শ্রী তাপস কর

(এই সংখ্যার ‘আমচি মুম্বাই’ বিভাগে পরিচয় করিয়ে দেব মুম্বাই শহরের বিশিষ্ট চারজন অভিনেতা ও নাট্যকর্মীর সঙ্গে। নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা কয়েকযুগ ধরে এই শহরে বাংলা নাট্যচর্চার  পরিসরটিকে সজীব রেখেছেন। ওনাদের প্রত্যেককেই একই প্রশ্নমালা পাঠিয়ে অনুরোধ করেছিলাম সেগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর লিখে পাঠাতে। ওনারা আমাকে বাধিত করেছেন। আমাদের উদ্দেশ্য হলো সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বম্বেDuck-এর আগ্রহী পাঠকদের সঙ্গে এনাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং পাঠকদের মুম্বাই শহরে বাংলা নাট্যচর্চা সম্বন্ধে একটা ধারণা দেওয়া। )

আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন  শ্রী তাপস কর

১) আপনার একক এবং আপনার নাট্যদলের নাট্যচর্চার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

আমার নাট্যচর্চায় আসাটা কিন্তু হঠাৎই। সামাজিক কাজকর্ম, বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের পাশে থাকা, হাসপাতালে রাত জাগা, পুজোর স্টেজ সাজানোর মতো কাজ ছাড়া বিশেষ কিছুই করতাম না। যাইহোক ১৯৮৭ সালে আর সি এফ এর সরস্বতী পূজাতে সেইসময়ের মুম্বাই এর প্রতিষ্ঠিত নাট্যদল ‘উত্তরসাধক’, প্রয়াত অমল দাসগুপ্তের নেতৃত্বে, ঠিক করে আবার নাটক করবে। অভিনেতার অভাব ঘটায় আমাকে একটি চরিত্র দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে উত্তরসাধকের সমস্ত নাটকেই আমার ভুমিকা (ছোটখাট) থাকতো, সঙ্গে স্টেজ ডেকরেশনের দায়িত্বও পালন করতাম।  সেই হিসাবে আমার নাট্যচর্চার প্রথম গুরু শ্রদ্ধেয় অমলদা। কিন্তু তখনও সিরিয়াসলি নাটক করার কথা ভাবিনি। আমার নাট্যচর্চায় এরপর বিরাট পরিবর্তন আসে বন্ধু শ্রীয়ংকরের সাহচর্যে এসে, বুঝলাম কাকে বলে সিরিয়াস নাট্যচর্চা। ওর গভীর ভাবনা চিন্তার কথা মুগ্ধ হয়ে শুনতাম।  একটা পুর্ণাঙ্গ নাটকের সবকটি চরিত্রে ও অভিনয় করে আমাদের শোনাত, ঘন্টার পর ঘন্টা আবৃত্তি করে শোনাত। নানান স্বাদের কবিতা, শ্রুতি নাটক, ওর সঙ্গে আমরা আড্ডায় বসলে খেয়াল থাকতো না কখন রাত ভোর হয়ে গেছে। ওর দ্বারা  প্রভাবিত হয়েই আমি  কলেজ স্ট্রীটের ‘নবগ্রন্থ প্রকাশনী’ থেকে নাটকের বই কেনা শুরু করি। সেই সময় প্রচুর নাটক পড়েছি ও মুখস্ত করেছি। সব কটা চরিত্রকে রূপ দেবার চেস্টা করতাম একা একা। ইতিমধ্যে অমলদা তাদের আগে মঞ্চস্থ করা সফল নাটক ‘বাকি ইতিহাস’ আবার করার সিদ্ধান্ত নেন, আমাকে একটা ছোট্ট চরিত্র ‘বাসুদেব’ দেওয়া হয়। এই প্রথম দর্শকরা আমার অভিনয়ের প্রশংসা করে, ফলে নাটকে আমার উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। শ্রীয়ংকর ও তার নাট্যদল ‘সমশপ্তকে’ আমাকে অভিনয়ের সুযোগ দেয়, নাট্যকার অমল রায়ের লেখা ‘তোমার তটরেখা থেকে’  নাটকে একটা ছোট্ট অথচ গুরুত্বপুর্ন চরিত্র ছিল মাতাল বাউন্ডুলের। নাটকটি সমশপ্তককে অনেক পুরস্কার এনে দিয়েছিল। এরপর আমরা মঞ্চস্থ করি মনোজ মিত্রের ‘অশ্বথামা’।  এটাও এক মঞ্চ সফল নাটক।  এই সময় আমি ‘উত্তরসাধক’ এর পুর্ণাঙ্গ নাটক ‘তোতারাম’ পরে ‘পুটি রামায়নে’ ও ‘চোপ্‌ আদালত চলছে’ নাটকে অভিনয় করি। এরপর হঠাৎ শ্রেয়ংকর বি এ আর সি র চাকরি ছেড়ে কোলকাতায় অধ্যাপনার চাকরি নিয়ে চলে যায়, চন্দন রথ ‘সমশপ্তকে’র হাল ধরে। কিন্তু আমি একটা শূন্যতা অনুভব করি শ্রীয়ংকরের অভাবে।  সেইসময়ে ওর ছেলে সংলাপের নামে আমি একটি নাট্যদল তৈরী করি ‘সংলাপ, মুম্বাই’, যারা শুধু নাটক  নয় বাঙ্গলা সংস্কৃতির সব ধারায় কাজ করবে, এই সময় একটা বেশ বড় দল গড়ে তুলতে সমর্থ হই।  সে বছর আমরা পুজোয় দুটি অনুষ্ঠান করি যেখানে, গান, নাচ, শ্রুতিনাটক এবং মঞ্চ নাটক সবই আমাদের গ্রুপ থেকে করা হয়েছিল। শ্রুতিনাটকে আমাদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পরে। আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকেই আমন্ত্রণ পেতে থাকি। এই সাফল্যের পিছনে বিরাট অবদান অভিনেত্রী শ্রীমতি মলি দত্তের। তখন আমরা রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার’ এবং অঞ্জন দত্তের ‘প্রিয়বন্ধু’ মত শ্রুতিনাটক ও বিভিন্ন মঞ্চে অভিনয় করেছি। মুম্বাই-এ বেশীরভাগ দলই তখন মনোজ মিত্র, উৎপল দত্ত, মোহিত চট্ট্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় নাটক গুলি মঞ্চস্থ করতো, আমি ঠিক করি প্রচলিত গল্প এবং মঞ্চস্থ করা নাটক নিয়ে আমরা প্রযোজনা করবো না। এই ব্যাপারে উৎসাহ পাই প্রয়াত অসিত মুখোপাধ্যায়ের ‘আকরিক’ নাটকটি দেখে। কারণ ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ছোট গল্পটি আমার পড়া ছিল। চন্দন সেন রচিত একটি শ্রুতিনাটক ‘একটু সুখ” কে আমি নতুনভাবে নাট্যরূপ দিয়ে মঞ্চস্থ করি। এই নাটকটি আমরা সর্বাধিক ১৩ বার মঞ্চস্থ করেছি। কটকে ‘থিয়েটার অলিম্পিয়াডে’ আমরা এই নাটকটি অভিনয় করে অনেক পুরস্কার পাই, একটি ব্যাপার উল্লেখ না করে পারছি না দিল্লী ন্যাশনাল থিয়েটারে অভিনয়ের পর যখন মেক-আপ তুলছি তখন গ্রীন রুমের দরজায় হঠাৎ টোকা শুনে দরজা খুলতেই এক ভদ্রলোক ডাকলেন। নাটকে আমার অভিনীত চরিত্রের নাম ধরে। ‘সৌমেন, আমি চন্দন সেন’, আমি চমকে উঠি, তাড়াতাড়ি আমরা প্রণাম করেই ওনার মতামত চাইলে উনি উচ্ছ্বসিত প্রশংশা করে বলেন, আমি ভাবতেই পারছি না যে আমার একটি ৬ পাতার শ্রুতিনাটক এরকম একটা একাঙ্ক নাটক হতে পারে! আমরা সেখানেও উচ্চ প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হই। এরপর প্রচেত গুপ্তের ছোটগল্প অবলম্বনে নাট্যরূপ দিই ‘গুরুমা’, পরের বছর ‘জোকার’। এই নাটকগুলিও পুরস্কৃত হয়েছিল। এরমাঝে আমি মুম্বাই-এর বিভিন্ন দলের হয়ে অন্যান্য নাটকেও অভিনয় করেছি ‘সার্থক রূপায়ন’, ‘আনন্দম’, ‘বেঙ্গল ক্লাব, শিবাজী পার্ক’, সান্ত্রাক্রুজের মুখার্জী বাড়ির শ্রীমতি শমিতা মুখার্জীর ‘সাহেব বিবি গোলাম’-এ প্রখ্যাত অভিনেতা বিশ্বজিত এবং রাজা মুরাদের সাথে, এরপরে ‘অভিনেত্রী’ নাটকে মুখ্য খলনায়কের চরিত্রে, ’নবী মুম্বাই বেঙ্গলী অ্যাসোসিয়েশনের’সাথে, ‘সমশপ্তকে’-র হয়ে নটী বিনোদিনীর আমরা অনেক শো করেছিলাম, এই নাটক খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। ‘দর্পণ’ এর হয়ে এখানে এবং কোলকাতায়, ‘দিশারী’, সিবিডি বেঙ্গল ক্লাব তাদের নাটকের পরিচালনার ভার আমার উপর দেয়। ‘সার্থক রূপায়ন’-এর কর্ণধার প্রয়াত রতন্ দাসগুপ্তের সাহচর্য ও উৎসাহ দান চিরকাল মনে রাখবো। ওনার সাথেই প্রথম কোলকাতায় নাটক করা ‘সদর দরজা’, এরপর যাই ‘স্ত্রীরপত্র’ নাটক নিয়ে। এই সময়েই আমি একটা দুঃসাহসিক কাজ করে বসি, বেনারসে গোকুল আর্টস এর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আমার নাট্যরূপ দেওয়া ‘একটু সুখ’ নাটকটি হিন্দিতে অনুবাদ করে ‘জারা সা সুখ’ নাম দিয়ে সর্ব ভারতীয় হিন্দি লঘু নাটক প্রতিযোগিতায় যোগদান করি এবং সেখানেও আমাদের প্রযোজনা সাফল্য লাভ করে। সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার সংলাপের ঝুলিতে আসে। প্রিয় নাট্যকার শ্রী শঙ্কর বসু ঠাকুর মহাশয় তার লেখা অনেক নাটকই আমাকে অনুমতি দিয়েছেন মঞ্চস্থ করার জন্য।  গত ১০ বছর ধরে ‘চেম্বুর ক্লাব নাট্যোৎসবে’ আমরা সেই সব নাটক মঞ্চস্থ করেছি।

২) নিজেকে মূলত একজন অভিনেতা না নাট্যশিল্পী, কী ভাবে দেখেন?

নিজেকে আমি সর্বদাই নাট্যকর্মী বলে মনে করি, কারণ নাটক মানে তো শুধু অভিনয় নয়। পরিচালনা ,মঞ্চসজ্জা, মেক আপ, আলো, আবহসঙ্গীত ও উপস্থাপনা প্রতিটি জিনিসই সমান গুরুত্বপুর্ন। প্রতিটি জিনিস নিয়েই উল্লেখযোগ্য না হলেও অল্প বিস্তর পড়াশুনা করেছি। আলোর বিষয়ে প্রখ্যাত আলোক শিল্পী শ্রীতাপস সেনের এক মুখোমুখি আলোচনা আমায় ভীষন ভাবে সাহায্য করেছে। আর মঞ্চসজ্জায় তো আমার বরাবরই একটা উৎসাহ ছিল।

৩) নাটক আপনার কাছে কী? বিনোদন? প্যাশন? না কি  অন্যতর কিছু?

দেখুন নাটকে আসা আমার জীবনে অনেক পরে। কৈশোর ও যৌবনের মধ্যভাগ পর্যন্ত ফুটবল আমার ধ্যানজ্ঞান ছিল। ২০০০ সাল পর্যন্ত খেলা, মুম্বাই এর আই সি এল ফুটবল টিমের কোচিং করিয়েছি। কিন্তু এটা বলতে আপত্তি নেই শ্রীয়ংকরের সাথে বন্ধুত্বের পর আমি নাটককে আমার প্যাশন করে নিয়েছি। আর নাটকে বিনোদন নিশ্চয়ই খুঁজি, তবে সেই খোঁজা তার অন্যান্য মুল্যায়ন গুলোকে বর্জন করে কখনোই নয়। অর্থাৎ লোকে খাবে বলে অপ্রয়োজনে বিনোদনের উপকরণ গুঁজে দেওয়া তা কখনোই করিনি। সামাজিক গল্প যাতে অনায়াসে সমাজের জন্য হীতকর কোন বার্তা বহন করে, তেমন স্ক্রীপ্টই পছন্দ করি, শুধুই ফর্ম এবং চমক জাগানো আয়োজন জানি না হয়তো আমার সীমাবদ্ধতার কারণেই আমায় আকর্ষণ করে না।

৪) মুম্বাইয়ে বসে বাংলা নাটক করতে গিয়ে কোন অসুবিধাগুলোকে সব থেকে বড় সমস্যা বলে মনে করেন?

মুম্বাইয়ে অথবা প্রবাসে আমরা যে পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে নাটক করি, সেখানে কতগুলো প্রতিকূলতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার মধ্যে প্রধানহল অভাব ব্যাক-স্টেজের মানুষের অপ্রতুলতা। খুব স্বাভাবিক ভাবেই একজন যখন তার পেশা, সামাজিক দায়-দায়িত্ব সামলিয়ে নাটকে আসছেন সবার আগে তার চাহিদা থাকে স্টেজে অভিনয় করার, তাই ভালোবেসে শুধুই ব্যাক স্টেজে কাজ করছেন এমন মানুষ এখনো হাতে গোনা। আলো বা আবহ সঙ্গীতের ক্ষেত্রে কিছু পেশাদার শিল্পীর সাহায্য নিয়ে হয়তো বা কাজ চালানো যায়, কিন্তু পর্দার আড়ালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলেও সেটা করার মানুষের একান্ত অভাব। একটা উদাহরন দিই চেম্বুর ক্লাবের হয়ে যখন আমরা কোলকাতার বিখ্যাত ‘চেতনা’ নাট্যদলকে আমন্ত্রণ জানাই, তাদের নাটক ‘মগন রাজার পালা’র জন্য তারা ১২ জনের দল নিয়ে এসেছিলেন।  যার মধ্যে মঞ্চে অভিনয় করেছেন মাত্র দু-জন , আর এই মুহুর্তে মুম্বাই-এর জনপ্রিয় পরিচালক লাকি মুখার্জী যে নাটকটি মঞ্চস্থ করতে চলেছেন (২৪ শে এপ্রিল) তাতে অভিনয়ে আছেন ৫০ জনের অধিক শিল্পী কিন্তু তিনি আক্ষেপ করছিলেন ব্যাক স্টেজে কাজ করার মত ৪ জনকেও পাচ্ছেন না। সংখ্যা তত্বের বিচারে মুম্বাই-এ বাঙ্গালীর সংখ্যা যথেষ্ট হলেও বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ আছে এমন মানুষ শতকরা হিসাবে ভীষনই কম। এখানে মৌলিক নাট্যকারের একান্ত অভাব, এই জায়গা থেকেই একসময় ঠিক করেছিলাম প্রিন্টেড স্ক্রীপ্ট নিয়েই কাজ করবোই না, তিনটি ছোট গল্পকে নাট্যরুপ দিয়ে মঞ্চস্থ করেওছি, কিন্তু আমি তো নাট্যকার নই। মুম্বাই-এর বাংলা নাটকের ক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য জিনিষ হল এখানে আমরা শিল্পীরা যে কোন দলের প্রয়োজনেই একে অপরের পাশে থেকেছি, ব্যক্তিগত ভাবে আমি এখানে প্রায় সব দলের হয়েই অভিনয় ,আলো,আবহ ,মঞ্চ,অথবা পর্দার আড়ালে থেকেও সাহায্য করেছি, এটা কিন্তু একটা উল্লেখযোগ্য দিক।

‘সংলাপ,মুম্বাই’ নাট্যদলটি বানাবার পরে দেখি এখানে একটি প্রযোজনা একক ভাবে মঞ্চস্থ করা ভীষন ব্যয়বহুল , তখন থেকেই আমরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করতে শুরু করি। এখানে সাফল্য লাভের পর সর্বভারতীয় ক্ষেত্রের দিকে পা বাড়াই। কিন্তু দুঃখের বিষয়  ‘সার্থক রূপায়ন’ এর পর কেউই মুম্বাই-এ সর্ব ভারতীয় নাট্যপ্রতিযোগিতার আয়োজনে এগিয়ে আসেননি।

৫) আপনার নাট্যদলের উল্লেখযোগ্য প্রযোজনাগুলো কী?  দু একটি প্রিয় কাজ সম্বন্ধে একটু  বিস্তারিত বলুন।

আমাদের নাটক ‘একটু সুখ’ মুম্বাই এর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হবার পর ২০০৩ সালে কটকে ‘থিয়েটার অলিম্পিয়াডে’ অংশগ্রহন করি। সেখানে আমরা ৪টি পুরস্কার লাভ করি- ‘সেরা অভিনেতা’, ‘সেরা অভিনেত্রী’, ‘সেরা সমকালীন নাটক’ এবং ‘সেরা পরিচালক’। এরপর ২০০৪, এবং ২০০৫-এ আমাদের নাটক উচ্চপ্রশংশিত হয়। আমাদের দলের দুজনকে তারা “নাট্যভূষন” উপাধি প্রদান করেন। আমরা ’অনামি থিয়েটার সেন্টার’-এর আমন্ত্রণে জলপাইগুড়িতে যাই। সেখানেও আমরা তিনটি পুরস্কার লাভ করি। এরপর একে একে এলাহাবাদ, নিউ বনগাঁইগাও, নয়াদিল্লীর ন্যাশানাল ড্রামা ফেস্টিভাল, নাগপুর, বেনারস সর্বত্রই আমরা প্রশংশিত হই এবং পুরস্কৃত হই। ২০০৮ সালে ভাশী কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত শ্রুতিনাটক প্রতিযোগিতায় আমাদের প্রযোজনা সেরার সেরা পুরস্কার এবং সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারও আমরাই পাই। ২০১১ সালে প্রয়াত পরিচালক অমল দাসগুপ্তের স্মরণে আমরা নতুন টিম নিয়ে বাদল সরকারের ‘বাকি ইতিহাস’ নাটকটি মঞ্চস্থ করি, ২০১৩ সালে কোলকাতা ‘প্রাচ্য’ আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক বাংলা নাটকের উৎসবে’ মুম্বাই এর একমাত্র দল হিসাবে আমন্ত্রণ পাই। ‘সমশপ্তকের’ হয়ে পুনার ‘দিশারী’ আয়োজিত নাট্যোৎসবে আমাদের নাটক ‘তোমার তটরেখা থেকে’ নাটকটি পুরস্কৃত হয়। আমি সহ অভিনেতা হিসাবে মাতালের চরিত্রে বিখ্যাত অভিনেতা নীলু ফুলে দ্বারা প্রশংশিত হই। এই নাটকেই ‘সার্থক রূপায়ন’ আয়োজিত প্রতিযোগিতায় আমি পুরস্কৃত হই। ‘বেঙ্গল কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন, খারঘর আমাকে বাংলা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সন্মানীত করেন।

৬) আপনার নাট্যদল কি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে? পেলে, কী?

এটা ঠিক কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি বলছেন বুঝলাম না। তবে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো থেকে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের দিনটিকে স্বীকৃতি দিয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারীকে International Mother Language Day ঘোষনা করলে আমরা ‘সংলাপ, মুম্বাই’ ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর এই দিনটিকে ‘মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে উৎযাপন করে আসছি। বাংলাদেশ হাই-কমিশন থেকে একসময়ে প্রতিনিধিরা এতে যোগদান করেছেন। আজ ২৩ বছর ধরে মুম্বাই-এর একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে আমরা এই দিনটি পালন করে চলেছি।

৭) নাটক নিয়ে কোনো স্বপ্ন দেখেন? জানতে চাই কী সেই স্বপ্ন।

সময় বড় দ্রুত বদলাচ্ছে, কোন কিছুই মানুষের মনে গভীরভাবে দাগ কাটতে পারছে না। তার উপর গত দুবছরের বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে। তাই কিছু স্বপ্ন আগে যেভাবে ভাবতাম সেটা আজ প্রাসঙ্গিক কিনা নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। আমরা যারা আঞ্চলিক ভাষায় কাজ করছি তাদের সীমাবদ্ধতা যা আছে তা ধরে নিয়েই চলি, কিন্তু আমাদের পুর্বজরা যেটা বলতেন পুজো প্যান্ডেলের নাটক বা প্রতিযোগিতার নাটক যাই করি না কেন তার একাধিক শো করার সুযোগ এখানে খুবই কম, সেই হিসাবে আমরা যখনই অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামছি তারা নিয়ে আসছেন বহুবার মঞ্চস্থ হওয়া নাটক সেখানে আমরা প্রথমবার মঞ্চস্থ করছি। সেই কারনে আমার খুবই ইচ্ছা এখানে প্রতিবৎসর একটি সর্বভারতীয় বাংলা নাট্য প্রতিযোগীতার আয়োজন করা, তাহলে আমরা এখানে বসেই সারা ভারতে নাট্যচর্চা কেমন হচ্ছে তার আস্বাদ পেতে পারি, একটা প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন যেখানে অতি অল্প খরচে ছোট জায়গায় অভিজ্ঞ ও বোদ্ধা দর্শকের সামনে এখানকার সমস্ত ছোট দলগুলি তাদের নাটক উপস্থাপনা করে তাদের মতামত নিয়েই আরো একটু মাজাঘষা করার সুযোগ পাবেন , সেই জায়গাটা তৈরী করা। বর্ত্তমান ছাত্রসমাজ এবং চাকুরিজীবীরা তাদের পেশায় এতটাই সময় দিতে বাধ্য হন যে তাদের অবসর সময় কমে আসছে। তাই পেশাদারী শিল্পী না হলে নাটকে আসার প্রবণতা কমতে বাধ্য। সেই ক্ষেত্রে নাটককে বাচিঁয়ে রাখা, যেখানে দর্শক সংখ্যা মুষ্টিমেয়, সেখানে সত্যই অত্যন্ত কঠিন। এই জায়গাগুলো নিয়েই ভাবছি। কিন্তু সেই সাংগঠনিক শক্তি আমার নেই। ব্যস এইটুকুই, সকলকে অফুরান শুভেচ্ছা জানাই। নমস্কার।

4 Comments

  • Sanjay Roy

    Reply May 20, 2022 |

    Tapasda u are a unique character and all of us love u in whatever way u present yourself. I personally find u very energetic. Full of knowledge in regards to bengal culture. Where ever u go whomsoever u meet u make the day so remembered. I wish u please be as u are and wish u good health always🙏

  • Ashim Biswas

    Reply May 20, 2022 |

    অসাধারণ লেখাটা, মুগ্ধ হলাম। এটাই শেষ নয় তাপস দা আরো লেখা চাই।

  • P k lahori

    Reply May 20, 2022 |

    Nicely narrated

  • Prodyumna

    Reply May 21, 2022 |

    Many unknown facts we came to know about our favourite Tapas ,known to us a social activist.

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...