও মায়ামন্ত্র।
সে ছুঁড়ে দেবে তার ম্যাজিক ঠিকানা –
আশ্রয় খুঁজবে মোমবাতির আলোয়
আর বাতাস যেন অজস্র রূপকথা
বেজে উঠছে দূর, অজানা বদ্বীপে।
৩)
সম্পর্ক ঝুলে থাকে সরু সুতোর মতো
ওম চায়, ছায়াঘন অক্ষর চায়
ভাটা আসে… চরায় ফুলে ওঠে জোয়ার,
নিরঞ্জনব্যথা ভেসে ওঠে নদী বুকে
মণ্ডপ ফাঁকা হয়ে যায় নি:শেষে
সরে যায় উৎসব ও কলরোল।
নির্জনতা বাড়ে, শূন্যতায়
দাগ কাটে বার-বাজারের দরদস্তুর।
গোপনে ঝড় ওঠে দূর আকাশে
স্তব্ধতার আড়ালে
চলকে ওঠে দ্যুতিময় পুষ্পকরথ।
৪)
ভাবনার অনেক দূর দিয়ে এ লেখার অনুপম যাত্রা।
হে শিক্ষানবিশ জীবন
মেনে নাও, রঙিন পাতার বুকে
একদিন জন্ম নেবে গোলাপের ছবি।
তুমি পুণরায় ফিরে যাবে
চঞ্চল শৈশবে
জানলা দিয়ে ছুঁড়ে দেবে
দৃষ্টির গভীরে লেখা
মোলায়েম পত্রকুন্ডলী –
নির্জন মাটি অঙ্গে নেবে তাকে
অক্ষর সমাধির দু ইঞ্চি উপরে
নেমে আসবে অনন্ত প্রথম
ভারি বর্ষণ।
৫)
খিদে যেন আগুন। গিলে খায় নিজেদেরই তাপ, গর্ভ, অন্ত্রের কানা গলি।
খিদে রিপুমুখী। বার্তাবাহী রক্তের স্রোত।
লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে তার গ্রাস
পোস্টঅফিসের গর্ভযন্ত্রণা।
৬)
মৃত্যুর ঠিকানা একদিকে
অপরপ্রান্তে আতুর নিবাস।
মাঝে কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল,
অনন্ত অপেক্ষায় থাকা নিসর্গ,
মাঝমাঠে অসংখ্য পাস… টিকিটাকা।
জীবন মর্মবাতাস, ছকের খেলা…
এর মাঝে দু একটি মুহূর্তভুল
দুলে ওঠে আচমকা
অন্ধকার কোণে থমকে দাঁড়ায়।
৭)
মেঘ থেকে মেঘে উড়ে যায়
জলের ইশারা।
ঢেউ ওঠে বজ্রবিদ্যুতে।
বৃষ্টি চিঠি পাঠায়…
৮)
দেওয়ালচিত্রের পুরুষ
তোমার উষ্ণিষের মাণিক্যে
ধরা পড়ে গেছে সদ্যযুবতীর নিথর বার্তা।
ঠোঁটে ফুটে উঠেছে স্ফীত গোলাপ
চোখে রাগ বিলাবল, চড়ুই প্রস্তাব।
ঘন হয়ে এস প্রাণ ও প্রতিমা,
যেটুকু বাকি ছিল লিখে দিও.
ভাবসম্প্রসারণে…
৯)
সজীব আকাশের নীচে অবিচল
হেলে পড়া দেওয়াল, ফাটলে উজ্জ্বল সবুজ,
অশ্বত্থ জন্ম… অন্ধকার বারান্দায়
ঝুলে আছে নরম তাঁত –
ভিজে জলবিন্দুসমূহের মসৃণ দুপুর।
ভেঙে পড়া সিংহ দুয়ার ডাকে যত্নে,
তালার মরিচার গভীর থেকে
উঁকি মারে কচি আলোর পত্রপল্লব…
নিঝুম দাঁড়িয়ে আছে প্রাক্তণ কলরব,
দাঁড়িয়ে আছে অস্থির সময় –
প্রাচীন ডাকটিকিটের কালো আঠার দাগ,
কিছুতেই ওঠেনা!
১০)
হলুদ খামের মধ্যে মন্ত্রপূত শুষ্ক জবা
রুলটানা কাগজে ব্যথার ও
সমব্যথার জবাবি কিছু ক্লিন্ন সবুর।
আমি কী আর্কিমিডিস?
আজ আচমকা, বাঁধনহীন স্নানে
খুশির জোয়ার!
মিশনের মাঠ, কোয়ার্টারের হলুদ দেওয়ালের পিছনে
‘নুপূরের ছন্দ, বেণুকার সুর ‘ অতর্কিত আলোর সরু দাগ।
আমি ফিরে যাই সেই নদীর দেশে
ফিরে যাই গোলাপী স্বপ্নের অক্ষরে
পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনায়
লুকিয়ে ফেলি অতীত মল্লার।
১১)
রাজদূত আসে…
হাতে কিসের বার্তা তার?
মোড়ানো কাগজ প্রকাশিত হয়
আভা কাঁপতে থাকে,
চঞ্চল ঘোড়া ফিরে যেতে চায়
আপন সাকিনে…
ফিরে যেতে চায়, শ্বেতকপোত
ও দস্যু রত্নাকর।
