খিদে ও মরণ সম্পর্কে
মানস চক্রবর্তী

১)

ছিলো আমাদের রাতের বিলাস
কাঁথা-কম্বোলের গরম ছিল
রক্তমাংসের বাপ মা চোদ্দপুরুষ
তারো আগে যদি বলো
আমাদের সিন্দুক ছিলো আর ছিলো
প্রাচীন পোশাক দু একটা পুঁথি জং ধরা সেকেলে তলোয়ার
আমাদের কেউ কখনো বিলেত গেলে সেসব গরিমা দু একদিন লোফালুফির পর
একদিন হাত থেকে পড়ে ভেঙে যেত অথবা
ভেতরের ঘরে কুলুঙ্গিতে রাখা থাকতো জারানো লেবুর বোয়েমের পাশে
হপ্তান্তে হাট ফেরত আমাদের দাদু
আলতা ক্লীপ লাল-কালো রিবন আনতো
পালং মূলো কিনে গ্যাঁটে পয়সা থাকলে
এখন আমি ফর্দ নিয়ে বাজারে যাই
ওরা যা যা কিনতে বলে সেসব লিখে দেয় বৌ
গ্যাঁটে কড়ি না থাকলে ফিনান্সের ছেলেটি ক্রেডিক কার্ড গছিয়ে হেসে ওঠে আকর্ণ
ওরা আমাকে দেনদার করে
আমি সপরিবারে বন্ধক হয়ে যাই
আমার সন্তান আমার কাছে থাকে না
সে থাকবে না আমাদের কাছে এটা নিয়তি নির্ধারিত বলা হয়
আমার কানের কাছে ফিসফিস করে অবিরল
একদিন একটা রুপালী পাখী তাকে উড়িয়ে নিয়ে
অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় খাঁচায় ছেকল পরাবে
আমরা বদলে যাচ্ছি
একটা একটা রাত্রি আমাদের একটু একটু করে বদলে
আধুনিক করছে
আমরা জিডিপি দেখি ঝুঁকে কাগজের পাতায়
কেষ্টো – জনা – হাসি মুর্মু – সুফল নস্কর জিডিপি বোঝেনা
দালাল বোঝে, তাদের কাঁকড়া তাদের বাগদার
মীন শালের মধু উঠোনের ফসল ভুস করে চলে যায়
লেভেলের জামা গায়ে আন্তর্জাতিক হয় কীকরে সে সব তা অব্দি বোঝে না
শুধু জানে খিদে পেলে ঢকঢক করে জল খেতে হয়

২॥

কেবল মনে হচ্ছে
রাত ওঁৎ পেতে আছে
একটু সুযোগ পেলেই
লাফ দিয়ে ঢুকে পড়বে
যতবার দরজা খুলবো ভাবি
কেমন শীত করে ওঠে
শিরশির করে
শীত আর অন্ধকার
কেবল বলে কী দরকার
এত বাইরে যাবার
জবুথবু বসে থাকি
মিছিল যাচ্ছে শুনতে পাই
বলছে শিক্ষান্তে কাজ চাই
বলুক গে এই চাই ওই চাই
আমি কানে আঙুল দিই
আমি মুখ চেপে ক্ষিধে গিলি
কাঁসর ঘন্টা আজান শুনি একমনে
একমনে ঢং ঢং শুনি পাড়ার গীর্জায়
কেমন ভালো থাকতে ইচ্ছে করে
ধরি মাছ না ছুঁই পানি
সব জানি আমি সব জানি

কেমন শীত করে
কেমন অন্ধকার করে
কেমন কী কী করে
মরে যাওয়া করে
রোজ
সকালে একবার
একবার দুকুরে একবার রাতে
মরে যাই

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...