অসুখ
শুভশ্রী সাহা

কথাটা শোনার পর থেকেই মন তেতো হয়ে গেছে।  রথের মেলায়, বিষ্টিতে  কাদা জলে ছিষ্টি হয়ে আছে খদ্দের পত্তির যতেষ্ট কম তায় ছেলেটার আবার জ্বরের খবর এলো। 
—  মনে হচ্চে আজ জিলিপি জমছে না! দেঁতো হাসি হাসল পাশের নন্দ তেলেভাজা। 
— কি গো মিতে! বউএর কথা মনে পড়ছে !
চোখে একটা অশ্লীল ইঙ্গিত করলো নন্দর বউ সাবি।
মুখ ঘুরিয়ে নিলো সুবল।  জিলিপির সাথে নন্দদের তেলেভাজার টক্কর আছে। আর এই বউটার গায়েপড়া বাজারি  অশৈরণ ভাব  তার অসহ্য লাগে। 

—  কাকা, এই মেলা শেষে হলি প্পর চলো বাড়ি যাই  এট্টু!
— সেকি রে! কাটুয়ার মেলা, বাঁশুলির মেলায় যাবিনি!  মহাজনির ট্যাক্স  দিতি না পাল্লে–
— আরে বাউলির মেলায় যাবোনে এক্কেরে! ভাইরে তো ডাক্তার দেকাও!

বারাসাত থেকে সেই হিঙ্গলগঞ্জ, সেখান থেকে কাটোয়া ফের বীরভুম। হরে দরে তিনমাস। নইলে  পয়সার সুসার কি করে হবে! বাড়ীটার চাল ছাইতে হবেই৷   মহাজনের কর্জ আছে তারপর  সোমবচ্চরের খচ্চা!     মহাজনেরে দিবার পর যা টাকা থাকবে ছেলের চিকিচ্ছে তেই  যাবে। নাহ! অসম্ভব ফেরা একুন।

রাত পোয়াতেই নিত্তন জ্যাটা  হাজির। বউ পাঠিয়েছে। ছেলের  বসিরহাট হাসপাতালে নিতে হবে।

— বাবারে  তুই সুজা হাসপাতালে চলি আয়। আমি মনা আর বউমারে নে আসতিচি!
— সুবলের গলা ধরে এলো! ছেলে তার প্রাণ! কিন্তু  টাকা কই!  উনুন না ধরিয়ে থম হয়ে বসে থাকল। এই সব জিনিষ বেঁধে ছেঁদে হিঙ্গল গঞ্জ যাওয়া ফের , বাঁশুলির মেলায় — এখান থেকে একসাথে  সবার যাওয়ার কথাই ছিল।

বেশ রাতে আবার বৃষ্টি নামল। ইস্কুল বাড়ীর উঠোনে তাদের শোয়ার জায়গা।  ঠান্ডা  বৃষ্টির জলে  উঠোন ভর্তি হচ্ছে।  সে  টের পেল তক্তপোষের পাশেই উষ্ণ নিঃশ্বাসের–
মাথায় আগুন জ্বলে উঠল।  বালিশের নিচেই তো আচে  হেঁসোটা!

— কাল নিশ্চিন্দে ঝাও তুমি মিতে। তুমার মালপত্তর আমি নে যাবো আমাদের সাতে– খোকারে ডাক্তারি দেকাও! আইজ বারো বচুর কত্ত কি করিচি তা ভগমান ঝানে! তেবু কোল টুক খালিই  থেকে গেলো। এই টাকা কটায়  পারলে— শেষ হতে পারলা না কথা–

সুবল টের পেল তার পিঠে  ঠান্ডা ছাঁট ছাপিয়ে টপ টপ করে গরম জল পড়ছে।

Write a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

loading...