কবিতার শরীরে লেখা জীবনের অলিখিত প্রেম
শুভদীপ নায়ক

শীতের ফেব্রুয়ারি মানেই প্রেম । বাঙালি যখন ইংরেজদের শাসনে ছিল, তখনও ফেব্রুয়ারিতেই ফুটিয়েছিল ভালবাসার গোলাপ, লিখেছিল প্রেমের চিঠি । হাঁটা পথ, অলিগলির মধ্যে দিয়ে গিয়ে একটা অপেক্ষারত জানলায় পড়ত প্রেমিকের হাতের টোকা । অত্যন্ত দুপুরবেলায় সেই জানলার কপাট খুলে বেরিয়ে আসত একটা সরু হাত, চুড়ির আওয়াজ হত । সংশয়ে কপালের চুলটা ঠেলে দিয়েই জিজ্ঞেস করত, ‘আজ তো কার্ফু জারি হয়েছে, তুমি আজই কেন এলে ?’ এই বলে চিঠিটা হাতে নিয়ে ব্লাউজের ফাঁকে ঢুকিয়ে নিত মিলের শাড়ি পরা এক যুবতী । চতুর্দিক দেখে নিয়ে বলত, ‘সাবধানে যাও, আমি পরে দেখা করব ।’ বাঙালির লেখালিখি, প্রেম, সাহিত্য, এই মিলের শাড়ি পরা প্রেমিকারা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলেছে । ছাদের ওপর প্রেমপত্র পড়া প্রেমিকা হয়তো হাতে গোনা কয়েকজন রয়ে গিয়েছে এখনকার বাঙালি-সমাজে । কিন্তু অতীতে বাঙালির শীতের দুপুর একসময় ভরে উঠত লেখালিখি ও কবিতা পাঠের জগত নিয়ে । নির্জন ছাদ, যেখান থেকে দেখা যেত বাড়ির পিছনে পুকুরের পানাঘেরা একবৃত্ত ঠাণ্ডা জল, দেখা যেত পলেস্তার খসা অদূরের পাঁচিল, ধোঁয়া ওঠা উনুন, শোনা যেত হিজলের ডাক, দেখা যেত চড়ুইদের সারি, সেখানে আজ উঠে গেছে বহুতল । মিলের শাড়ি ত্যাগ করে খোলাচুলের প্রেমিকারা এখন জিন্স আর টি-শার্ট পরে ব্যালকনিতে দাঁড়ায়, হাতে বই নেই, পরিবর্তে স্মার্টফোন । কিন্তু যুগের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে না পারা কিছু মানুষ, যারা এখনও মনের ভিতর থেকে ফেলে দিতে পারে না তাঁদের বেঁচে থাকার সবুজ অতীত, সম্ভবত তাঁদেরই কেউ লিখেছেন এই বই । জীবনের এই আলোবাতাসের বয়ে চলাকে কী নাম দেব আমি ? মায়া ? মানুষের প্রাণের মধ্যে মানুষের বেঁচে থাকাকে কী নামে চিহ্নিত করব আমি ? বৃত্ত ? এই দুটি ভাবনা যদি পাই একটি কভারের মধ্যে, তা হলে তাকে আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি ‘মায়াবৃত্ত’, যে বই লিখেছেন মিলের শাড়ি পরা অতীতের সেই তীব্র প্রেমিকাটি । কেমন তাঁর ভালবাসার ভাবনা ! কেমন তাঁর আর্তি ! কেমন তাঁর সংশয়, একটু পড়ে নেওয়া যাক আবার ।

‘বিছানার চাদরে মুছে নিয়েছ লজ্জার শেষবিন্দু

ডেইলি প্যাসেঞ্জার ট্রেনে হকাররা কুড়ি টাকায় ‘লজ্জা’ বেচে ।

তবু নগ্ন শরীর আবরণ চায়, চায় আভরণ,

শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষায়, আনন্দে, ক্রোধে, হতাশায়, সুখে ও দুঃখে ।

নাভি মূলে কুন্ডলী পাকায় কাম, মোহ, লোভ, লালসা ।

ওই ওখানেই লেখা আছে সোমত্ত মেয়ের কেচ্ছা কাহিনি ।’

এটি একটি সিরিজের কবিতার প্রথম কবিতা । বইয়েও প্রথম কবিতা এটিই । কবিতার সিরিজটার নাম ‘মেয়েলি কলম’ । এই কবিতাটির মধ্যে দিয়ে ‘মায়াবৃত্ত’ বইটি নিজের গভীরতা তুলে ধরেছে । এমন একটি কবিতার বই আমি সবসময় রেখে দিই নিজের কাছে, যা চিরকাল থেকে যাবে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিতরে । মনে হবে সেই মেয়ে, যার সঙ্গে আমার আলো-অন্ধকারের মেলামেশা, যার সঙ্গে সমস্ত চিঠি বিনিময়, যার সঙ্গে আমার কবিতা নিয়ে আলোচনা, উপন্যাসের চরিত্রগুলো নিয়ে কথা বলা, যেন এ বই সেই-ই লিখেছে । এবং লিখেছে আমাকে না জানিয়ে, কথার মধ্যে তার আর্তিটুকু আমায় বলতে না পেরে তা সাজিয়ে গিয়েছে একের পর এক কবিতাতে, এবং চেয়েছে আমি যেন আড়ালে কিনে এ বই পড়ি, এবং জীবনের মধ্যে কোথাও তাঁকে ভুলে না যাই, যে কোনও ঘটনাতেই, যে কোনও পরিস্থিতিতেই । এ বই পড়ে মনে হয়েছে, সে যেন চায় আমি তাঁকে বুঝি, আমি যেন তাঁর সেই স্বর শুনতে পাই অত্যন্ত গোপনে, অথচ তাঁকে কিছুই বলতে না হয় নিজের মুখে । মিলের শাড়ি পরা সেই অতীতের প্রেমিকারা কেমন ছিল, একথা প্রথম কবিতাটি পড়লেই জানা যায় । ‘বিছানা’, মেয়েদের পক্ষে একটা সংশয়ের জায়গা, বিশেষ করে যে মেয়ে কোনও পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে আছে । সেই সম্পর্ক যাতে মেয়েটির মন সায় দিয়েছে, সেই সম্পর্ক যা আসলে অনিশ্চিত কিন্তু তাঁর আত্মা নিরুপায় যার কাছে, এমন একটি উপায়হীন সম্পর্কে একটি মেয়ের প্রাণে নেমে আসে তীব্র ভয়, অন্তত ‘বিছানা’ প্রসঙ্গে । তবু, আড়াল ও অন্ধকারের বিশ্বাস তাঁকে নিয়ে যায় বিসর্জনের পথে । সে সর্বস্ব দেয় তাঁর প্রেমিক পুরুষটিকে, যা তাঁর কাছে লজ্জার ও একইসঙ্গে তীব্র আবেদনের । কী সেই ‘লজ্জা’ ? যা বিক্রি হয় ডেইলি প্যাসেঞ্জার ট্রেনে, যা ঢেকে রাখে স্তনের শোভা । যা দারুণ শীতে, তীব্র গরমে, ক্লান্তিহীন বর্ষায় একটি মেয়ের বুকের ওপর চাপিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, কালক্রমে মেয়েরাও তাকে মানিয়ে নিয়েছে ‘বুকের লজ্জা’ হিসাবে, দেহের গোপনীয়তার পরিচয়ে । সেই সম্ভ্রমের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতেই মেয়েটি খোঁজে একটি পুরুষের মানসিক সমর্থন, খোঁজে আদরের অভাবপূরণের তাগিদ । তা যদি প্রেম হয়, তা যদি নাভি মূলে পাকিয়ে ওঠা কাম হয়, তবে পরিণত যুবতীও খুলে ফ্যালে তাঁর সেই লজ্জার শেষবস্ত্র, তাঁর ব্রা, প্রেমিক পুরুষটিকে ভালবেসেই ।

‘মেয়েলি কলম’ কবিতার সিরিজটিতে মোট ১৭টি কবিতা আছে । প্রতিটি কবিতাই ঋদ্ধ, বিদগ্ধ, জ্যোৎস্নায় আলোড়িত । প্রেমের কথা, শরীর মনের নিগূঢ় আমন্ত্রণের কথা, নিবেদনের কথা প্রতিটি কবিতার পরতে পরতে । ৬নং কবিতাটিতে প্রেম নিয়ে চিঠি লেখার একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে । যে কবিতা আমাকে শিখিয়েছে কাউকে ভালবাসাতে হলে দেহমনের আগল ছিঁড়ে ফেলতে হয়, ঠিক এইভাবে —

‘সাদা পাতায় কালো অক্ষর সাজিয়ে চিঠি লিখিনি

যাহ, মনের কথা কাগজে লেখা যায় নাকি, লজ্জা করে না ?

শুধু অলস চোখে নিরিবিলিতে দেখে গেছি

প্রেমের উন্মত্ততা, প্রেমে -অপ্রেমে শারীরিক বিলাস ।

অবসন্ন বিকালের মুগ্ধ-করা নীরব সুখ খালি বলে গেল,

ও হতভাগি, দেহের আগল ছিঁড়ে মন যে বিবাগি হয়ে গেল,

কাই রে তোর চিঠি পাঠালি না তো তাকে !’

এমন কবিতা বাঙালি পাঠকের মনে সুখের স্মৃতি ছড়িয়ে দেয় । আবার একইসঙ্গে হৃদয়ে বয়ে আনে অভাব ও অতৃপ্তির নেশা । কৈশোর ও যৌবনে নারীর কাছ থেকে প্রেমপত্রে বিস্তর পেলেও আমি কখনও আমার ব্যক্তিগত জীবনে চিঠি লেখার প্রেমিকা পাইনি । এমন কোনও মানুষ যার সঙ্গে প্রতিটি অনুষঙ্গ লেখা থাকবে চিঠির কথোপকথনে । লেখা থাকবে ‘প্রেমের উন্মত্ততা, প্রেমে-অপ্রেমে শারীরীক বিলাস’, একথা জানা সত্ত্বেও মনের কথা কাগজের ওপর লিখে ফেলাটাই ‘লজ্জা’ । সেই লজ্জা দেহ আর মনে কীভাবে দাগ ধরাবে, কবি তার উল্লেখ করেছে ১২ নং কবিতাটিতে ।

‘দেহে আর মনে দাগ ধরিয়েছো অগুনতি, যত্রতত্র,

ভালোবেসে, সর্বনাশে, সমাপনে, সমাপ্তিতে,

কি হবে মুছে ? কলঙ্ক তো নয়,

ও যে আমার ভালবাসার অহংকার,

আপন গরবে সমুজ্জ্বল, দেদীপ্যমান,

দেখো না, কত কলঙ্ক দাগ নিয়ে চাঁদ দিব্যি আলো ছড়াচ্ছে

আজ কাল পরশু, যুগ যুগ ধরে…

একইভাবে…’

এই কবিতায় স্পষ্ট হয়েছে প্রেমের চিহ্ন । ভালবাসার আগুন গায়ে মাখলে একজন মেয়ে ভুলে যায় কীসে তার লজ্জা, কিংবা কতদূর তার গণ্ডি । বস্তুত একজন নারীর জীবনে এই গণ্ডি, এই সীমারেখা টেনে দিয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ । সেই গণ্ডিকে পেরলেই, সেই নিষেধকে উপেক্ষা করলেই সমাজের চোখরাঙানি শুনতে হয় । যে নারী প্রেমের জন্য ভেঙে ফেলে নিজের চারপাশের সীমাবদ্ধতাকে, তাকে আজীবন চারিত্রিক ঘৃণার মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকতে হয় । কী দুঃসহ সেই যন্ত্রণা, কী অদ্ভুত তার সমাপ্তি । লজ্জাকে ছাড়িয়ে যখন প্রেমের জমি বাড়তে থাকে একটি মেয়ের দেহ-মনে, সে তখন কলঙ্ক গায়ে মেখেও লড়ে যায় সামাজিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে । কিন্তু যে মেয়ের কাছে লজ্জার মূল্য অপরিসীম, তবু কোনওমতে সে পা দিয়েছিল জীবনের বাইরে, ভালবাসার টানে, সে মেয়ে তখন বেছে নেয় মৃত্যু, ‘সর্বনাশে, সমাপনে, সমাপ্তিতে’।

সমগ্র লেখাটির আলোচনায় আমি গোপন করে চলেছি কবির নাম । এই গোপনীয়তা আমি আরেকটু পরে প্রকাশ্যে আনব । কারণ, গোপনীয়তা ও প্রকাশিতব্য ভাবনার মাঝখানে একটি দারুণ কবিতা দাঁড়িয়ে । বইয়ের পঁচিশ পৃষ্ঠার ১৬ নং কবিতাটিকে আমি কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারিনি ।

‘আমি খুব ঘনঘন প্রেমে পড়ি ।

কৈশোরে চেয়েছিলাম, ‘আমি হব তোমার জীবনের একমাত্র নারী ।’

এ শর্ত আদৌ গ্রাহ্য হল না ।

প্রেম খারিজ ।

তরুণী আমি বলেছিলাম, ‘আমি হব তোমার জীবনের প্রথম নারী ।’

মিথ্যার সাথে সহবাসে রাজি হইনি ।

প্রেম অসফল ।

যৌবনে আমি চেয়েছিলাম, ‘আমি হব তোমার জীবনের সর্বশেষ নারী ।’

পরিপাটি সহাবস্থানের ফাঁক দিয়েও ভুলের বিষাক্ত সংক্রামণ,

এড়ানো গেল না । প্রেম ব্যর্থ ।

কবি বললেন, শর্ত মেনে প্রেম হয় না । প্রেম নিঃশর্তেই ছড়িয়ে যায় ।

বাদলা হাওয়ার স্পর্শের মতো,

সুখের গভীরে লুকিয়ে থাকা অসুখের মতো ।

অনেকটা পরাজয় মেনে আজ মধ্যবর্তিনী নিঃশর্ত প্রেমিকার ভূমিকায়

কারো জীবনের একমাত্র, প্রথম বা শেষ নারী নই,

আজ আমিও একটার পর একটা মুখোশ পালটাই,

আর একটা…আরও একটা !’

গোপনীয়তার সব স্বর ভেঙে ফেলা ভাল, নইলে মেয়েপুরুষে এক দেওয়ালের আড়ালে আসতে ভয় পাবে । এক বিছানায় শুতে অাড়ষ্টতা অনুভব করবে । এক সিঁড়িতে ওঠা নামার মাঝে ওদের আর দেখা হবে না । পুরুষ ভালবাসা হারিয়ে রাজনৈতিক পথ বেছে নেবে । মেয়েরা পুরুষের কাছ থেকে তুলে নেবে ওদের যাবতীয় বিশ্বাস । ফুলের বাগানে কারুর আর আস্থা থাকবে না । এককথায়, মানুষের জীবনে রোদ আসার মতো আর জানলা থাকবে না । কবি মৌ দাশগুপ্তা তাঁর সম্পূর্ণ বইটিতে লিখে গিয়েছেন শরীর মনের বিমুগ্ধ তাড়না ও ভালবাসার স্রোত । ‘মেয়েলি কলম’, ‘বয়স’, ‘প্রচ্ছদ’, ‘বার্তা’, ‘রাই’, ‘পাগল’,’পাগলি’, এই সবই তাঁর সিরিজের কবিতা, নিগূঢ় রচনা । তিনি ‘বার্তা’ সিরিজের ২নং কবিতায় কবি রচনা করেছেন অদ্ভুত ছবি :

‘দেয়াসিনী আমি, স্বেচ্ছা দেবদাসী,

মন্দির-দ্বার থেকে সর্পিল সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেছি

আদিম গুহাকন্দরে,

এখানে চাঁদ নেই, সূর্য নেই, নেই মাদলসা নক্ষত্রের সারি

আছে কেবল জোনাক নেভা রাতে,

শুধু হেঁটে চলা পিচ্ছিল রটনার সাথে,

না চিনেই আন্দাজে খুঁজে চলা মানচিত্রবিহীন পথ ।’

এই বই আমার একাকীত্বকে দিয়েছে চিঠির ভাষা । আমি নারীকে উপলব্ধি করেছি নির্জনে, আড়ালে, অবগুণ্ঠনে । আমার নৈঃশব্দের কথোপকথনে আমি তাঁকে নিয়ে লিখেছি, তাঁকে পড়েছি, যদি ভালবাসার সংজ্ঞা তাই-ই হয়, তবে আমি ভালওবেসেছি তাঁকে । কিন্তু তাঁকে আমি আনিনি আমার ঘরপোড়া জীবনের মধ্যিখানে, এবং আনিনি আমার অনিশ্চয়তা ও তাঁর নিরাপত্তার কথা ভেবেই । আমাদের দু’জনের কাহিনি বহুবার পথ হারিয়েছে, পরস্পরকে ভুল বুঝেছে, পরস্পরের থেকে দূরেও থেকেছে, কিন্তু আমরা পারিনি কাব্যের এমন সুস্বাদু তাড়নার রসের থেকে নিজেদের বঞ্চিত করতে । তাই তো অনেকে মেয়ের চোখে আমি ‘খারাপ পুরুষ’ হয়েছি, সে হয়েছে অনেক পুরুষের চোখে ‘চরিত্রহীনা’, তবু এ জীবনে কবিতার মধ্যে দিয়ে আমাদের ভালবাসায় কখনও ছেদ পড়েনি । যেমন ‘রাই’ সিরিজটির প্রথম কবিতার শেষ দু-লাইনে কবি লিখলেন , ‘ধরিত্রীকন্যা আমি জন্মাবোই,/ ফিরে আসবই শরীরময় রাধা-রাধা গন্ধ নিয়ে ।’

এই বইয়ের শেষে রয়েছে ‘পাগল’ আর ‘পাগলি’ নামে দুটো বাঁধভাঙা প্রেমের সিরিজ । যা আপনাকে একা থাকার দিনে কষ্ট দেবেই, এবং জীবনের সমস্ত সবুজ অঞ্চলে এই কবিতার বইটি আপনাকে অনুভব করাবে আপনার জীবনের হারিয়ে যাওয়া ও না-পাওয়া মানুষদের কথা । কেননা, মানুষের জীবনের সব সমীকরণ তো আসলে মানুষকে নিয়েই । আমরা বইপত্রের মধ্যে দিয়ে আসলে খুঁজে বেড়াই মানুষকেই । তবু, নিয়তির খেলা এই যে আমরা তাঁকে ধরে রাখতে পারি না । কবি মৌ দাশগুপ্তা তাঁর বইয়ের প্রচ্ছদের পিছনে ব্যাককভারে লিখেছেন:

‘মা হওয়ার যন্ত্রণা তো দেহের,

মেয়ে হওয়ার দহন সর্বাঙ্গের…’

(উৎসাহী পাঠকের জন্য বইয়ের নাম: মায়াবৃত্ত

কবি: মৌ দাশগুপ্তা, প্রকাশন: সুতরাং

প্রকাশক: সঞ্জয় ঋষি, প্রচ্ছদ: তুসুঋ

প্রথম প্রকাশ: ২০১৬

বইটি প্রাপ্তির জন্য যোগাযোগ: ৯৫৬৪৩২১৩১১)

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...