দুটি কবিতা
কৌশিক সেন
কবি সম্মেলন
-১-
আমি কবিতা পড়ে উঠে গেলেই কবিতা পাঠ করতে আসবে মেয়েটি। বসে আছে মঞ্চের পেছনে। অপেক্ষমান। ভেতরে ভেতরে বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হতে দেখছি। প্রস্তুতি নিচ্ছে যেন!
আমার কবিতা পাঠে মন নেই। শ্রোতাদের শাখা-প্রশাখা থেকে নরম ফুল তুলে মালা গেঁথে নিচ্ছি মঞ্চে বসেই। সময় শেষ হলেই মঞ্চের পেছনে গিয়ে মালা পরিয়ে আহ্বান জানাবো পরবর্তী কবিকে!
-২-
কবিতা লিখতে লিখতে খাতা নোংরা করে ফেলি আজকাল। বাকি কবিরা কাছে ঘেষতে চায় না। আমি মঞ্চে উঠলে নেমে যায় একে একে।
আমি একাই খাতা খুলে বসি মঞ্চে। ধীরে ধীরে চেটে নিই শ্রোতাদের শরীরে লেগে থাকা কাদামাটি। মঞ্চ জুড়ে তখন কাঠমল্লিকা ফুটে ওঠে।
-৩-
মঞ্চ থেকে নামতেই এক প্রবীণ কবি আমার মাথায় হাত রেখে বললেন, “বড় হও, আরও বড়, লেখো, আরও লেখো, বেশ হচ্ছে…”
প্রবীণ কবির আশীর্বাদ সাথে নিয়ে লিখে চলেছি আর দেখছি, বড় হতে হতে একটা নদী কীভাবে ভাসিয়ে নিয়ে যায় অক্ষরের অধিকার!
অরনিথোলজি
পাখি নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে ভিক্ষা করতে ভুলে গেলাম,
ছিনিয়ে নিতে শিখলাম শত্রুর মুখের খাবার।
পাখি নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে ঘুম ভুলে গেলাম,
মাদল বাজাতে শিখলাম ঝঞ্ঝা বিধ্বস্ত নরম বুকে।
পাখি নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে রক্তপাত ভুলে গেলাম,
হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি কণায় ঠিকরে পড়তে দেখলাম ছন্দময়ি গৃহসুখ।
পাখি নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে অন্ধকার ভুলে গেলাম,
প্রতিটি আদিম গুহায় দেখতে পেলাম অনন্ত সভ্যতার আলো।
পাখি নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে যন্ত্রণা ভুলে গেলাম,
প্রতিটি ক্ষততে খুঁজে পেলাম সহজবোধ্য কবিতা!