ষাট বাষট্টির গল্প
অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়


ষাটের হাতের কাছে একটা কানাভাঙা পাউডার কেসে বিস্কুটের টুকরো। ছুঁড়ে দেওয়া টুকরোগুলি সন্তর্পণে তুলে নিচ্ছে একটা কাক। সন্তর্পণে বলা ভুল, মানুষকে পাখিরা যতদূর বিশ্বাস করে ততদূর বিশ্বাসে সে আছে। কালো পূঁতির দানার মত চোখে সরের মত পলক পড়ছে ঘনঘন। অন্য কাকটা মনে হয় অনভিজ্ঞ, অবিশ্বাসী। সে ছাদের পাঁচিলেই বসে রইল। হয়ত অন্য কাকটাকে ছেড়ে যেতে মন সরছিল না তার।

ষাটের বিস্কুট বিতরণে পশুপ্রীতি নেই তেমন। আসলে চালকুমড়োর বড়ি দেওয়া হয়েছে আজ দুজনে মিলে, সারাদুপুর ধরে, মহা উৎসাহে। তারের জালির নিচে সেগুলি সাদা কাপড়ে চিকনের কাজ হয়ে সারাদিন ফুটে ছিল চৈত্রের রোদে। কাকটা বিস্কুটের লোভে এদিকে আটকে আছে। ওদিকটায় গিয়ে জালি উল্টোচ্ছে না। নইলে বেতো হাঁটু নিয়ে বিস্তর সমস্যা ছিল ষাটের। বাষট্টির হাঁটু বাঁকে না, টুলে বসে , ঝুঁকে ঝুঁকেই ম্যানেজ করেছে। কী করে উঠেছিল ছাদে, সে আর না বলাই ভাল।  

সন্ধে নামবো নামবো করছে। বাষট্টি ছেড়ে দিলেই বড়ির কুলো নিয়ে নামতে পারা যায়। ষাট মনে মনে একটু উচাটন। এদিকে মাথাটা বাষট্টির দখলে। জট ছাড়িয়ে, তেল দিয়ে এমন জুত করে ধরে আছে চুলের গোছ যে মাথা টনটন করে।

-আঃ মুখপুড়ি একটু স্থির দিয়ে থাকদি’নি। গোছ থেকে চুল বেরিয়ে যাচ্ছে যে। বাষট্টি ঝেঁঝে উঠল।

ষাটের আর সহ্য হল না। হ্যাঁ, সারাক্ষণ মাথা হেলিয়ে যাত্রার শ্রীরাধিকার মতন বসে থাকি। ওদিকে কাকটা ছিষ্টি এঁটো করে দিয়ে যাক। (আসলে সিরিয়াল শুরু হবে, আজ সেই জরীর কাঁচুলি পরা দুষ্টু জা’টাকে হেবি ক্যালাবে নায়িকা শতদীপা, চ্যানেল আগেই জানিয়েছে, এখন কি ছাতে বসে কলা বিনুনী গাঁথার সময়!)

বাষট্টির মনে হচ্ছিল মা এখুনি বড়ি দিয়ে, ওদের পাহারায় বসিয়ে নিচে গিয়েছে। সন্ধের শাঁখ বাজলে নিচের থেকে হাঁক পাড়বে, রুনু ঝুনু নাইমা আয়। মানিক আইয়া বইসা আছে। খুব রাগ হত তখন, মানিকদারা ঘটি, বাঙাল বুলি শুনলে রগড় করে, বাঙাল, পুঁটিমাছের কাঙাল, এইসব বলে। তার সামনে মা এরকম কাঠ বাঙালের মত কথা বললে ভারি রাগ ধরতো রুনুর। মাকে বলাও বৃথা, বললেই চোখ কপালে তুলে বলবে, ক্যান? নিজ ভাষায় কথা কইতে পারুম না?

বাবার বরং পোশাকী বাংলা রপ্ত ছিল মোটামুটি। শুধু গুনতে গুনতে মাঝে মাঝে চুচুল্লিশ বলে ফেলত। দুই বোনে ফিকফিক করে হাসত। শব্দের মাঝখানে ট দিয়ে সাঙ্কেতিক কথা চালাচালি হত। মার কুঁচকানো ভুরু দেখলে আবার স্পীকটি নট। 

বাষট্টির কাছে একটা খালি জুতোর বাক্স ছিল। তাতে মায়ের শাড়ির জরীর একটুকরো, বাবার চন্দনকাঠের বোতাম থেকে শুরু করে, পুরনো সিনেমা দেখতে যাবার টিকিট, রেশমের সুতোর গোছা সব জমানো আছে। বোতামের হাল্কা সুগন্ধ। বাষট্টির মাথার মধ্যে আরেকটা বাক্সে  আছে এইসব নাছোড় স্মৃতিরা।

শাঁখ কি বাজলো কোথাও?

বাষট্টি উৎকর্ণ হয়ে শোনার চেষ্টা করে। কিন্তু শাঁখ বাজবে সেরকম  পুরনো পাড়া তো আর নেই- যেখানে একতলা দোতলা ছোট ছোট বাড়ি ছিল, আর ছিল একপ্রান্তে, গঙ্গার ধারে তিনতলা চকমিলানো বিশাল রায়ভিলা। গঙ্গায় রায়দের নিজস্ব ঘাট ছিল। রায়েদের গুষ্টি মরেহেজে এখন অতবড় বাড়ির দুই-তিন প্রান্তে এক আধজন শরীক। মাঝখানের অংশে শুটিং পার্টি আসে। সিনেমায় রায়বাড়ি কখনো দাপুটে রাজার বাড়ি সাজে, কখনো ভাঙাচোরা অংশটা হয় পড়তি জমিদারের ভদ্রাসন।

সেইসব ছোট বাড়ি ভেঙে বহুতল উঠে গিয়েছে। উচ্চতায় তাদের পাশে রায়বাড়িকেই এখন পুঁচকে মনে হয়। বাষট্টি ভাবে, রায়বাড়ি যতই দুঃখী সাজার ভান করুক, তার ছাদের নিচে এখনো কয়েক ঘর লোক বাস করে, জীবিত মানুষের স্পর্শে যত্নে তার দিন চলে যায়। শুটিং-এর টাকায় দেখভাল  হয়ে যায়…পুরনো একতলা, দোতলা অবহেলায় পড়ে থাকা তালাবন্ধ বাড়িদের মত রায়বাড়ি সত্যিকারের দুঃখী নয়। এমনকী বাবার লোনের টাকায় একটু একটু করে করা এই বাড়িটার মত দুঃখীও নয়।

ষাট বড্ড ছটপট করছিল। বিরক্ত হয়ে যেমন-তেমন বেঁধে ছেড়ে দিল বাষট্টি। যাক খুলে যাক, রাতে উঠে নিজে নিজে বাঁধিস বসে। মন কখনো স্থির রাখতে পারিস না। হাড় জ্বালিয়ে খেলি।

শাঁখ না বাজুক, কিন্তু নিচে মনে হয় কলিং বেল বাজলো। ষাট ছাদের পাঁচিল থেকে ঝুঁকে দেখবার চেষ্টা করলো কে। তারপর আসছি বলে একটা আওয়াজ হাওয়ায় ভাসিয়ে সে চটপট বড়ির ডালা গুছিয়ে তুলতে থাকে। এবার বাষট্টির খেয়াল হল, সে একলা সিঁড়ি দিয়ে নামবে কি করে।

মুখে বলল, টুলটা থাকলো যে! ষাট মুখ-ঝামটা দিল, শুধু টুল কেন, তুমিও থাকো। প্রতাপ এসেছে মুদিখানার জিনিষ নিয়ে। আমি ওকে দোরটা খুলে দিয়েই আসছি, তোমাকে নিয়ে যাবো ধরে ধরে।

বললেই শুনছে যেন কেউ। বাষট্টি সিঁড়ির প্রথম ধাপে বসে ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে এক এক ধাপ নামার চেষ্টা করতে লাগলো। টুল থাক ছাতে। নিচে মোড়া আছে। ম্যানেজ হয়ে যাবে। আপাতত প্রতাপকে পটিয়ে যদি কাল একটু মাছ আনানো যায়…. এসব ছোটর মাথায় থাকে না। এখন বাইরে বেরনোরও তো ঝুঁকি। নাক-মুখ বন্ধ করে কি হাঁটা যায়। তাছাড়া যা ভিড়।

প্রতাপের জন্যই এই লক-ডাউনের সময়েও তত অসুবিধা হচ্ছে না। ওষুধটা বাজারটা আসা যাওয়ার পথে এনে দেয়। ফ্রিজে একটু পায়েস রাখা আছে। দিলে হয় ছেলেটাকে। ষাটের আবার এতসব খেয়াল থাকে না। একটা ফুসফুস করা বোতল নিয়ে স্যানিটাইজ করছে তো করছেই।

বাষট্টি সিঁড়ি থেকেই চ্যাঁচাতে লাগল, প্রতাপ, যাসনি বাবা। একটু খাড়ায়া যা। বলেই জিভ কাটলো। মা ওরই মধ্যে এরকম সেঁধিয়ে থাকবে, সময়ে অসময়ে বেরিয়ে এসে বে-এক্তার করে দেবে একথা   কি কস্মিনকালেও ভেবেছিল?

 ৩

প্রতাপ উশখুশ করছিল। তার মেয়ের অনলাইন টিউশন শুরু হবে। ফোনটা লাগবে। যদিও মেয়ের তাতে কোন আপত্তি নেই। এক নম্বরের ফাঁকিবাজ। কিন্তু দেরি করলেই মা আর বৌ একসাথে ফাটা রেকর্ড চালু করে দেবে। সেয়ানা বুড়ি, চিরকাল অন্যের ঘাড়ের উপর দিয়ে কাটিয়ে দিল। একটা সারাক্ষণের কাজের লোক রাখতে পারে তো। ছোটর তো পেনশন আছে, টাকা খায় কে ওদের। ইত্যাদি ইত্যাদি।

খায় কে তার কিছু প্রতাপ জানে। কিন্তু সে কথা মুখ ফুটে বলতে পারে না। ভিতরের ঘরে সত্তরোর্ধ বাবার কাশির দমকটা উঠলে মা ওদিকেই দৌড় দেয়। বিড়বিড় করে কী বলে ঠিক বোঝা যায় না।

আপাতত সে একবাটি হিমশীতল পায়েসের বাটির সামনে বসে ছাড়া পাবার কথা ভাবে।

ষাটের ব্যপারটা ঠিক নজরে পড়েছে। ততক্ষণে সিরিয়ালের কথা তার মনে নেই। রক্তমাংসের মানুষের কথার মধ্যে যে জোশ আছে তা কি সিরিয়ালের কচকচিতে থাকে। তাছাড়া বাষট্টি হাঁচোড়পাচোড় করে নেমে আসাতে তার রাগও হয়েছে একটু। আমাকে বললে তো আমিও দিতে পারতাম। সবসময় পাল্লা দেওয়া চাই। এই করতে গিয়ে পা পিছলে গেলে কী হত! সারাটা জীবন জ্বালিয়ে খেলে।

বিয়ের পিঁড়ি অব্দি গিয়েও পিছিয়ে আসার কথা মনে পড়ে গেল তার। বাবা চলে যাবার বছর পাঁচেক পরে, মা অতিকষ্টে মামাদের ধরে কাশীপুরের ফ্যাক্টরির এক কেরাণীর সাথে সম্মন্ধ এনেছিল। কিন্তু দিদিটা একলা পড়ে যাবে বলে… মা খুব রেগে গেছিল। বয়সকালে বিয়া বসলি না, বুড়াকালে কপালে কার লাত্থি-উষ্টা জোটবো, লিখ্যা রাখ। দিদি অবশ্য কিছু বলেনি। শ্যামলা রঙের, মাত্রই দু বছরের বড় দিদি চল্লিশ পেরনোর ক্লান্তি-ঝরানো গলায় বলেছিল, যা করবি ভেবেচিন্তে করিস।

একটু ফিচলেমি বুদ্ধি চাড়া দিয়েছিল। তুমি তাহলে মানিকদাকে বিয়ে করলে না কেন… দিদির চোখ একবার দপ করে উঠেই নিভে গেছিল। যা ইচ্ছে হয় কর।

বাষট্টির কি মনে পড়েছিল আভারানী স্মৃতি বালিকা বিদ্যামন্দিরের ক্লাস সে নিজে ক্লাস এইটে, ষাটের ক্লাস সিক্স׀ অঙ্কে দুজনেই একেবারে বিদ্যাধরী? ফেলের শেল বারদুই কান ঘেঁষে বেরিয়ে যাবার পর, একদিন মা বললো, গণিতটা মাইনকার কাছে গিয়া বুইঝ্যা লও না ক্যান? ছোকরা কলেজে সায়েন্স লয় নাই ঠিকই ,কিন্ত হ্যার নাকি মাথা অঙ্কে  সাফ ׀ দাদামশায়ের গুণ পাইছে, তাইনেও শোনছি বড় পন্ডিত আছিল׀

-পন্ডিত না ছাই, আসলে টিউশন দেবার পয়সা আমাদের বাড়িতে আসবে কোত্থেকে? ষাট রেগে মেগে বলেছিল৷ তখন কে বলবে ওদের ভালো নাম রুনু ঝুনু৷

বাষট্টি এতদিনে লক্ষ্য করেছে, ওরা ষখন রেগে যায়, ঝগড়া করে, ওদের জিভে মা-বাবা ভর করে। 

আঠারো উনিশে দুটো ফেলুকে পিটিয়ে গাধা থেকে ঘোড়া করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলেছিল মানিকদা৷ খুব সহজে হয় নি, সে সমকোণী ত্রিভূজেই পথ হারিয়ে ফেলত, বকা খেত আর নিঃশব্দে চোখ থেকে জল পড়ে যেত, আর ষাট রাগী, ষাট জেদী, অঙ্ক না পারার বকা যেন ঘি তে আগুন ঢালত, কাল থিকা তোমার কাছে পড়ুমনা’নে, তুমি অরেই পড়াও।

মানিকদা হাসতে হাসতে বলত, বাঙালের রাগ দ্যাখো।

ষাটের ইচ্ছে হত বৃষ্টি মাথায় করে বেরিয়ে পড়ে, যেদিকে দুচোখ যায় চলে যায়। কিন্তু বাষট্টিকে সেখানে রেখে যেতেও ইচ্ছে করত না তার। কারণ অঙ্ক থেকে মাথা তুলে সে একদিন এক আশ্চর্য আলো দেখেছিল।

বাষট্টি ইশকুলে মাস্টারনীর চাকরি পেয়ে মানিকদাদের বাড়ি গেছিল মিষ্টি নিয়ে। মানিকদার মা বুড়ির মুখের রেখা তখন আর তত কঠিন ছিল না। দুই বাড়ির মধ্যে এপার বাংলা ওপার বাংলার জটিলতা অনেকটা মিলিয়ে এসেছে। কিন্তু তারই মধ্যে একদিন বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে বাষট্টি আবিষ্কার করল তার সেই জুতোর বাক্স লন্ডভণ্ড করেছে কেউ। চিঠি-চিরকুট যা ছিল , প্রায় সব কুটিকুটি করে ছিঁড়েছে, জানলা দিয়ে ফেলে দিয়ে জানলার নিচেই মানকচুর ঝোপে ভরা জংলা পোড়ো জমিটায়।

ষাট ফিরল সন্ধে পার করে।  বাষট্টি তাকে খালি বাক্সটা দেখালে সে কেবল ঠোঁট উল্টালো।

তারপর অনেকদিন তারা একে অন্যের সঙ্গে কথা বলেনি। মানিকের বৌভাতের নেমন্তন্ন খেয়ে ফিরে ষাট  বাবার সঙ্গে ফিরেছিল অনেক রাতে। মা আর বাষট্টি যায়নি। বাষট্টি তখন ঘুমিয়ে পড়েছে। কী একটা অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে দেখে তার গলা জড়িয়ে শুয়ে আছে ষাট। তার চোখের জল গাল ভাসিয়ে দিচ্ছে বাষট্টির।   

প্রতাপ উশখুশ করছিল। তাকে উঠতে হবে এবার। দুই বুড়ির কাঁই-কিচির থামলে টাকার হিসেবটা বুঝিয়ে সে কেটে পড়তে চায়। বাবার শরীর ভাল না। জ্বর আছে। কাশিও। এ বাড়িতেও দুই পিস বুড়ি। কে জানে তার এতক্ষণ এখানে থাকা ঠিক হচ্ছে কি না। সে কেবল বললো, আজ যাই রুনু পিসি। বাবাকে দেখাতে নিয়ে যাব কাল। অনেক কষ্টে ডাক্তার দাসের এ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া গেছে।

ষাটের মনে পড়ল মানিকদা আর মানিকদার মা এসেছিল বিয়ের নেমন্তন্ন করতে। বাষট্টি বাড়িতে ছিল না। মার হাতের সাজা পান খেয়ে, নেমন্তন্নর চিঠি ধরিয়ে বুড়ি বলেছিল, সবাইকে আসতে হবে কিন্তু সরলা। যাবার সময় মানিকদা একবার পিছন ফিরে দেখেছিল। সে তো দাঁড়িয়েই ছিল। হয়ত অন্য কাউকে খুঁজেছিল মানিকদা।

জেদ করে বিয়েতে বরযাত্রী গেছিল সে। মার জর্জেট শাড়ি পরে। মানিকদার মামাতো পিসাতো বোনদের সঙ্গে। বরযাত্রীদের খাওয়াদাওয়া তাড়াতাড়ি মিটে গেলে বিয়ের অনুষ্ঠান দেখেছিল মন দিয়ে।

একসময় পুরুতঠাকুর বর-কন্যাকে খোলা উঠোনে দাঁড় করিয়ে বশিষ্ঠ আর অরুন্ধতী নক্ষত্র দর্শন করতে বললেন। সেসব নিশ্চয় বিয়ের পুঁথিতে লেখা ছিল। এদিকে পুরুতঠাকুরের তারাদুটি কোথায় সেই ব্যপারে কোনো ধারণাই নেই। তাই নিয়ে দুই পক্ষে হাসিঠাট্টা-টিটকিরি চলল কিছুক্ষণ। শেষে বরপক্ষের পুরুত এগিয়ে এসে বললেন তাঁর সপ্তর্ষিমণ্ডল কোথায় জানা আছে।

কে একজন বলেছিল, ওটা কালপুরুষ ছিল না তো? আবার একপ্রস্থ হাসাহাসি, হুল্লোড় হল।

প্রতাপ আবার বলল, উঠলাম আজকে পিসি। যাকে বলা সে শুনলো না। কী যেন ভাবছে নিজের মনে। ষাট শুধু বললো, আসি বলতে হয়।

উঠোন পেরিয়ে গ্রিলের গেট বন্ধ করে ষাট বন্ধ করে ফিরবার আগে একবার দেখল প্রতাপ দত্ত বাইকে স্টার্ট দিচ্ছে। পিছন থেকে তাকে দেখে তার বাবা, মানিক দত্তর মতই লাগে।

গেট আর রোয়াকের মাঝখানের একটুকু ফালি জমিতে এককালে গোলাপ লাগানো হত। শীতকালে ডালিয়া। এখন ঝোপঝাড় আগাছা। সেখান থেকে ষাট একবার আকাশের দিকে তাকালো। এক কোণে কোথাও ঘেঁষাঘেষি করে দুটির জায়গায় তিনটি তারা থাকলে কী এমন ক্ষতি হত পৃথিবীর!

1 Comment

  • Pradip Roy Chowdhury

    Reply March 14, 2021 |

    অরিন্দম তোমার লেখা ষাট বাষট্টির গল্প মুগ্ধ হয়ে পড়লাম ।
    দুই অনুঢ়া বোনের ,তাদের জীবনের পিছন ফিরে দেখার গল্প বেশ লাগলো । পড়তে পড়তে তাদের জীবনের হতাশা বোধ আমাকেও আচ্ছন্ন করলো । এটাই পাঠকের উপরি পাওনা তোমার গল্পের চরিত্রদের সাথে একাত্ম হওয়ার ।

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...