দূর্বাদল মজুমদারের কবিতা

ঘোরালো কবিতা-১৫

আমার ছবির পিছনে আজো একটা বইয়ের শেল্ফ হলনা।

মাথার উপর টিনের চাল,
মাটির দেওয়ালে ছ্যাটকাব্যাটকা জলদাগ,
আছে।

আমার টাইলসের মেঝে খুব পছন্দের!

গোবরলেপা এই ঘরে অসন্তুষ্ট বৌ,
আছে।

আমার ছেলে রাজার মতো বাঁচে। ঘরে কম খায়। জল খায় উটের মতো, বিজলেরির
তারও পাকা ঘর চাই। পাকা মেঝে।

আমার বৌ গলায় পাঁচভরি,
কাঁখে দেড়-হাজারি শাড়ি, ঝোলাতে পায়নি।

আমার মা, এমুপাখির মতো ওঁচা গলা তুলে বলেন, পারবি না?
আমার দাদুরা না কি চুটকি মেরে এসব পারতেন।

আমার নাতিও একদিন পারবে, মা।
তুমি দেখে নিও!

ঘোরালো কবিতা-১৬

কতদিন শাক দিয়ে মাছ ঢাকিনি।

প্রতিবেশীরা আমার শত্রু,
আমি কী দিয়ে ভাত মাখি, তারা জানে।

একদিন দম্পতির কলহকে মাসে পঁচিশদিন বলে।

আমিও রঙ চড়াই। ওদের শ্বশুরবাড়ি নিয়ে।

ওরা একটা ব্রাশে দুজনেই দাঁত মাজে।
আমি জানি।

আমরা দুই প্রতিবেশী একসাথে জানি,
আমাদের উপায় নেই কোনও।

ঘোরালো কবিতা-১৭

আর কারো কবিতা পড়ার কোনও দরকারই নেই।
জীবনের ছোট ছোট চানাভাজা আছে।
কোন শিখর নেই, শিকড়চলন ছুঁয়ে আছি।

সান্ত্বনা, শ্রেয়স শব্দমালা, আজানধ্বনির সেতুছেঁড়া বাক্ ও বাদ্য
এই নতশির-শাল্মলী ছেনে যাপন জেনেছি।

কখনো হয়ত হু-হু করে উঠব,
নিভে যাবো,
যা চাইনি সে-সবই হবে।

‘হওয়ানো’ ‘ঘটানো’র দরকার নেই।
ছুঁয়ে থাকো তুমি। ভালোবাসা ধরে ছুঁয়ে থাকো।

এমনি সহজ, যেমন বাতাস বইতে থাকে।

2 Comments

  • ঝর্না বিশ্বাস

    Reply March 16, 2021 |

    দারুন লেখা প্রত্যেকটা।

  • Arundhati sahagupta

    Reply March 22, 2021 |

    সব কটি খুব ভালো লেগেছে ।একটুও হোঁচট খেতে হয় নি।সাবলীল।স্বচ্ছন্দ।

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...