তিনটি লেয়ারের একটি ক্যানভাস
প্রদীপ ঘোষ
শিখিপাখা
বিষন্নতার বর্ণনায় শুধু এটুকু-ই বলার ছিল, ইয়েলো-অকার ইজ অ্যা ন্যাচারাল আর্থ কালার
তুমি নীল ভালোবাসো, ওটা ব্যথার রঙ হতে পারে কিন্তু কখনো-ই কোনো স্বপ্নের রঙ না
নোনাধরা চার দেয়ালের এক কোণে জীর্ণ ফতুয়া, মোটা কাচের চশমা পরা কম্পোজিটারের ডেস্কে ততোধিক রুগ্ন ফিলামেন্টের মিয়নো আলো দেখে কোনো সত্যে উপনীত হওয়া যায়? ক্যানো না ছাইয়ের নীচে চাপা ধিকিধিকি আগুনের মতো ছাপার অক্ষরে কত না কবিতা উপন্যাসের নিঃসরণ তো এখানেই
আলোছায়ার নিপাতন কে ছিন্নভিন্ন করা উৎসারিত আলোর আঁতুড়
সাগরের মতো এদিকে ফটফটে দিন ওদিকে নিকষ রাত্রি
খেয়াল-ই করোনি মাঝে ছোট্ট দ্বীপ ঝুপ্পুস, নিঝুম সন্ধ্যা
ঠিক জীবনের মতো স্বল্পবাক
শাড়ি, লেহেঙ্গা তওবা, এমনকি সিল্যুয়েট বলগাউন ওয়েডিং ড্রেস পরিহিত হয়েও ময়ূরের উড়াল দেখেছো কখনও? আসলে আমি তো ছিমছাম স্লিমট্রিম গৃহপালিত হাঁস মুরগির অপারগতায় আশৈশব অবাক
প্রতিবিম্ব
বেওয়ারিশ পাথুরিয়া রাস্তা যতটুকু মাড়িয়ে ফেলে এলে পেছনে! প্রাণ আছে, দ্যাখো! পিছু ছাড়েনি
তুমি তো শুধু দ্যাখো সামনের হাতছানি
তা এই যে তুমি পথ হাঁটো শুধু কি পায়ে! মনেও তো হাঁটো বলো? আমিও পেঁচিয়ে যতটা পারি দু’হাতে দশ আঙুলের করতল পিঠে বুলোতে থাকি
এমনকি ঘাড় ঘুড়িয়ে সে দৃশ্যে আয়নায় চোখও রাখি
নিজেকে ক্যামন যেন নিজের-ই বড্ড আদুরে, আপন লাগে
কী আসে যায় পাশটিতে সঙ্গতে কেউ না থাকলো? তুমি এলে না
কথা রাখলে না
শুধু অন্তঃসলিলা, প্রগলভা নদীটি কে নিয়ে এখন কী করবো বলতে পারো? তোমার সাকিন জানা থাকলেও না হয় বলতে পারতুম এদিকে নয় ওপথে এগিয়ে যাও নদী, আরও
তাবীর
শূন্যতা ও আসলে একটি ভ্রম বই কিছু নয়
তোমার অভাব? কই না তো! একটুও অনুভূত হয় না
একা একা থাকতে থাকতে থাকতে একাকিত্বকে-ই বড্ড ভালোবেসে ফেলেছি
এ জীবন কখন যে বেড়ালের তালিবশ্য হয়ে গ্যাছে
এখন একটা সন্ধ্যা ইজ ইক্যুয়ালটু ছ’পেগ
তিন পেগ আমি খাই আর তিন পেগ আমাকে খাওয়া-ই
তারপর সাহস সঞ্চয়ে নদী কে সন্তানের মতো কোল থেকে নাবিয়ে দিই
নদীও বায়নাক্কা ছাড়াই নাবালে বয়ে যায়
টুকি এঁকে আমিও লুকোচুরিতে টলমল সন্ধ্যার সাঁকোটি পেরোই
উপল হৃদয়ে হাত রেখে বলতে পারো কে কাকে ফাঁকি দিলো? এই যে এক জীবনের কতো না সংশয়! কিছু-ই তো এড়িয়ে যাবার নয় না
শুধু মিছিমিছি ফুরিয়ে যায় যা! কিছু অমিত সম্ভাবনা
আর ব্রহ্মকমল ফোটা নিশুতি রাতের গল্প
শুনতেই যদি না চাও অনেকের মতো! তুমিও শুনো না
আমার কী! তুমি-ই হারাবে খোয়াবনামা, বুঝেছ সোনা?