কবি সুকুমার চৌধুরী স্মরণে কিছু কথা…
মেঘলা


নাগপুর। আমার প্রিয় শহরের মধ্যে একটি।এই শহরটি যাঁর জন্য এত প্রিয় তিনি প্রয়াত কবি সুকুমার চৌধুরী। পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে তখন নাগপুরে আসতে হয়েছিল তখন এক অদ্ভুত কষ্ট টের পাচ্ছিলাম ভেতরে ভেতরে, বাংলা ছাড়ার কষ্ট।এই সময় কবি ব্রজকুমার সরকারের মারফত সুকুমার চৌধুরীর সাথে আলাপ। কথা বলে জানলাম “খনন” লিটিল ম্যাগাজিন উনি নাগপুর থেকে প্রকাশ করে চলেছেন দীর্ঘ বছর যাবৎ।”খনন”—-আমারাঠাবঙ্গের কাগজ। এমনটাই বলছেন তিনি।পত্রিকার পাশাপাশি প্রকাশিত হতে খননের বুলেটিন।    প্রতি শুক্রবার খননের সাথে যুক্ত বাঙালিদের আড্ডা হতো ধরমপেঠ কবি হাউসে। এছাড়া দুর্গা পুজোতে খননের স্টল দিতেন সুকুমার দা। সকলে থাকত বিভিন্ন সংখ্যার খনন, সুকুমার দা’র বই সহ আরো কিছু বই আর সেই সঙ্গে নির্ভেজাল আড্ডা।     ২৫শে বৈশাখ ভোরবেলায় হত রবি বন্দনা।এক প্রকার উনি একাই সমস্তটা আয়োজন করতেন। বহিরবঙ্গে নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ এবং তার সাথে সাথে এত সকল কর্মকান্ড দীর্ঘ সময় ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খুব সহজ নয়। সবটাই সুকুমার চৌধুরীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল।   সুকুমার চৌধুরীর ছোটবেলা কেটেছে পুরুলিয়াতে। তারপর কর্মসূত্রে নাগপুরে আসেন। ওনার কিছু কাব্যগ্রন্থ আমাকে উপহার দিয়েছিলেন—–“লাল লীল হইলদ্যা চারিদিকে ঝাইলদ্যা”,”আমার সনেট”,”পাউচ সভ্যতা”,”আমার লাগে না” এগুলো তাদের মধ্যে অন্যতম। কবির কাব্যগ্রন্থ “ছন্নমতীর কুহু” ইংরেজিতে অনুবাদ করেন “Bohemian Songs” নামে ড: সুদীপ্তা ব্যানার্জী।    বড় অসময়ে চলে গেলেন,মানতে পারা কঠিন কিন্তু নিয়তির কাছে আমাদের হার মানতেই হয়।তবে সাধারণ মানুষের থেকে যাঁরা উঁচুতে তাঁদের কেবল দৈহিক মৃত্যুই হয়,আসলে তাঁরা অমর হয়ে থাকেন মানুষের মুখে মুখে।কবি সুকুমার চৌধুরী তাঁদেরই একজন হয়ে বেঁচে থাকবেন বাংলা সাহিত্যে।

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...