দুটি কবিতা
তুলসীদাস ভট্টাচার্য
১) দহন (৩)
রাত ঘন হলেই টের পাই তোমার উপস্থিতি
শুরু হয় দহন পর্ব
নির্লিপ্ত ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা সময়
তারাদের সাথে আমিও জেগে থাকি
রাতের আকাশ দেখার পাঠ শেষ হলে
অন্ধকার সিঁড়িঘর পেরিয়ে নিচে নামি
রাতের সব আঁধার চিলেকোঠার এক কোণে
সযত্নে ঢেকে রাখি দিনের আলো থেকে
নিজেকেই খুঁজি দহনের প্রতিটি দাগে
চালের ফুটো দিয়ে চুমু দিয়ে যায় চাঁদ।
২) চাঁদের দেশে
আমরা চাঁদ ছুঁয়ে স্বপ্ন দেখি
ব্যস্ ওই রাতটুকুই
ভুলে যাই ন্যাড়া পাহাড়, ছোপ্ ছোপ্ ক্ষতস্থান
তবুও জ্যোৎস্না মেখে ঝাউবনে হাঁটতে ভালবাসি
আলোজলের সৈকতে সেরে নিই স্নান
চাঁদ দেখিয়ে শিশুদের ঘুম পাড়াই
ভুলিয়ে রাখি তাদের ক্ষুধা
ভুলে যাই শুষ্ক উপগ্রহের কথা
যার নিজস্ব কোন আলো নেই
জল নেই ,বায়ুমাধ্যমও নেই
গাছপালাহীন এক ডাঙাজমি
তবুও কীট-পতঙ্গের মত ছুটে যাই
মায়া আলোর দিকে
আগুনে পুড়ে আমরাও ধন্য হই
কিছুক্ষণের জন্য শীতল হই।