কাঁপো জল কাঁপো নম্র রেলগাড়ি
চয়ন ভৌমিক




অজস্র জনজীবনের মধ্যে হারিয়ে গেছে গভীর রাত। তারাভরা আকাশ দেখি … কত অচেনা নিরিবিলি আলো, তাদের লুকানো ঘাম…, তীব্র একটা ট্রেন ঘুমিয়ে আছে স্তব্ধ যাত্রার  ভিতর। এসব ছেড়ে, নেমে যাই মাঝপথে… আঁকাবাঁকা রেখা ধরে এটুকুই চলাচল আমার… চঞ্চল ডানায় উড়তে থাকি, রণক্লান্ত বাড়িগুলির উপর। এর মধ্যেই কোথাও তুমি লুকিয়ে আছো মায়াময় কন্ঠস্বর। লুকিয়ে আছো দূরত্ব… মোহময় সম্পর্ক



কাঁপো সমুদ্র… তোমার ঢেউ ছুঁয়ে নিতে দাও দু’হাতে। জলস্পর্শে এত আরাম, এত শিরশিরে প্রাণ, এত অপেক্ষা-মরণের সুখ – সে’কথা মুখে বলতে চাই না আমি। 
কাঁপো সমুদ্র, দেখো ভেঙে ফেলেছি ভয়, গলা জলে ডুবে গেছে, সমস্ত তিল ও সন্ধ্যাময় দেহবিষ। অথচ স্নান জানি না আমি। ভেসে ওঠার কৌশল অজ্ঞাত বলেই, লোনা জল নেমে গেল, জিভের গভীরে আকন্ঠ তৃষ্ণায়। 
সমুদ্র –  জানি স্থির জল নেই তোমার, বন্দর থেকে বন্দরে ভেসে বেড়ানো জাহাজ, কী সহজে পেরিয়ে যায় তোমার অতল গ্রন্থি। তবুও কাঁপো সামান্য। দেখো বহুদিন আড়ালে থাকা, এক বিষণ্ণ সন্ধ্যা এসে বসেছে তোমার বালিতে। লিখে রাখছে বালিতে তার বিস্মৃত করুণ আর্তি, রাধানাম।

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...