বাদবাংলার কবি সুকুমার চৌধুরী
তুষ্টি ভট্টাচার্য

   বহির্বঙ্গের কবি সুকুমার চৌধুরী। নাগপুর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সম্পাদিত খনন পত্রিকা। বছরে দুবার প্রকাশিত হত পত্রিকাটি। খনন ছিল কবি/লেখকদের নিজস্ব প্লেগ্রাউন্ড। যেমন খুশি, এক ডজন কবিতা বা যে কোনো মাপের লেখাই হোক না কেন, সুকুমার চৌধুরী সেই লেখা ছাপতেন অম্লান বদনে। তাঁর মতবাদ ছিল, কয়েক লাইন লেখা পড়ে সেই কবি বা লেখকের সঠিক মূল্যায়ন হয় না পাঠকের কাছে। স্বাধীনতা দেবার এই দরাজ হাতেই তিনি নিজেও লিখতেন প্রচুর। বা বলা ভাল, প্রচুর, প্রচুর। নাগপুরে বসেই পত্রিকা করতেন, লেখকদের নিজে হাতে ঠিকানা লিখে কপি পাঠাতেন, আবার খনন প্রসঙ্গে নিয়মিত মেল চালাচালি করতেন লেখকদের সঙ্গে। পত্রিকা এবং কবিতা ছাড়া তিনি আর কিছু বুঝতেন বলে আমার মনে হয় না। আর কলকাতা বা বাংলায় এসে খ্যাতি লাভ করার ইচ্ছে তাঁর ছিল বলেও আমার মনে হয়নি কখনও। সেই জন্যই হয়ত নিজের মেজাজে চলতেন, কাউকে পরোয়া করেননি।

আশির দশক থেকে নাগপুরে। তিনি বলতেন বাদবাংলা। বহির্বঙ্গ শব্দে তাঁর ঘোরতর আপত্তি ছিল। বিভাজন যখন হয়েছেই, বাংলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁকে, তাই বাদবাংলা। একদিকে রাগী, গোঁয়ার, অন্যদিকে সরল—এমনই এক কবি ছিলেন সুকুমারদা। তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী বলি, আমি যা দেখেছি, হুবহু তাইই লিখেছি। সেই কারণেই তাঁর লেখায় কোনো নির্মাণ পাইনি তেমন ভাবে। নিজস্ব সরল এক টানে একের পর এক লিখে গেছেন চার হাতে। তাঁর চোদ্দটি কাব্যগ্রন্থের কয়েকটির নাম উল্লেখ করি এখানে। ফনিমনসার উলু, হটাও ইয়ার, পদ্য প্রতিবেশী, মায়ের বাপের বাড়ি,  আমার সনেট,  উলঙ্গ ডায়েরি,  লিবিডোর হাড়মালা,  আমার লাগে না,  পাউচ সভ্যতা,  ছন্নমতির কুহু, আমার কাটিয়ে ওঠা মানুষ হে রজনীর নীল, লাল লীল হইলদা তিন দিকে ঝাইলদা, মাংস ও মনীষা। তিনি যখন আমার সনেট লিখছেন, তখন সেখানে ছন্দ অটুট।  

সুকুমার চৌধুরীর ‘মায়ের বাপের বাড়ি’ বইয়ে মামাবাড়ির পথে যেতে পায়ের পাতায় ধানখেতে লুটিয়ে পড়ার চিত্রকল্প এঁকে কবি সকল পাঠককেই স্মৃতিকাতর করে তোলেন। তাই প্রতিটি চরণ হয়ে দাঁড়ায় অবশ্যপাঠ্য। সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার অতিবাহনের মধ্যেও যে সূক্ষ্ম শ্রেণিবৈষম্য রয়েছে কবির দৃষ্টিতে তা এড়িয়ে যেতে পারে না। তাই কবি বলে ওঠেন–

“আর আমি তো গরিব, গেঁয়োভূত, চাষাভূষো মানুষ

আমার মনেই থাকে না আজ রবিবার, আজকে ছুটির দিন

আনন্দেও দিন, উৎসবের দিন।”

[রবিবার]

‘ফাঁকা বুথে’ নামের কবিতায় সমকালীন নির্বাচনকেন্দ্রিক ভারতীয় রাজনীতির খণ্ডচিত্র আঁকা হয়েছে। প্রচলিত অসুস্থ রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে কবি প্রত্যাশা করেন এমন পরিবেশের, যেখানে ভালোবাসাকে অবলম্বন করেই ভোটে জিতে জনপ্রতিনিধি হওয়া যাবে।

সুকুমারের কবিদৃষ্টি খুবই সূক্ষ্ম। কেঁচোর ঠোঁটে সেলাই করার দৃশ্যও তাঁর চোখে নতুন অর্থ বোনে। তাই তিনি লিখতে পারেন-

‘’আর আমরাও আমাদের জীবনকে

সুন্দর ও নিশ্চিন্ত কোরে তোলার জন্য

নিরুত্তাপ ও সুখী কোরে তোলার জন্য

অশীতিপর কেঁচোর ঠোঁটে সেলাই করে যাই”

(কেঁচো)

খুবই সোজাসাপটা কথা বলেন সুকুমার চৌধুরী। ব্যক্তিজীবনে এবং কবিতায় এই সরলতার সুষ্ঠু প্রকাশ ঘটেছে। এই সরলতাই সুকুমারের কবিতার যুগপৎ দোষ ও গুণ। দোষ এই কারণে যে, সরলতার কারণে কখনো-কখনো কথার চেয়ে বেশি গভীরে ঢুকতে পারে না। আর গুণ এই কারণে যে, অনেক কঠিন সত্যকে তিনি সরলতার মোড়কে পরিবেশন করার মতা রাখেন। যেমন ধরুন, ‘দিনলিপি’ কবিতার কথাই বলি। একদিনের দেখার বিবরণ অতি সরল বিবরণ। কিন্তু আপাত সরলরেখার কয়েকটি টানে কবি এঁকে ফেলেন কংগ্রেস-বামফ্রন্টের ভোটের আগুনের কথা। যাঁরা এই গল্প জানে না তাদের কাছে যেমন উপাদেয়, যারা জানে তাদের কাছেও নতুন মাত্রার চিত্রকল্পা! এই হচ্ছে সুকুমার চৌধুরীর কবিতার সারল্য ও সাফল্য।

সুকুমার চৌধুরীর কবিতার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রতীকময়তা। তাঁর কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীকের হাত ধরে পাঠক নিজে নিজেই ভাবনার গহীন অরণ্যে চলে যেতে পারে। প্রতীকের সুবিধা এই যে, একটি বস্তুকে দিয়ে অন্য বস্তুকে বোঝানো যায়। এতে পাঠকের চিন্তার সুযোগ তৈরি হয়। পাঠক নিজের মতো করে নতুন অর্থ তৈরি করে নিতে পারে। এতে পাঠকসমাজের কাছে কবিতার গ্রহণযাগ্যতা বাড়ে। একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায়। যেমন কবি লিখেছেন

“এরকম পোড়া দিনে তুমি দিলে গুড়জল

তালপাখা নেড়ে দিলে মিঠে হাওয়া

তুমি কি প্রথম বৃষ্টি দারুণ খরার শেষে”

(রুমা)

এর চেয়ে সহজ ও সরল বাক্য কি কবিতায় প্রয়োগ করা যায়? কিন্তু সেই সরলতার মধ্যেই কবি প্রতীকী ব্যঞ্জনায় সৃষ্টি করেছেন বাংলার চিরায়ত প্রকৃতির স্বস্তির রূপ। পোড়া দিনে গুড়জলের আরাম যে কী মধুর বাঙালি ছাড়া আর কে বোঝে? তবে শহুরে বাঙালি নয়, গেঁয়ো বাঙালির কাছেই এটি প্রিয়। তালপাখা তো বৈদ্যুতিক যুগেও গ্রামের মেঠোহাওয়া প্রবাহের মুখ্য মাধ্যম। এই দুই বাক্যে গুড়জল কি কেবলই গুড়জল, তালপাখা কি কেবলই তালপাখা? না, তা নয়। এখানেই কবিতার প্রতীকময়তা। গুড়জল ও তালপাখা এখানে গ্রামীণ বাংলার প্রতিকূল আবহাওয়ায় স্বস্তি ও শ্রান্তিমোচনের প্রতীক। আর কবি যখন বলে, ‘তুমি কি প্রথম বৃষ্টি দারুণ খরার শেষে’, তখন তা কেবল প্রকৃতির অনুষঙ্গ হয়ে থাকে না, মানিবক প্রেমের উৎসারণ হয়েও ধরা পড়ে। প্রথম প্রেমের অনুভূতির মতো প্রগাঢ়তা নিয়ে উপস্থিত হয় পাঠকের মনে। সুকুমারের কবিতা এভাবেই বোধের গভীরে নাড়া দেয়। আপাত সরল চরণও চিরায়ত পথে হেঁটে যাওয়ার শক্তি ধারণ করে।

‘লাল লীল হইলদা তিন দিকে ঝাইলদা’ তাঁর জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ শুধু নয়, শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বলে আমি মনে করি। এই কাব্যগ্রন্থটির ভূমিকায় তিনি নিজেই লিখেছেন—আমার কবিতা ঠিক এরকম নয়। এরকম কখনো হয় না। আসলে পারি না। এবারে যে পারা গেল, পেরে উঠলুম, এই শরতে মা-ভূমিকে নিয়ে এতখানি, সে শুধু ছেলেবেলার বন্ধু ও শুভৈষীদের উতসাহ, ঝালদার আত্মার আত্মীয় সুজনদের উদ্দীপনায়। অস্বীকার করতে চাই না, আঞ্চলিক ভাষায় কিছু নির্মাণ করার জ্ঞান, বৈদগ্ধ, পরিমিতি ও ব্যকরণের প্রয়োজন হয়, প্রয়জন হয় অপরীসীম ধৈর্য ও সাধনার, তার কিছুই আমার নেই। শুধু বলতে পারি, যা দেখেছি, যা শুনেছি, অনুভব করেছি, শুধু তাই, শুধু সেগুলিই, শুধু তারাই, যার অধিকাংশই অতিজীবিত, অবিকল উঠে এসেছে এইসব কবিতায়। দুরন্ত ও দুঃসাহসিক স্ট্রোকে কবিতাগুলির অপরিমেয় ফাঁকফোকরগুলি ভরিয়ে দিয়েছেন প্রকাশদা, কবি চিত্রী প্রকাশ কর্মকার। প্রকাশদা পুরুলিয়া ভ্রমণ করেছেন বহুবার। বিদায়ের আগে এমনটি আর হবে না, এইটুকু সবিনয়ে বলি’।

    পুরুলিয়ার কবি বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, কেতকীর সম্পাদক সুকুমার চৌধুরীর এই বই নিয়ে যা লিখছেন সেটা এখানে তুলে দিই বরং। এই কাব্যগ্রন্থ যে সম্পূর্ণ অন্যমাত্রার বিপ্লবের লেখার নির্যাস পড়লেই পরিষ্কার বোঝা যাবে।

বিপ্লব লিখছেন, “আশির শক্তিমান কবি সুকুমার চৌধুরী নিজস্ব প্রকরণে ও আঙ্গিকে অনন্য মাত্রা যোগ করেছেন জেলার আঞ্চলিক সাহিত্যে। ‘লাল লীল হইলদা তিন দিকে ঝাইলদা’ তাঁর জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ শুধু নয়, শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের স্বীকৃতিও পেয়েছে ‘দূরের খেয়া’, ‘নাগপুর থেকে’। মহারাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত এই কবির সাথে তাঁর জন্মভূমি পুরুলিয়ার মাটির সংযোগ যে কত নিবিড়, তা বোঝা যায় তাঁর কবিতাভাবনা অনুধাবন করলে। তাঁর কাব্যভাষা মাড় গালা ভাতের মতই ঝরঝরে নির্মল। গ্রামীণ যাত্রাপালা, লৌকিক দেবদেবী থেকে আরম্ভ করে ইঁজর পিঁজর ঝান্ডি খেল পর্যন্ত উদ্ভাসিত হয় তাঁর নির্মাণে। ভাভরার গন্ধে ম ম করে তাঁর কবিতার প্রতিটি অনুচ্ছেদ। লাম্বু সাউ, লুকা মাস্টার, ফাটা গনেশ, মাখনা, কন্ডাকটর লন্দী, মুতড়ু, সনুয়া পেড়কা, এইসব প্রান্তিক মানুষজনের আখ্যান বিম্বিত হয় তাঁর দ্যুতিময় কবিতায়… ‘‘মাথা গরম হয়ে গেল আরুনির। / ইড়কা বাছুরের পারহা / একগাড়ি বিলাতির চড়হে / খেপা ষাঁড়ের মত লাইচতে লাইচতে বল্য…/ দু নয়া … যা শালহা … নাই বিকব / … ফকটেই লিয়ে যা বকাচদা তর বিজনিশের মুহে মুতি। / হাট ভরতি মায়া মরদ উয়াকেই দেখে, মুহে কাপড় দেয় / বিলাতি কুড়ায়। / ছেলাপুল্যারা হাততালি দেয় আর গেদলা বিলাতি তুলে / উয়াকেই ছুড়ে ছুড়ে মারছে।’’

 গ্রামজ এক স্বাভাবিক ঘটনা তাঁর নিপুণ কলমে অসামান্য দীপ্তি পায়। আর বিলাতি ছোঁড়ার দৃশ্যটি অমরত্বের মহিমা অর্জন করে নেয় অনায়াসে।

গ্রাম্য জীবনের উপর একাগ্র ও নিবিড় হয়ে ওঠে সুকুমারের চোখ যখন ভোজনরসিক ঘাঘু ঠাকুরের কথা লেখেন তিনি। পরিচিত চিত্র ও চরিত্র কি অসামান্য মহিমায় উঠে আসে গ্রামবাংলার আকাঁড়া শব্দের নির্যাসে… ‘‘ঘাঘু ঠাকুরের মুখ চইলতেই থাকে / কনহ থকান নাই শুধু লাজাই গেলহে / মাঝে মাঝে মিটমিটাই হাসে আর / বকা খাওয়াসের ছুটু ছেলা পেন্টুল সামলাতে সামলাতে গুনহে / একশহ তিন … একশহ চার …’’

প্রসঙ্গত জানাই, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কেতকী পত্রিকা সুবর্ণজয়ন্তী সম্মান জানিয়েছিলেন সুকুমার চৌধুরীকে।

নিজের মাটি, শেকড়কে কেউ ভুলতে পারে? পারে হয়ত। কিন্তু সুকুমার ভোলেননি তাঁর পূর্বজীবনের কথা। গ্রামজীবনের অনুষঙ্গ, পরিবারের আন্তরিকতা বুকে পুষে রেখেছিলেন সারাজীবন। মা ও বাবা শিরোনামের দুটি কবিতা পড়াই তাঁর।

মা

ওই আমার উপবাসক্লিষ্ট মা মলিন বসন

তুলসীতলার নীচে নতজানু সন্তর্পণে প্রদীপ জ্বালান
                               কল্যাণ কামনা করেন আমাদের
আমি তাঁর অপদার্থ মুর্খ সন্তান
কিছুই দিই নি তাঁকে সুখ, শান্তি, তুচ্ছ উপহার
শুধুই কবিতা লিখে নষ্টামি করি
কবিতা কি তাঁর পায়ে নৈবিদ্যির ফুল হোয়ে
                                            ঝরে পড়ে

বাবা

সময় কী ভাবে সময় কে আক্রমণ করে
বাবা আমাদের বোঝাতে চাইতেন
আমাদের পেটে তখন রাক্ষুসে খিদে
আমরা বুঝতেই চাইতাম না
বাবার ওইসব তত্বকথা
শুধু লঙ্গরখানার শক্ত রুটি চিবুতে চিবুতে
হাঁ কোরে চেয়ে থাকতাম বাবার দিকে

আর বাবা গম্ভীর ভাবে বলে যেতেন
নেহেরুর সাথে তাঁর ডিনার খাওয়ার গল্প

কতই বা বয়স হয়েছিল তাঁর? এই কি তাঁর চলে যাওয়ার সময়! চলে যাব, চলে যাব, বিদায় নেব—এই মন্ত্র জপে গেছেন সারাজীবন। কেন যে এত তাড়া ছিল তাঁর? মৃত্যুচেতনা স্পষ্ট হয়ে ফুল ফুটিয়ে রেখেছিল তাঁর বহু কবিতায়।

শাদা পৃষ্ঠা

শাদা পৃষ্ঠার সামনে স্তব্ধ বসে থাকি।

মনে হয় শ্মশানভুমির দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া

শাদা শাদা কাপড়ে মোড়া নিঃসঙ্গ শবগুলি যেন ।

স্পর্শ পারি না । শুধু যথেষ্ট দুরত্ব থেকে

শ্মশানসঙ্গির মতো কিছুদুর ।

শুকনো দুপুর । ছুঁড়তে পারিনা ফুল । নিজের কালিমা ।

ফুলের দোকান বন্ধ । তল্লাট জুড়ে একশো চুয়াল্লিশ ।

পুলিশের তাড়া ।

শুধু শাদা পৃষ্ঠার সামনে স্তব্ধ বসে থাকি।

শূন্য । অনাচড়

ক্রীড়নক

ডেকো না । কেঁদে উঠলেও এখন

আমার বেরোনোর কোন উপায় নেই।

শ্মশানভুমিতে যাবো কি ভাবে?

অসহায় আমি। গৃহবন্দী ।

এক নির্বাসিত জীব।

একা একা বাঁচার মন্ত্রে দীক্ষিত এখন।

বড় জোর নিরাপদ দুরত্ব থেকে

ঘন্টা বাজাই। সমুদ্যত করতালি শুনি।

বিস্তৃত আঁধারে মোমবাতি জ্বালাই।

আমাকে ডেকো না তুমি এই অবেলায়

কার ডাক শুনে ফেলেছিলেন তিনি আমি জানি না। শুধু মনে পড়ে, তাঁর সঙ্গে হওয়া প্রতি বছরের একই রকম কথাবার্তাগুলি। চন্দননগরে তাঁদের বাড়ি, আমার বাসস্থানের ওপর দিয়েই যেতে আসতে হত তাঁকে। তাই প্রতি বছর এখানে আসার আগে তিনি বলতেন, ‘ঠিক নেমে পড়ব ট্রেন থেকে। নয়ত তুমি চলে এসো একদিন’। আমি হাসতাম, উত্তরে সেই একই কথা বলতাম, ‘প্রতি বছরই তো একই প্ল্যান হয়, তবু সূর্যমোদকের মিষ্টি খেতে খেতে আমাদের কবিতা পড়া আর হয় না’। নাহ! মানুষ বড় নাচার। কত প্ল্যান, পরিকল্পনা কার্যকরী হল না তার, সারা জীবন কেটে গেল, জীবনের ওপারেও চলে গেল কেউ। তবু কিছু লঘু কথা, কিছু নিবিড় পাঠ, আর কবিতা থেকে গেল সঞ্চয়ে। যে সঞ্চয়ের ডিবিডেন্ট নেই, শুধু রেস্টোর আছে।   

1 Comment

  • শুভাশিস ঘোষ

    Reply May 21, 2022 |

    ভালো লাগল

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...