বাঁশিবাদক
অমিত মজুমদার
তার দিকে তাকাতেই শিশুসুলভ চোখ নিয়ে হেসে উঠলো
সে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নয়, মাথা মোটেই কদম ছাঁটে সজ্জিত নয়
তার হাতে উপনিষদ, কোনো সোজাসাপটা বাঁশি ধরা নেই
তাকেই বেছে হাতে বাঁশি ধরিয়ে বললাম, ফুঁ দাও ফুঁ দাও
এই শব্দ মানুষের কান পর্যন্ত কিছুতেই পৌঁছবে না
অন্য কোনো সুর ক্যাসেটে চালিয়ে তাদেরকে শুনিয়ে দেবো
সবাই জানবে তুমিই বাশিঁতে এই পৌরাণিক সুর সৃষ্টি করেছো
সে ফুঁ দিতেই যেন পাঞ্চজন্য বেজে উঠলো রেকর্ড ঘরে
শব্দ শুনে মেঝে কাঁপতে কাঁপতে হয়ে উঠলো কুরুক্ষেত্র ভূমি
চারপাশ থেকে দ্রুত ছুটে আসছে নির্বাচিত কৌরবী সেনা
এরপর আর রেকর্ডের অনুমতি দেয়নি আমাদের সেন্সর
সে বাঁশি ফেরত দিয়ে মুচকি হেসে একটা ফ্লাইং চুমু দিলো
কোনো কথা না বলে ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেলো স্টুডিও থেকে
তাকে আর ঘাঁটাতে সাহস পায়নি কোনো মিউজিশিয়ান
সে কৃষ্ণাঙ্গ নয়। সে সাদা চামড়া নয়। সে সামান্য বাঁশিবাদক
তবে বাঁশি হাতে পেলেই উত্তাল শঙ্খধ্বনি তুলে আনতে পারতো
শুধু আনাড়ি সংগীতজ্ঞরা সেই তথ্য আগে জানতে পারেনি